মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ঈশ্বরদী যুবলীগের আহবায়ক হতে চান ১৩ মামলার আসামি!

পাবনা প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুন, ২০২২, ১:৩৮ এএম
ঈশ্বরদী যুবলীগের আহবায়ক হতে চান ১৩ মামলার আসামি!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পাবনা জেলা যুবলীগ। জমা নেয়া হয়েছে আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহবায়ক ও সদস্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত। কমিটি গঠন নিয়ে নেতৃবৃন্দ নানা হিসাব-নিকাশ করছেন। শীর্ষ পদের জন্য এরই মধ্যে অনেকেই তদবির ও দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে পড়া নেতারা পদ পেতে নানান মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলার নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান যুবলীগ সভাপতি ও প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে শিরহান শরীফ তমাল ও বর্তমান সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসসহ এক ডজনের বেশি নেতা।
আহবায়ক পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসও। যার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি থানা সুত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও বর্তমান সাংসদ নুরজ্জামান বিশ্বাস এবং ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথার বাড়িতে হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঈশ্বরদীর সর্বজন শ্রদ্ধীয় ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম ফকির মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু, পৌর আ.লীগ নেতা করিম মোল্লাসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ওপর ও বাড়িতে হামলার একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
হামলার অভিযোগ আছে সাংবাদিকের ওপরও। আলোচিত এই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে যুবলীগ নেতা শাহিন হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার। এই অভিযোগে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে করে তাকে গ্রেফতার ও তার অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছিলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল। জুবায়ের বিশ্বাস একবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিলেন নিজের স্ত্রীকে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, উপজেলা আওয়ামী লীগের জঙ্গি-সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলে সশস্ত্র হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও বোমা হামলার অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কার করেছিলেন তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা বলেন, ‘আমরা চাই ঈশ্বরদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা যুবলীগে স্বচ্ছ, মার্জিত, নম্র, ভদ্র, সৎ ও ত্যাগী নেতৃত্ব আসুক। যিনি সকল বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন। দক্ষ, ত্যাগী ও নবীন-প্রবীন নেতাদের নিয়ে কাজ করবেন। ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করবেন। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে নিজ দলে নেতাদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে সেই সব বির্তকিত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসলে আবারও উপজেলাতে ত্রাসের রাজস্ত্র কায়েম হতে পারে। হতাশ হবেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতারা। তাই আমরা চাই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ, দক্ষ ও ত্যাগী যে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হোক।’
ঈশ্বরদী পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বলেন, ‘জুবায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সালে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিনেই আমার বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। যা ক্ষতচিহ্ন এখনও আমার বাড়িতে রয়েছে। ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের যাকে কান্ডারী বলা হতো সেই রহিম মালিথার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে পাবনা জেলা যুবলীগের য্গ্মু-আহবায়ক শিবলী সাদিক বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বিতর্কিত মুক্ত কমিটি করব। এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হবে যারা ঈশ্বরদী যুবলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করবেন। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, বিতর্ক আছে সেই সবগুলোর যদি প্রমাণ পাই তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।এব্যাপারে জুবায়ের বিশ্বাস বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা থাকতেই পারে। সবগুলো মামলাই ষড়যন্ত্রমুলক, এই সব মামলা তৎকালীন ভূমিমন্ত্রীর ক্ষমতায় প্রভাবিত হয়ে করা হয়েছিল। ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ডিলু মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এসব মামলা করা হয়েছে। একটি ঘটনার সঙ্গেও আমি জড়িত নয়। বর্তমানে ৩টি মামলা রয়েছে, বাকিগুলো শেষ হয়ে গেছে। নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক-সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে ক্ষমতার দাপটে অনেকেই পদ যান। একজনের বাবা মন্ত্রী ছিল, সেই ক্ষমতায় বলে পদ চান। আরেকজনের বাবা বর্তমান এমপি, বাবা এমপি হওয়ার পরে চাকরি ছেড়ে ঈশ্বরদীতে এসে রাজনীতি শুরু করেছেন আর এখন যুবলীগের নেতা হতে চান! আমি বাপ-দাদার পরিচয়ে পদ চাইনি। নিজের যোগ্যতার বলে পদ চেয়েছি।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×