সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা : প্রশাসনের নীরবতা কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম
কুমিল্লায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা : প্রশাসনের নীরবতা কেন?
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার কর্মী এবং স্থানীয় সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রর ওপর একাধিকবার হামলাকারী দুর্বৃত্তদের মধ্যে এজাহারনামীয় মাত্র দুই জনকে অবস্থান সনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ আর বাকিরা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এতে প্রাণনাশের শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন তিনি।

রবিবার(২ফেব্রুয়ারী)দুপুরে মওদুদ শুভ্র জানান, আমার স্ত্রী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তাকে সন্ত্রাসীরা কলেজে যাওয়ার সময় এসিড মারার হুমকি দেয়। যার দরুন আমার স্ত্রীর কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এজন্য তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে । ভিকটিম শুভ্রর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইমো হ্যাক করেছে দুঃস্কৃতিকারিরা।

এ বিষয়ে মওদুদ শুভ্র বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সাবেক ক্ষমতাসীন নেতার অনুসারী সন্ত্রাসীরা আমার বাসার সামনে পুরাতন চোধুরী পাড়ার ডেলুনি বাড়ি গলিতে কালিবাড়ীর পুকুর পাড়ে দু’টি মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। এসময় তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং আমাকে মামলা প্রত্যাহার করতে আল্টিমেটাম দেয়। মামলা প্রত্যাহার না করলে উল্টো তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ফাঁসাবে বলে আল্টিমেটাম দিয়ে যায়। আমাকে তারা উঠিয়ে নিয়ে যাবে এবং জানে মেরে ফেলবে। সেই সঙ্গে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দিয়ে যায়। আমি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় পুরো ঘটনা জানিয়ে তাদের নাম উল্লেখ করে জিডি করা হয় যাহার নাম্বার ১১৩৮-১৫/১/২০২৫ইং(কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা)

মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র আরো জানান, আমি অফিসে যাওয়ার পথে তিনটি মোটরসাইকেলে ৬ জন সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা আমাকে উপর্যুপরি কিল ঘুসি মেরে আঘাত করে। আমাকে রড দিয়ে আঘাত করে। এতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করার পর আমি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

গত বছরের ৩ আগস্ট রাতে আমি টিক্কাচর ব্রিজ অতিক্রম করে শহরের দিকে আসছিলাম। এসময় বিগত আওয়ামী লীগের ১৩/১৪ জন সন্ত্রাসী ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেল ও একটি সিনএনজিতে এসে আমার সিএনজির গতিরোধ করে। এসময় সন্ত্রাসীরা আমার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ও টাকা পয়সা এবং সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়। তখন আমি তাদেরকে বলি দশ লাখ টাকা চাঁদা কেন দিতে হবে। তখন তাদের মধ্যে কয়েকজন বলে- কুমিল্লা শহরে কাজ করলে আমাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি করলে তারা আমাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আমি সিএনজি চালকের সাহায্যে আমার বন্ধু কুমিল্লা জজকোর্টের আইন পেশায় নিয়োজিত মোহাম্মদ জিল্লুর কামালকে ফোন করি। সে কয়েকজনকে নিয়ে এসে আমাকে ওই রাতেই কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মধ্যে পতনের দু’দিন আগে ৩ আগস্ট থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকার কারণে গত বছরের ১৯ আগস্ট দ্রুত বিচার আইনে অজ্ঞাতনামা ৩ জন পুরুষ ও একজন মহিলাকে আসামি করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরসহ মামলা দায়ের করা করি। যা জেলা পিবিআইয়ের তদন্তনাধীন রয়েছে। মামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় কুমিল্লা জেলা পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মোসলেহ উদ্দিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিলের পর্যায়ে রয়েছে।
আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ২০১৭ সাল থেকে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে আসছি। আমাকে অস্ত্র দিয়ে জখম, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের দরুন কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ নভেম্বর আমি ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করি। মামলার আসামিরা হলেন, আমড়াতলী ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের মৃত বাবুল সর্দারের ছেলে মহিউদ্দিন (৩৮), আদালত পাড়ার টাউট মতিন (৩৮), সুবর্নপুর পাচথুবী ইউনিয়নের তারেক (৪২), ঢাকার ধানমন্ডির মৃত ওয়াকিলুর রহমানের ছেলে ফয়সল রহমান (৩৮), সদর দক্ষিণ গলিয়ারা ইউনিয়নের হাবিবের ছেলে মো. মতিন (৪০), ডুমুরিয়া চানপুরের আরাফাত (৩৬), ফৌজদারি সংলগ্ন আল আমিন (৩৫), আদালতের পশ্চিম গেইটের সোনিয়া (৩২), এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন।

মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর ২৭ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই তারিখে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এবং কুমিল্লা র‍্যাব ১১ কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর জেলা ডিজিএফআই এবং এনএসআই কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলে অভিযোগ করেও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপোরোয়া যে তারা কাউকে ভ্রুক্ষেপ পর্যন্ত করে না। প্রশাসনিক নিরাপত্তাসহ আইনগত সুরক্ষার কোন ধরনের ফল না পেয়ে হতাশ এই তরুণ সাংবাদিক এবং মানবধিকার কর্মী ।

তিনি কোতয়ালি মডেল থানার প্রথম জিডি করেন২০১৭ সালের ৩ মে যার নম্বর ১৫৭। আসামীরা তারপরও আটক না হওয়ায় তিনি পূণরায় ২০১৮ সালের ২৮ জুন দ্বিতীয়বারের মত জিডি করেন যার নম্বর ১৫৩৮। মওদুদ শুভ্র একের পর এক হামলা নির্যাতনের কারণে তিনি ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন যার এসডিআর নাম্বার ১৯২।

সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়ার কারণে দ্রুত বিচার আইন আদালতে ২০২৪ সালের ১৯ আগষ্ট মামলা করেন যার নম্বর সি আর ৩৬/২৪ ।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় চাঁদাবাজি,চুরি ও ছিনতাইয়ের কারণে মামলা করা হয় ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর যার নম্বর ৪১/৮৫০। একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায়। অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র মানবধিকার কর্মী ও মেসার্স মওদুদ ভ্যারাইটিজ কনস্ট্রাকশন এবং মওদুদ বিল্ডার্সের একক স্বত্বাধিকারী। আসামি পক্ষের চেনা জানা লোকজন এই বিবাদীর মোবাইল নাম্বারে হুমকি প্রদান করে আসছে। অপরাধীরা বিভিন্নভাবে মওদুদ শুভ্রকে নাজেহাল, মারধরসহ চাঁদা দাবি করছে। মওদুদ শুভ্র’কে হত্যার উদ্দেশ্যে উক্ত সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাতও করেছে। তখন এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে পুরাপুরি শনাক্ত করতে না পেরে থানায় মামলা করা যায়নি এবং আসামিরা বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুসারী হওয়ায় সকল স্থানে আধিপত্য বিস্তার করত। তাকে আহত করার পর পুনরায় এসে চাঁদা দাবি করায় আসামিদের চিহ্নিত করে অজ্ঞাতনামাসহ আরও কিছু আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

