সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

আমরা কোনো পেশি শক্তির প্রতিবন্ধকতাকে বিশ্বাস করিনা : কুমিল্লায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:১২ পিএম
আমরা কোনো পেশি শক্তির প্রতিবন্ধকতাকে বিশ্বাস করিনা : কুমিল্লায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমরা কোন ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসী না, আমরা কোন পেশি শক্তির প্রতিবন্ধকতাকে বিশ্বাস করিনা। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের শক্তি। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। কে কি বলল এগুলো কোন কাজ হবে না। বন্ধু দেশ আমাদের পাশে যেমন ছিল, তেমনি অনেক দেশ আমাদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্যও চেষ্টা করেছে’।

শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌর আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলে তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে সকল উপদেশ দিয়ে থাকেন। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার পরামর্শ শতভাগ কাজে লেগেছে। তিনি বলেছিলেন দিন বদলের পালা বদলে দিবেন বাংলাদেশ। আপনারা চোখ দুইটি যদি বন্ধ করেন ১৫ বছর আগে আপনারা কি ছিলেন আর আজকে কোথায় এসেছেন। সেই যদি চিন্তা করেন তাহলে আর কেউ কিছু বলতে হবে না। সবাই মনে করবেন আমরা একটা অবস্থান থেকে বেহেস্তের বাগানে প্রবেশ করেছি। আমরা সেই জায়গাটিতে পরিপূর্ণভাবে যাওয়ার জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক নেতৃত্ব দিয়েছেন’।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনি কুলাঙ্গারদের একজন রয়েছে এই চান্দিনার। আমরা তাকে ধরার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যেখানেই থাকুক তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনারা কোন ক্রমেই আধুনিক টেকনোলজির অপব্যবহার করবেন না। সেজন্য আমাদের আইন রয়েছে, যারা অপব্যবহার করবেন তারা আইনের মুখোমুখী হতেই হবে। আপনারা কেউ ভূয়া নিউজ দিবেন না, উদ্দেশ্যে মূলক কোন প্রচারণা আপনারা করবেন না। অসত্য নিউজ কেউ ফেইসবুকে প্রচার করবে না। আপনাদের বিবেকে যেটা বলে সেটাই আপনারা চর্চা করবেন। তা না হলে আপনার স্বপ্ন আমার স্বপ্ন সবই আঁধারে ডুবে যাবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে বলেছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবেন, তখন অনেকেই হাসছিলেন। আজকে তার সুফল আমরা পাচ্ছি। আমরা ডিজিটালাইজড হয়েছি বলে সারা পৃথিবীতে একটা অবস্থান নিয়েছি। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তুলতে হবে, স্মার্ট ইকোনমিক, স্মার্ট সিটিজেন প্রয়োজন। আর স্মার্ট ইকোনমিক গড়ে তুলতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের মতো বিশ্ব বিখ্যাত চিকিৎসকও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প শুধুমাত্রই শেখ হাসিনা। এসময় তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার গঠনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। যতদিন শেখ হাসিনা বেঁচে থাকবে ততদিন আলোকিত থাকবে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি’র সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মু. রুহুল আমিন, চান্দিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব মুঃ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাস্টার, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা মজুমদার, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন খাঁন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার সহ চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ ছাত্রলীগ সহ সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও নেতা-কর্মীরা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় চান্দিনা উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রীকে সস্ত্রীক ফুলের শুভেচ্ছা প্রদান করেন নেতা-কর্মীরা। সেখানে থেকে পৌরসভা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অপেক্ষারত নেতা-কর্মীরা ফুল ছিটিয়ে সম্মান জানান প্রধান অতিথিকে।

পরে তাঁর শ্বশুরালয় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। বরুড়া উপজেলায় গিয়ে মনোহরপুর জামে মসজিদ উদ্বোধন, বিকাল ৩টায় নলুয়া-মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ২য় ও ৩য় তলার উদ্বোধন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ভূইয়া লাইব্রেরীর উদ্বোধন, মুক্তিযোদ্ধা কর্ণার উদ্বোধন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ভূইয়া’ নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণে অংশ গ্রহণ করেন। বিকেলে বরুড়া সরকারী কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় পরনে কোনো কাপড় না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

 

ঝোপের নিচে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার

 

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আয়েশার পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল; কিন্তু উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। এই পার্থক্য নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

চিকিৎসক পুলিশকে জানালেও ময়নাতদন্ত হলো না কেন?

 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় তিনি বিষয়টি হোমনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

তবে এরপরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

 

এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা চিকিৎসক পুলিশকে জানানোর পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হলো না কেন?

 

আরও প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে তার পরনে পোশাক না থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়গুলো পুলিশ কীভাবে মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই লাশ দাফন করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কতটা সহজ হবে, সেটিও এখন আলোচনায়।

 

পরিবারের অভিযোগ নেই, তাই কি তদন্তের প্রয়োজন নেই?

 

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মেয়েকে ফেলে রেখেছে, তা তিনি জানেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তবে শিশুটির কাকা দাবি করেন, আয়েশাকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পরিবারের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিল কি না।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

 

আয়েশার মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×