বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় পরিবেশ,প্রকৃতির বেহাল অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ময়লা-আবর্জনা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ৯:৩৮ এএম
কুমিল্লায় পরিবেশ,প্রকৃতির বেহাল অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ময়লা-আবর্জনা

হোটেল সালাউদ্দিনের সামনে থেকে তোলা _ ফাইল ফটো।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

একদা সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার আজ আর সেই সুনাম নেই। যতই দিন যাচ্ছে ততই অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে জেলার প্রায় প্রতিটি জনপদ। বর্তমানে কুমিল্লা একটি মহানগরী। এরবাইরে পুরো জেলায় রয়েছে আরো ৮ টি পৌরসভা। দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক’শত কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে দু’শতাধিক হোটেল-রেষ্টুরেণ্ট। রয়েছে এক হাজারের বেশী সরকারী-বেসরকারী, হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব। আর আছে জেলার প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দা। প্রতিদিনই এ থেকে কি পরিমান সৃষ্ট হচ্ছে বর্জ তার সঠিক পরিসংখ্যান কারো জানা নেই। তবে নগর কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনই কমপক্ষে একশত ২০ মেট্রিক টন ময়লা আবর্জনা অপসারন করছে বলে দাবী তাদের। তবুও সারাদিন নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশ বা গলির মুখে থাকা ডাষ্টবিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পঁচে-গলে নগরীর সড়কের উপর একাকার হচ্ছে। একইভাবে মহাসড়কের পাশজুড়ে একাধিক পৌরসভা ছাড়াও হোটেল-রেষ্টুরেণ্টের ময়লা-আবর্জনা বা উচ্ছিষ্ট থেকেও দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এথেকে যেন কোনভাবেই মুক্তি মিলছেনা। এতে দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে জেলার পরিবেশ। সিটি করপোরেশন আপ্রান চেষ্টা করছে তবে বাইরের মহাসড়কের পাশে থাকা দাউদকান্দি, চান্দিনা , চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও মহাসড়কের পাশে থাকা হোটেল-রেষ্টুরেন্টের বর্জ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে কুমিল্লার পরিবেশ।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-

২০১১ সালে দু’টি পৌরসভাকে একিভূত করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্ম। ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীতে রয়েছে ২৭ টি ওয়ার্ড। লোকসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলাছাড়াও পাশ্ববর্তী ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকেও শিক্ষা, অফিস বা চিকিৎসা সেবায় এখানে আসছে কমপক্ষে লক্ষাধিক মানুষ। ফলে নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কের উপর ময়লা, আবর্জনা বা পরিত্যক্ত জিনিসের উপস্থিতি চোঁখে পড়ে। সিটিকরপোরেশন থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২০ মেঃটন ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে। কিন্তু তবুও নগরীর সর্বত্রই শুধু ময়লা আবর্জনার উপস্থিতি। অভিযোগ রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ অসংখ্য ডাষ্টবিন নির্মান করলেও এই নগরীর অনেকেই অবিবেচকের মত যত্রতত্র বা ডাষ্টবিনের বাইরে বর্জ্র ফেলছে। এতে প্রতিটা ডাষ্টবিনের বাইরে সড়কের উপর আবর্জনার স্তুপ দেখা যায়। এদিকে শহরতলীর বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠা হাসপাতাল, ক্লিনিক বা বহুতল ভবনের বাসিন্দারা তাদের বর্জ্য যে যেভাবে যেখানে পারছে ফেলে দিচ্ছে। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের শত কিলোমিটার পথজুড়ে গড়ে উঠা কমপক্ষে দু’শতাধিক হোটেল রেষ্টুরেণ্ট গুলোর বর্জ্য এখন মহাসড়কের মাইলের পর মাইল দু’পাশ জুড়ে স্তুপ হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের দু’পাশের দুর্গন্ধে যানবাহনের যাত্রীসহ চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কুমিল্লা মহানগরী ও শহরতলীর ছোট-বড় ড্রেন, খাল কোনটাই আবর্জনা থেকে মুক্তি নেই। ফলে ড্রেন কিংবা খালজুড়ে দেখা যায় শত শত প্লাষ্টিকের পানির বোতল, চীপস, পরিত্যক্ত ডাবের খোলসহ নানা বর্জ্য। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হচ্ছে। আর মানুষ এসকল ময়লা আবর্জনার পানিতে চলাফেরা করতে যেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে নগরীর বর্জ্য যেখানে প্রতিদিন ফেলছে নগর কর্তৃপক্ষ সেই গ্রামসহ আশপাশের ৫টি এলাকার অবস্থা এতটাই বেহাল যে, তাদের সাথে ভিন্ন এলাকার মানুষ আত্বীয়তা করতেও আসেনা। ওই এলাকার স্থানীয়রা জানান, একটু শান্তিতে বসে খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা কোনটাই সম্ভব হচ্ছেনা দুর্গন্ধের কারণে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-

পরিবেশ নিয়ে কাজ করছেন এমন এক স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. মোসলেহ উদ্দিন কুমিল্লার ডাককে বলেন, এইভাবে উন্মুক্তভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্তান্ত হচ্ছে মানুষজন। অচিরেই এইসব ময়লা আবর্জনার বিষয়ে প্রদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
সাবেক কুমিল্লা পৌরসভার এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, নগরীর প্রতিটি হাইরাইজ ভবনের একটি করে ডাষ্টবিন নির্মান বাধ্যতামুলক করা উচিত।
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সুত্র জানায়, সচেতনতার পাশাপাশি সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী একটি নগরী গড়ে তুলতে নাগরিকদের জবাবহিতার আওতায় আনতে হবে। যার বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা আবর্জনা পাওয়া যাবে তাকে আর্থিক জরিমানার অংক গুনতে হবে। এছাড়াও নির্দিষ্টস্থানে ময়লা না ফেললে তাদেরও জরিমানার আওতায় আনার কথা তিনি বলেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×