সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় পাঁচ সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ ইফতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৬ এএম
কুমিল্লায় পাঁচ সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ ইফতার আয়োজন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লায় পাঁচটি সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করতেই এই আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব, কুমিল্লা ফটো সাংবাদিক ফোরাম, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাশেদুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালেক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক, সহ-সভাপতি মাহবুব আলম বাবু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক রূপসী বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার অশোক বড়ুয়া, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার খাইরুল আহসান মানিক, কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইয়াসমিন রীমা, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কুমিল্লা জমিনের সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, দৈনিক বাংলার আলোড়নের প্রধান সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া, দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মীর শাহ আলম, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শহীদুল্লাহ, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির রনি, কুমিল্লা মিডিয়া ফোরামের সভাপতি সাদিক মামুন, দৈনিক পূর্বাশার সিনিয়র রিপোর্টার মামশাদ কবির, দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি শাহ আলম শফি, দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়ের সম্পাদক এম ফিরোজ মিয়া, দৈনিক কুমিল্লা মুক্ত কণ্ঠের সম্পাদক হুমায়ুন কবির, প্রেসক্লাবের সদস্য শহিদুল্লাহ মিয়াজী, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি কামাল হোসেন, সাপ্তাহিক গোমতীর সম্পাদক মোবারক হোসেন, যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার খোকন চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক বাহার রায়হান, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সেলিম রেজা মুন্সী, বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, ডিবিসির প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন, ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি খালিদ বিন নজরুল, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নেকবর হোসেন, বাসসের দেলোয়ার হোসেন আকাঈদ, এনটিভির মাহফুজ নান্টু, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জহিরুল হক বাবু, দৈনিক কালের কণ্ঠের জাহিদ পাটোয়ারী, দৈনিক প্রথম আলোর আব্দুর রহমান, কুমিল্লা ফটো সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আশিকুর রহমান, সহ-সভাপতি এন কে রিপন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সুমন, সময় টিভির প্রতিনিধি ইসতিয়াক আহমেদ, দৈনিক নয়া দিগন্তের হাবিবুর রহমান, এখন টিভির মাসুদ আলম, ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান, গ্লোবাল টিভির প্রতিনিধি সাইফুদ্দিন রনি ও পলাশ, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা জার্নালের সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সমতট পত্রিকার সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, বাংলা টিভির আরিফ মজুমদার, মানব কণ্ঠের মাহবুব আলম আরিফ, চেতনায় একাত্তরের সম্পাদক মাইনুল হক স্বপন, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনোয়ার সৌরভ, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন নাসির খান রাফি, ভোরের কলামের সম্পাদক তৌহিদ মাহমুদ অপু, চায়না গার্ডেন রেস্টুরেন্টের পরিচালক সাইফুল্লাহ মনি, রাজনীতিবিদ মাসুম, ডাক প্রতিদিনের নুরুল ইসলাম ও একরাম, বার্তা বাজারের সুমন আহমেদ সোহান, কুমিল্লা ডাকের নির্বাহী সম্পাদক রুহুল আমিন সুমন, বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ, সাবেক সভাপতি মুসলেহ উদ্দিন, কুমিল্লা বেতারের আবু সুফিয়ান, নাগরিক টিভির প্রতিনিধি রুবেল মজুমদার, ইয়াসিন মিয়া, আজকের কুমিল্লার নাসরিন আক্তার হীরা, সাবিয়া সুলতানা, দৈনিক রূপসী বাংলার আয়েশা, ভোরের কাগজের লিয়া, সেলিনা আক্তার, এনসিপির নেত্রী ফারহা এমদাদ, অনন্যা, আজকের কুমিল্লার জুয়েল, বাগদাদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান আলম আলমগীর কবির, জুয়েল খন্দকার, ডিবিসির ক্যামেরাম্যান বিপ্লব, চ্যানেল বাংলাদেশের বিএম মহিউদ্দিন, নয়া দিগন্তের ডিজিটাল প্রতিনিধি ফাহিম মুনতাসির, রূপসী বাংলার ফারুক আজম, আমোদের শরীফ, আজকের কুমিল্লার ইউশা, সাংবাদিক মাহিন, দৈনিক পূর্বাশার স্টাফ রিপোর্টার আলাউদ্দিন, তামিম, বাংলাদেশ সমাচারের সাফি, ব্যবসায়ী আলমগীর, ক্যামেরা পার্সন সোহাগ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু। মিলাদ পরিচালনা করেন সিটিভি নিউজের সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ উল্লাহ মিয়াজী।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×