মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আওয়ামীলীগ মনোনীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে আলী আকবরের ফুলেল শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা

সৌরভ মাহমুদ হারুন : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:৩৯ পিএম
আওয়ামীলীগ মনোনীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে আলী আকবরের ফুলেল শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আসন্ন কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অনেকেই। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থনে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলী আকবর আলোচনার শীর্ষে। ছাত্রলগের রাজনীতি থেকে শুরু করে ৩৫ বছর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ও তারুণ্যদ্বীপ্ত নেতাদের একজন সফল ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলী আকবর দলীয় ভাবে মনোনীত হবেন বলে আশাবাদী ছিলেন সমর্থনকারী নেতাকর্মীগণ।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হতে পারেন এমন ধারনা ও গুঞ্জন কে মিটিয়ে দিয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নেত্রী ও দলের সীদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু’র বাসায় ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা নিয়ে ১২সেপ্টেম্বর বিকেলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থনকারীদের নিয়ে হাজির হন তিনি। ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু’র বাসায় এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ করিম মজুমদারসহ জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পরে এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন সৈয়দপুর এলাকাস্থ হোটেল নূর মহলে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে নিয়ে মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য আলী আকবর বলেন, “পূর্বেই ঘোষণা করেছি দল ও নেত্রীর সীদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করবো না। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ নেতাদের অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। যারা মনোনয়ন চেয়েছেন আমি মনে করি তারা সকলেই যোগ্য। তবুও নিয়ম অনুযায়ী একটি পদে একজনই মনোনয়ন পাবে এটাই স্বাভাবিক। দল ও নেত্রী যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনীত করেছে। দলের সুসময় ও দুঃসময়ে যেমন সামনে সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তেমনি ভাবে ৭১’ এর রণাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ঢাকে সাড়া দিয়ে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভুমিকা রেখেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু ভাই। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরন্ত বেলায় দল এবং মাননীয় নেত্রী তাকে মূল্যায়ন করায় আমিও ব্যক্তিগত ভাবে খুশি। তার বিজয় নিশ্চিতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। আশাকরি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সকলকে সাথে নিয়ে কুমিল্লাকে আরো এগিয়ে নেবেন আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন নেতা বাবলু ভাই। নেত্রীর সীদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র বা বিরোধীতার প্রশ্নই আসে না। এখন তো আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু, যেতে হবে বহুদূর।” এসময় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, “এর আগে কোন নির্বাচনে মনোনয়ন চাইনি এটিই প্রথম, আল্লাহ চাইলে হয়তোবা সামনে আরো ভালো কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। যারা আমার পক্ষে বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণা ও সমর্থন জানিয়েছেন সে সকল নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকস, অনলাইন মিডিয়া ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আপনাদের সমর্থন ভালোবাসা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সকলকে সাথে নিয়ে দেশ, দল ও মানুষের কল্যাণে এভাবেই এগিয়ে যাবো”

আইপি টিভি মেঘনা টেলিভিশনের পরিচালক এম এইচ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ করিম মজুমদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী নেতা নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আবু সুফিয়ান, মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সচিব উজ্জ্বল হোসেন তুহিন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি বেলাল হোসাইন মানছু, ছাত্রলীগ নেতা জিএম হেলাল, হাজী সাইফুল, মাসুম বিল্লা, শাওন সহ আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×