সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লার তিন ওয়ার্ডে কেন এতো লাশ?

মোঃ বিল্লাল হোসেন : প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ৭:১৫ এএম
কুমিল্লার তিন ওয়ার্ডে কেন এতো লাশ?
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা নগরীর ৬, ১৬ ও ১৭ নং ওয়ার্ডে অপরাধ ও মাদকের সহজলভ্যতা এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। সম্প্রতি এই দুই ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকান্ড ও অপরাধের ঘটনা স্থানীয় জনগণের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। এই অপরাধ প্রবণতা রোধে পুলিশ, সাংবাদিক এবং জনপ্রতিনিধিদের করণীয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয়তা, মাদক পাচার, জলাশয় ভরাট এবং গোমতী নদীর মাটি ও বালু উত্তোলনের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। এসব অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, একাধিক হত্যা মামলার আসামিদের জামিন এবং নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মহড়ার ঘটনা অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এতো হত্যাকান্ডের পরও এদের লাগাম টানার কেউ না থাকায় লাশের মিছিলে একেরপর এক নিহতের নাম যোগ হচ্ছে। তারা এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত অপরাধীদের তালিকা করে এদের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করলে অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

এই অপরাধ প্রবণতা রোধে পুলিশ ও সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দাবিও তুলেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এলাকার জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তি পুনরুদ্ধারে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ মাধ্যমকে এই অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং সঠিক তথ্য প্রকাশ করে জনগণকে অবগত করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্র জানান, কুমিল্লার এই দুই ওয়ার্ডের অপরাধ প্রবণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও এলাকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

দুই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনের সাথে সমন্নয় করে অপরাধীদের তালিকা করে নজরদারি বাড়াতে সহযোগিতার মত দিয়েছেন সুশীল সমাজের লোকজন।

বিগত সময়ে যারা খুন হয়েছেন:

সংরাইশ চাঞ্চল্যকর মুহিন (১৩) হত্যার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এরক্ষত না শোকাতেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নিহত মুহিনের আপন চাচা শহীদ (৪৫) যা এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে।

জানু মিয়া (৩৮) হত্যাকাণ্ডের পর লাশের মিছিলে যোগ হয় অন্তু (৩০)। নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের নবগ্রম এলাকার ফয়সাল (২৮) সুজানগর এলাকার হৃদয় (২৫) জনপ্রিয় কাউন্সিলার ও আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ সোহেল ও হরিপদ সাহা হত্যার পর এলাকাবাসী একজন মানবিক অবিভাবক হারিয়েছে যে শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। জনপ্রিয় মতিন সর্দার হত্যার পর ১৬ নং ওয়ার্ডবাসী হারালো একজন ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি। এছাড়াও টিক্কারচর খুন হন শুভপুরের মোশাররফ। টিক্কারচর গোমতী সেতুর পূর্বে গোমতী কফি হাউজ থেকে অটো চালক জুনু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এ ঘটনায় নিরপরাধ ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে জুনু হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ ৮ দিন পর মিশুক চালক মোঃ পরান মিয়ার (৪০) মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার।

জানা যায়, গত ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ পরান মিয়ার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় ভোলা মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৪)। পরে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রশাসন নিখোঁজ মিশুক চালকের সন্ধানে মাঠে নামে। গত ১৭ মে রাতে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার এসআই খোরশেদ আলম হারাতলী এলাকার পরিত্যক্ত একটি সিএনজি পাম্পের কাছ থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সন্ধান না পেয়ে কুমিল্লা নগরীর টিক্কারচর এলাকার আঞ্জুমান কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করে। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়নামতি ক্রসিং হাইয়ে থানা পুলিশ পরিবারের সন্ধান পেতে মরদেহের আঙুলের ছাপ সিআইডির নিকট পাঠায়। সার্ভারে সমস্যা থাকায় ঠিকানা আসতে দেরি হয়। গতকাল শুক্রবার (২৪ মে) লাশটির ঠিকানা পেলে পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়। সংবাদ পেয়ে ময়নামতি ক্রসিং হাইয়ে থানায় পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ছবি দেখে মরদেহ সনাক্ত করেন।

পরানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি নিখোঁজের পরদিন কোতয়ালি মডেল থানায় ভোলা মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা করেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যাবে। তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ির ভিতর ভোলা সহ একটি গ্রুপ মাদকের আখড়া জমায় এতে আমাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আমার স্বামী সহ পরিবারের সবাই বাঁধা দিলে এই নিয়ে তাদের সাথে আমাদের বিরোধ হয়। আমার স্বামীর সন্ধান পাওয়ার আগের এদিনও আমার দেবর সহ আমাদের মারধর করেন।

কুমিল্লা ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, লাশ পাওয়ার পর লাশের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলো আমরা পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করি। এখন পরিবারের সন্ধান পেয়েছি। বিষয়টি তাদের অবগত করেছি।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, পরান মিয়ার স্ত্রীর অভিযোগ পেয়ে আমরা কাজ শুরু করি। যেহেতু তারা হত্যার কথা বলেছে আমরা হত্যা মামলা নিবো। তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিগত সময়ে যে হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে সেই মামলা সদ্য কারামুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় পরনে কোনো কাপড় না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

 

ঝোপের নিচে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার

 

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আয়েশার পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল; কিন্তু উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। এই পার্থক্য নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

চিকিৎসক পুলিশকে জানালেও ময়নাতদন্ত হলো না কেন?

 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় তিনি বিষয়টি হোমনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

তবে এরপরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

 

এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা চিকিৎসক পুলিশকে জানানোর পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হলো না কেন?

 

আরও প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে তার পরনে পোশাক না থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়গুলো পুলিশ কীভাবে মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই লাশ দাফন করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কতটা সহজ হবে, সেটিও এখন আলোচনায়।

 

পরিবারের অভিযোগ নেই, তাই কি তদন্তের প্রয়োজন নেই?

 

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মেয়েকে ফেলে রেখেছে, তা তিনি জানেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তবে শিশুটির কাকা দাবি করেন, আয়েশাকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পরিবারের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিল কি না।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

 

আয়েশার মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×