সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় দৈনিক সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় দৈনিক সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

“সত্যের সংগ্রামে নিবেদিত” এই স্লোগানকে সামনে রেখে দৈনিক সংগ্রামের ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লায় উদযাপিত হয়েছে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ কুমিল্লা ও সিলেট ও হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়নের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো: খাইরুল আলম। তিনি বলেন, “দৈনিক সংগ্রাম সংগ্রাম করে টিকে আছে এবং থাকবে। এটি একটি মাইলফলক। যারা সংগ্রাম করে টিকে থাকে তারা জীবনে সফল হয়। সংগ্রামের সাথে যারা অতীতে ছিলেন, এখন আছেন এবং আগামী দিনে থাকবেন তাদের সবার জন্য শুভ কামনা। সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক, প্রতিবেদক, কর্মকর্তা, লেখক এবং সকল কলাকৌশলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দৈনিক সংগ্রাম বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চায় অব্যাহত ভূমিকা পালন করবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে দৈনিক সংগ্রাম সরকারের নানাভাবে বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে। খুনী হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের ব্যানারে জয় বাংলা মিছিল সহকারে সংগ্রাম অফিসে ঢুকে ৫৮টি কম্পিউটার এবং তিনটি কক্ষ ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। এবং মানসিক হেনস্থা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বয়োবৃদ্ধ কবি ও দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে জেলেও পাঠানো হয়েছিল। তবুও সংগ্রাম তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। দৈনিক সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তীর সফলতা কামনা করি। মানুষের কাছে সত্যের বাণী পৌঁছাবে।”

দৈনিক সংগ্রামের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম রাসেলের সঞ্চালনায় কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা এনডিসি শরিফুল আলম, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আলমগীর সরকার, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আবদুল কাদের জামাল, কুমিল্লা বারের আইনজীবী এড. এয়াকুব আলী চৌধুরী, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক মানব জমিন প্রতিনিধি জাহিদ হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক এটিএন বাংলা কুমিল্লা প্রতিনিধি খাইরুল আহসান মানিক, দৈনিক জনকণ্ঠের কুমিল্লা প্রতিনিধি মীর শাহ আলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ উল্লাহ মিয়াজী, সময় টিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি বাহার রায়হান, সিটিভি নিউজ সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস, দৈনিক ইনকিলাব কুমিল্লা প্রতিনিধি সাদিক হোসনে মামুন, যমুনা টেলিভিশন কুমিল্লা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম খোকন, বৈশাখী টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুমিল্লা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা, দৈনিক যুগান্তরের কুমিল্লা ব্যুরো আবুল খায়ের, এখন টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি খালেদ সাইফুল্লাহ, দৈনিক কুমিল্লার কাগজের উপ-সম্পাদক জহির শান্ত, চ্যানেল ২৪ এর কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান, এনটিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টু।

এছাড়া খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা ইলিয়াস বিন হাসেম, ইসলামী ছাত্র মজলিশের কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, নিউজ ২৪ টেলিভিশন কুমিল্লা প্রতিনিধি এইচ এম মহিউদ্দিন, কালবেলা প্রতিনিধি আতিকুর রহমান, বাসস কুমিল্লা উত্তর প্রতিনিধি মহসিন কবির, আজকের জীবন প্রতিনিধি নেকবর হোসেন, মাইটিভি প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, এস এ টিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি রাফিকুল ইসলাম, ডিবিসি কুমিল্লা প্রতিনিধি নাছির উদ্দিন, দৈনিক ডাক প্রতিদিন প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম, দেশ রূপান্তরের কুমিল্লা প্রতিনিধি দুলাল মিয়া, দেশটিভি প্রতিনিধি সুমন কবির, আমার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান, চ্যানেল এস প্রতিনিধি রাজিব শাহ, সমতট টিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি তোহিদ সরকার, আনন্দ টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিনু, দৈনিক কুমিল্লার ডাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন, আমার সংবাদ কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহিরুল ইসলাম রাসেল, দৈনিক সংগ্রাম নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, সমকালের নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, আমাদের কুমিল্লার প্রতিনিধি রুবেল মজুমদার, সংবাদ প্রতিদিনের কুমিল্লা প্রতিনিধি মারুফ কল্পনা, সাংবাদিক কবি কামরুল হাসান, সকালের সময় প্রতিনিধি মহিউদ্দিন ভুঁইয়া, সাংবাদিক শাহ ইমরান, দৈনিক নয়াদিগন্তের ডিজিটাল প্রতিনিধি ফাহিম মুনতাসির, কুমিল্লা মেইল জমির উদ্দিন, দৈনিক দিনকালের সদর দক্ষিণ প্রতিনিধি হুদয় হাসান, সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক ইয়াছিন, সাইফুল ইসলাম আলিফ, রায়হান উদ্দিন প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে দৈনিক সংগ্রামের কুমিল্লার সাবেক প্রতিনিধি আমিনুল হকসহ কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×