কুমিল্লায় পরিবেশ,প্রকৃতির বেহাল অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ময়লা-আবর্জনা
হোটেল সালাউদ্দিনের সামনে থেকে তোলা _ ফাইল ফটো।
একদা সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার আজ আর সেই সুনাম নেই। যতই দিন যাচ্ছে ততই অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে জেলার প্রায় প্রতিটি জনপদ। বর্তমানে কুমিল্লা একটি মহানগরী। এরবাইরে পুরো জেলায় রয়েছে আরো ৮ টি পৌরসভা। দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক’শত কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে দু’শতাধিক হোটেল-রেষ্টুরেণ্ট। রয়েছে এক হাজারের বেশী সরকারী-বেসরকারী, হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব। আর আছে জেলার প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দা। প্রতিদিনই এ থেকে কি পরিমান সৃষ্ট হচ্ছে বর্জ তার সঠিক পরিসংখ্যান কারো জানা নেই। তবে নগর কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনই কমপক্ষে একশত ২০ মেট্রিক টন ময়লা আবর্জনা অপসারন করছে বলে দাবী তাদের। তবুও সারাদিন নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশ বা গলির মুখে থাকা ডাষ্টবিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পঁচে-গলে নগরীর সড়কের উপর একাকার হচ্ছে। একইভাবে মহাসড়কের পাশজুড়ে একাধিক পৌরসভা ছাড়াও হোটেল-রেষ্টুরেণ্টের ময়লা-আবর্জনা বা উচ্ছিষ্ট থেকেও দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এথেকে যেন কোনভাবেই মুক্তি মিলছেনা। এতে দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে জেলার পরিবেশ। সিটি করপোরেশন আপ্রান চেষ্টা করছে তবে বাইরের মহাসড়কের পাশে থাকা দাউদকান্দি, চান্দিনা , চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও মহাসড়কের পাশে থাকা হোটেল-রেষ্টুরেন্টের বর্জ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে কুমিল্লার পরিবেশ।

২০১১ সালে দু’টি পৌরসভাকে একিভূত করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্ম। ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীতে রয়েছে ২৭ টি ওয়ার্ড। লোকসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলাছাড়াও পাশ্ববর্তী ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকেও শিক্ষা, অফিস বা চিকিৎসা সেবায় এখানে আসছে কমপক্ষে লক্ষাধিক মানুষ। ফলে নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কের উপর ময়লা, আবর্জনা বা পরিত্যক্ত জিনিসের উপস্থিতি চোঁখে পড়ে। সিটিকরপোরেশন থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২০ মেঃটন ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে। কিন্তু তবুও নগরীর সর্বত্রই শুধু ময়লা আবর্জনার উপস্থিতি। অভিযোগ রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ অসংখ্য ডাষ্টবিন নির্মান করলেও এই নগরীর অনেকেই অবিবেচকের মত যত্রতত্র বা ডাষ্টবিনের বাইরে বর্জ্র ফেলছে। এতে প্রতিটা ডাষ্টবিনের বাইরে সড়কের উপর আবর্জনার স্তুপ দেখা যায়। এদিকে শহরতলীর বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠা হাসপাতাল, ক্লিনিক বা বহুতল ভবনের বাসিন্দারা তাদের বর্জ্য যে যেভাবে যেখানে পারছে ফেলে দিচ্ছে। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের শত কিলোমিটার পথজুড়ে গড়ে উঠা কমপক্ষে দু’শতাধিক হোটেল রেষ্টুরেণ্ট গুলোর বর্জ্য এখন মহাসড়কের মাইলের পর মাইল দু’পাশ জুড়ে স্তুপ হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের দু’পাশের দুর্গন্ধে যানবাহনের যাত্রীসহ চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কুমিল্লা মহানগরী ও শহরতলীর ছোট-বড় ড্রেন, খাল কোনটাই আবর্জনা থেকে মুক্তি নেই। ফলে ড্রেন কিংবা খালজুড়ে দেখা যায় শত শত প্লাষ্টিকের পানির বোতল, চীপস, পরিত্যক্ত ডাবের খোলসহ নানা বর্জ্য। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হচ্ছে। আর মানুষ এসকল ময়লা আবর্জনার পানিতে চলাফেরা করতে যেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে নগরীর বর্জ্য যেখানে প্রতিদিন ফেলছে নগর কর্তৃপক্ষ সেই গ্রামসহ আশপাশের ৫টি এলাকার অবস্থা এতটাই বেহাল যে, তাদের সাথে ভিন্ন এলাকার মানুষ আত্বীয়তা করতেও আসেনা। ওই এলাকার স্থানীয়রা জানান, একটু শান্তিতে বসে খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা কোনটাই সম্ভব হচ্ছেনা দুর্গন্ধের কারণে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করছেন এমন এক স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. মোসলেহ উদ্দিন কুমিল্লার ডাককে বলেন, এইভাবে উন্মুক্তভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্তান্ত হচ্ছে মানুষজন। অচিরেই এইসব ময়লা আবর্জনার বিষয়ে প্রদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
সাবেক কুমিল্লা পৌরসভার এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, নগরীর প্রতিটি হাইরাইজ ভবনের একটি করে ডাষ্টবিন নির্মান বাধ্যতামুলক করা উচিত।
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সুত্র জানায়, সচেতনতার পাশাপাশি সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী একটি নগরী গড়ে তুলতে নাগরিকদের জবাবহিতার আওতায় আনতে হবে। যার বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা আবর্জনা পাওয়া যাবে তাকে আর্থিক জরিমানার অংক গুনতে হবে। এছাড়াও নির্দিষ্টস্থানে ময়লা না ফেললে তাদেরও জরিমানার আওতায় আনার কথা তিনি বলেন।












