মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উচ্ছ্বসিত দলের নেতা-কর্মীরা, সম্মেলন রুপ নিচ্ছে মহাসমাবেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২, ১:১৩ পিএম
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উচ্ছ্বসিত দলের নেতা-কর্মীরা, সম্মেলন রুপ নিচ্ছে মহাসমাবেশে
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে এ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ শনিবার (৫ নবেম্বর) ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে আসছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি সহ দলের প্রায় এক ডজন কেনিদ্রয় নেতা। ৭৩ বছরের পুরনো সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা মহানগর শাখার প্রথম সম্মেলন উপলক্ষে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে কুমিল্লার আওয়ামী লীগ অনেক সংগঠিত । ঐক্যবদ্ধ নেতা-কর্মী সম্মেলন সফল করতে সপ্তাহজুড়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়েছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। টার্গেট সম্মেলন যেন রুপ পায় মহাসমাবেশে। পুরো কর্মকান্ড চলছে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা সম্মেলন সফল করতে আনন্দ মিছিল বের করে। খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে তারা নগরীর পূর্বালী চত্ত্বরে এসে মিলিত হন। পরে বিশাল মিছিল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। এসময় তারা কেন্দ্রিয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পরে বিশাল মিছিলটি পুনরায় পূর্বালী চত্বরে এসে সমবেত হয়। এসময় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত বক্তব্য রাখেন।
রিফাত বলেন, আমরা সকলে মিলে একটি সুন্দর সম্মেলনের সর্বাত্রক প্রস্তুতি নিয়েছি। কুমিল্লায় সারা দেশের জন্য অনুকরনীয় একটা সফল-সার্থক সম্মেলন আমরা উপহার দিব ইনশাল্লাহ। সুশৃংখলভাবে সবাই সকাল ৯ টার মধ্যে টাউন হল মাঠে চলে আসবেন। আমরা দিনটিকে আনন্দ উৎসবের আমেজে কাটাতে চাই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার প্রথমবারের মতো কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, বিশেষ অতিথি থাকছেন দলের অপর প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোফাজ্জর হোসেন চৌধুরী মায়া । প্রধান বক্তা হচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এবং বিশেষ বক্তা থাকবেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর সবুর ও তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সিটি মেয়র আরফানুল হক রিফাত। সভাপতিত্ব করবেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
শুক্রবার বিকেলে নগরী ঘুরে দেখা গেছে সর্বত্র উৎসবের আমেজ, নগরীর প্রধান সড়ক ছেয়ে গেছে কেনদ্রীয় নেতাদের ছবিসম্বলিত ফেস্টুন-ব্যানারে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষন উদযাপন করতে অধীর আগ্রহে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টাউন হল মাঠে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকলেও টাউন হলের আশেপাশের কান্দিরপাড় এলাকায় লাগানো হবে ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রজেক্টর। আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠানের লাইভ প্রচার করা হবে। কয়েকটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলও লাইভ প্রচার করবে বলে জানা গেছে। এই সম্মেলনটি একটি বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেন, কাউন্সিলরের সংখ্যা মাত্র সাড়ে ৪শত হলেও প্রথম পর্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেলিকেট- অতিথিসহ সম্মেলনে ১৬-২০ হাজার নেতা-কর্মীর সমাগম হবে বলে। টাউন হল মাঠে প্রস্তুত হয়েছে অতিথি ও নেতৃবৃন্দের জন্য ৮ হাজার চেয়ার। সম্প্রতি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেভাবে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছিল কুমিল্লায় মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও এর পুনরবৃত্তি ঘটবে।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি জানান, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে দলীয় নেতা-কর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির মিলনমেলা। দলের সকল নেতা-কর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ, বেশ উৎফুল্ল। আয়োজন সফল করতে নগরীর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কমীরা ব্যাপক প্রস্তুুতি নিয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন সারাদেশের জন্য একটি সফল-সার্থক মডেল সম্মেলন হবে।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শেষ করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। আয়োজন সফল করতে দিবা-নিশি কাজ করছেন নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে সম্মেলনের জন্য কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিশাল প্যান্ডেল সাজানো হচ্ছে। গত ৩০ অক্টোবর এ প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। মহানগর সম্মেলনের কলেবর আরও বাড়ানো হচ্ছে। সাজানো হচ্ছে নান্দনিকরূপে। নগরীর প্রবেশ পথ শাসনগাছা-কান্দিরপাড় সড়ক সহ গুরুত্বপূর্ন সড়কে ঝুলছে বঙ্গবন্ধু- দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রিয় নেতাদের ছবি সংবলিত পোস্টার-পেস্টুন। সর্বত্র যেন উৎসবের আমেজ।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০১৭ সালের ২২ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি করা হয় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারকে আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় বর্তমান মেয়র আরফানুল হক রিফাতকে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মহানগরের ২৭ ওয়ার্ডেই পৃথকভাবে বিশাল আয়োজনে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্মেলন করে মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা সারাদেশের জন্য অনুকরনীয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×