আর দুটি বিষয়ে দুটি মামলা হয় ৪ আগস্ট হত্যার উদ্দেশ্য ছুরি ও অস্ত্র প্রদর্শন করে শারীরিক ভাবে আহত করে এবং নিয়মিত ভাবে চাঁদা চাইতে থাকে চাঁদা না দেওয়াতে ছুরিকাঘাত, টাকা পয়সা, মোবাইল ও সাংবাদিকতার ক্যামেরা সব ছিনিয়ে নেয় পরে থানায় মামলা এই বিষয়ে না নেওয়াতে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নাম্বার -দ্রুত সি আর-৩৬/২৪, তারিখ:১৯.০৮.২০২৪ ইং।ধারা – আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ ( দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ ( সংশোধনী /২০১৯) এর ৪/৫ নং । অত:পর পুনরায় এই সন্ত্রাসী চক্র গত ১৩ -১৬ অক্টোবর চাঁদাবাজি পুনরায় করতে থাকে সরাসরি এসে এবং হুমকি ধমকি দিতে থাকে সাথে মোবাইল কল ও এস এম এস দিতে থাকে।যেটা ভিক্টিম মওদুদ শুভ্র’র মোবাইলে সব সংরক্ষিত আছে অত:পর এজহার নামীয় সন্ত্রাসী বাহিনী সহ তাদের পরোক্ষ লোকজন হত্যার হুমকি-ধমকি এবং সুযোগ খুঁজতে থাকে পরে বাধ্য হয়ে শারিরিক জখমি থেকে শুরু করে সার্বিক অপরাধের বিষয় অবগত করে পৃথক আরেকটি ১৪ই নভেম্বর, ২০২৪ ইং থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৪১/ ৮৫০, ধারা-১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২)/৩৪ প্যানেল কোড ১৮৬০।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, মামলা দায়েরের পর প্রশাসনসহ যৌথ বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আসামিরা পলাতক থাকায়, আসামি পক্ষের অচেনা লোকজন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ছদ্মবেশে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ইত্যাদি দ্বারা মওদুদ শুভ্র’র চলাফেরা, গতিবিধি অনুসরণ করে হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা না পেলে আমাকে যেকোন উপায়ে গুম-খুন করার হুমকি দেয়। আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং আমার পরিবার-পরিজনের ক্ষয়ক্ষতি করবে বলে প্রকাশ্যে, মোবাইল ফোনে ও এসএমএস দিয়ে হুমকি দেয়। ইতোমধ্যে তারা আমার ফেসবুক আইডি হ্যাকও করেছে এবং নানাবিধ অপরাধের আশ্রয় নিচ্ছে।

মাসিক মানবাধিকার খবর’র সম্পাদক ও প্রকাশক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মানবিক ও সামাজিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র উচ্চ শিক্ষিত মানুষ। তার উপর বিগত দিনে এমন বর্বরতামূলক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। অতি দ্রুত আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করাসহ বর্তমানে যে বা যারা তাকে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বিভিন্ন চক্রান্ত করে; তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ভুক্তভোগী মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র বলেন, দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জখম করার জন্য এবং কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির জন্য।

এ ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এডভোকেট সাঈদ শাওন বলেন, মওদুদ শুভ্র একজন মানবিক ও সামাজিক ব্যাক্তিত্ব এবং মানবাধিকার কর্মী, অপরাধীদের এই ধরনের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসন সহ যৌথ বাহিনীর উক্ত ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুদৃস্টি কামনা করছি।

কুমিল্লা জজকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ আল ইমরান পাশা বলেন, মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রর বাবা ও মা দু’জনেই সরকারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সন্ত্রাসীদের অবস্থান হয়ত তার বাসার সামনে যার দরুন তাকে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে, আহত করেছে। শুভ্রর গতিবিধি লক্ষ্য করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদা দাবি করার জন্য তিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জখম করার জন্য দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এক বিষয় নিয়ে দু’টি আদালতে মামলা করা যায় না। এজন্য মওজুদ শুভ্র দু’টি ভিন্ন বিষয়ে আলাদভাবে মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ এই মামলাটির আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তিনি জানান, অতি দ্রুত আসামিদেরকে গ্রেফতারসহ তথ্যসূত্রে মূল আসামিদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তোভোগী মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র জানিয়েছেন তাকে মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার নলেজে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি তার নিরাপত্তার জন্য। তারা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী তাই ভুক্তভোগীর কাছে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গায়।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, আমি যোগদান পরপর বলেছি কুমিল্লায় এখন থেকে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। ভিকটিমের উক্ত দায়ের করা মামলার এফ আই আর টি ও তার পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা কল্পে থানার জিডির কপিটি আমাকে পাঠালে আমি কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ও মামলার আইও খাজু মিয়া জানান, এজহার নামীয় অভিযুক্ত অপরাধীসহ তাদের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ আসামি পলাতক। অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মানবধিকার কর্মী মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র তার নিরাপত্তার জন্য এবং আসামীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় ড. মুহামদ ইউনুস এর সাহায্যে প্রার্থনা করেন।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×