শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লার তিন ওয়ার্ডে কেন এতো লাশ?

মোঃ বিল্লাল হোসেন : প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ৭:১৫ এএম
কুমিল্লার তিন ওয়ার্ডে কেন এতো লাশ?
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা নগরীর ৬, ১৬ ও ১৭ নং ওয়ার্ডে অপরাধ ও মাদকের সহজলভ্যতা এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। সম্প্রতি এই দুই ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকান্ড ও অপরাধের ঘটনা স্থানীয় জনগণের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। এই অপরাধ প্রবণতা রোধে পুলিশ, সাংবাদিক এবং জনপ্রতিনিধিদের করণীয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয়তা, মাদক পাচার, জলাশয় ভরাট এবং গোমতী নদীর মাটি ও বালু উত্তোলনের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। এসব অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, একাধিক হত্যা মামলার আসামিদের জামিন এবং নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মহড়ার ঘটনা অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এতো হত্যাকান্ডের পরও এদের লাগাম টানার কেউ না থাকায় লাশের মিছিলে একেরপর এক নিহতের নাম যোগ হচ্ছে। তারা এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত অপরাধীদের তালিকা করে এদের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করলে অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

এই অপরাধ প্রবণতা রোধে পুলিশ ও সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দাবিও তুলেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এলাকার জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তি পুনরুদ্ধারে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ মাধ্যমকে এই অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং সঠিক তথ্য প্রকাশ করে জনগণকে অবগত করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্র জানান, কুমিল্লার এই দুই ওয়ার্ডের অপরাধ প্রবণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও এলাকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

দুই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনের সাথে সমন্নয় করে অপরাধীদের তালিকা করে নজরদারি বাড়াতে সহযোগিতার মত দিয়েছেন সুশীল সমাজের লোকজন।

বিগত সময়ে যারা খুন হয়েছেন:

সংরাইশ চাঞ্চল্যকর মুহিন (১৩) হত্যার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এরক্ষত না শোকাতেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নিহত মুহিনের আপন চাচা শহীদ (৪৫) যা এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে।

জানু মিয়া (৩৮) হত্যাকাণ্ডের পর লাশের মিছিলে যোগ হয় অন্তু (৩০)। নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের নবগ্রম এলাকার ফয়সাল (২৮) সুজানগর এলাকার হৃদয় (২৫) জনপ্রিয় কাউন্সিলার ও আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ সোহেল ও হরিপদ সাহা হত্যার পর এলাকাবাসী একজন মানবিক অবিভাবক হারিয়েছে যে শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। জনপ্রিয় মতিন সর্দার হত্যার পর ১৬ নং ওয়ার্ডবাসী হারালো একজন ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি। এছাড়াও টিক্কারচর খুন হন শুভপুরের মোশাররফ। টিক্কারচর গোমতী সেতুর পূর্বে গোমতী কফি হাউজ থেকে অটো চালক জুনু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এ ঘটনায় নিরপরাধ ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে জুনু হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ ৮ দিন পর মিশুক চালক মোঃ পরান মিয়ার (৪০) মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার।

জানা যায়, গত ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ পরান মিয়ার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় ভোলা মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৪)। পরে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রশাসন নিখোঁজ মিশুক চালকের সন্ধানে মাঠে নামে। গত ১৭ মে রাতে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার এসআই খোরশেদ আলম হারাতলী এলাকার পরিত্যক্ত একটি সিএনজি পাম্পের কাছ থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সন্ধান না পেয়ে কুমিল্লা নগরীর টিক্কারচর এলাকার আঞ্জুমান কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করে। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়নামতি ক্রসিং হাইয়ে থানা পুলিশ পরিবারের সন্ধান পেতে মরদেহের আঙুলের ছাপ সিআইডির নিকট পাঠায়। সার্ভারে সমস্যা থাকায় ঠিকানা আসতে দেরি হয়। গতকাল শুক্রবার (২৪ মে) লাশটির ঠিকানা পেলে পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়। সংবাদ পেয়ে ময়নামতি ক্রসিং হাইয়ে থানায় পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ছবি দেখে মরদেহ সনাক্ত করেন।

পরানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি নিখোঁজের পরদিন কোতয়ালি মডেল থানায় ভোলা মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা করেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যাবে। তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ির ভিতর ভোলা সহ একটি গ্রুপ মাদকের আখড়া জমায় এতে আমাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আমার স্বামী সহ পরিবারের সবাই বাঁধা দিলে এই নিয়ে তাদের সাথে আমাদের বিরোধ হয়। আমার স্বামীর সন্ধান পাওয়ার আগের এদিনও আমার দেবর সহ আমাদের মারধর করেন।

কুমিল্লা ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, লাশ পাওয়ার পর লাশের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলো আমরা পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করি। এখন পরিবারের সন্ধান পেয়েছি। বিষয়টি তাদের অবগত করেছি।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, পরান মিয়ার স্ত্রীর অভিযোগ পেয়ে আমরা কাজ শুরু করি। যেহেতু তারা হত্যার কথা বলেছে আমরা হত্যা মামলা নিবো। তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিগত সময়ে যে হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে সেই মামলা সদ্য কারামুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×