উকালতি আর শিক্ষকতা ছেড়ে নবীনগরে ফকিরের জীবন মহসিনের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে লাল কাপড়ের পোশাক ও মাথায় জটা নিয়ে এক অদ্ভুত বেশে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন মো. মহসিন নামের এক ব্যক্তি। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও তিনি ছিলেন একজন শিক্ষিত, সম্মানজনক পেশার মানুষ—শিক্ষকতা করতেন, পাশাপাশি উকালতি পেশাতেও যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করে নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর নবারুন একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন মো. মহসিন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আইন পেশাতেও সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন একজন ভদ্র, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মানুষ।
কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎ করেই তার জীবনে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। পরিচিত সেই জীবন ছেড়ে তিনি বেছে নেন এক ভিন্ন পথ। লাল আলখেল্লা, মাথায় জটা আর ফকিরের বেশে হাজির হন তিনি। এরপর থেকে মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়ানোই যেন তার জীবনের নতুন অধ্যায় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে তিনি এক ধরনের আধ্যাত্মিক সাধুর জীবনযাপন করছেন। মাজারে কিংবা মানুষের কাছ থেকে যা পান, তাই দিয়েই চলে তার দিন। উন্নত ও সংসারী জীবন ছেড়ে একেবারে নিঃসঙ্গ ও সাধনামুখী জীবনে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়ানো এই মানুষের ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তার এই জীবন পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—কী এমন ঘটেছিল যে একজন শিক্ষিত মানুষ হঠাৎ করে সবকিছু ছেড়ে ফকিরের জীবন বেছে নিলেন?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রুসুল্লাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মহসিন বর্তমানে খুব কম কথা বলেন। বেশিরভাগ সময়ই তিনি নীরব থাকেন এবং নিজের মতো করে চলেন। তার কোনো স্থায়ী সঙ্গী-সাথীও তেমন দেখা যায় না।
তবে তার এই হঠাৎ জীবন পরিবর্তনের পেছনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খুব কাছের কয়েকজন মানুষ ছাড়া কেউই তার অতীত জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। ফলে স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন এক রহস্যময় চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।
নীরবে হাজারো মানুষের ভিড়ের মাঝেই নিজের অতীত পরিচয় লুকিয়ে রেখে আধ্যাত্মিক জীবনের পথে হেঁটে চলেছেন মো. মহসিন। তার এই জীবনযাপন এখন নবীনগরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।














