রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

কুরিয়ার সার্ভিস থেকে দিত ইট, চাকরি দিতে নিত খালি চেক!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩, ২:২৫ পিএম
কুরিয়ার সার্ভিস থেকে দিত ইট, চাকরি দিতে নিত খালি চেক!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

গ্রাহকের সেবা দেওয়ার কথা এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের। কিন্তু তা না করে প্রতিষ্ঠানটি লিপ্ত প্রতারণায়।

তাদের কাছে যারা পণ্য পরিবহনে জন্য অর্ডার করেন, তারা সঠিক বস্তুটি পান না। শুধু তাই নয়, এজেআর’র বিরুদ্ধে আছে স্বত্বাধিকারী সামসু উদ্দিন রিয়াদের বিরুদ্ধে আছে সরকারি সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ৫ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ।

এ সংক্রান্ত মামলার আসামিও তিনি। এমনকি তিনি চাকরি দিতেন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে খালি চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে।

সম্প্রতি এক গ্রাহক ঢাকা থেকে একটি মোবাইল চট্টগ্রাম পাঠাতে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সেবা নেন। কিন্তু গ্রাহককে মোবাইলের পরিবর্তে ইট দেয় চট্টগ্রামের এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস শাখা। পরবর্তীতে ওই গ্রাহক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন (সিএমপি) কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই উঠে আসে এজেআর’র অভিনব প্রতারণার বিষয়টি।

পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে। তারা একটি সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে, যেখানে দেখা যায় কীভাবে মোবাইলের বাক্সে ইট দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম শাখার ম্যানেজারের যোগসাজস ছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কিছুদিন আগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী সামসু উদ্দিন রিয়াদতে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে মানববন্ধন করেন বেশকয়েকজন ভুক্তভোগী। এতে অংশ নেওয়াদের সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি করতেন। তারাই অভিযোগ করেন- রিয়াদ তাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। সরকারি সিল-সই জালিয়াতি ও ৫ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকির মূল কারিগর তিনি। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান।

মানববন্ধকারীরা আরও জানান, চাকরিতে নিয়োগের সময় রিয়াদ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ব্যাংক চেকের খালি পাতা ও স্ট্যাম্প নিয়েছেন। পরে সেই চেকে মোটা অংক লিখে তাদের ব্ল্যাকমেইল করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিত্তশালী হয়েছেন। এখন তিনি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে চলাচল করেন। গ্রামে শত বিঘা জমির ওপর নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। শত কোটি টাকার মালিক তিনি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, এজেআর’র স্বত্বাধিকারী রিয়াদ চট্টগ্রামের একটি ট্রান্সপোর্টে কিছুদিন চাকরি করেন। পরে সেখান থেকে ঢাকায় এসে এজেআর ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি খোলেন। পরবর্তীতে এজেআর ট্রান্সপোর্ট পাল্টে হয় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে রিয়াদের বাড়ি। সেখানকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেও রিয়াদের প্রতারণা ও বিত্তশালী হয়ে ওঠার বিষয়টি জানা গেছে। তার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এলাকার গরিব-দুখীদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না করলেও রাজনীতির মাঠে রিয়াদ বেশ উদার। তিনি তার অনুসারীদের পেছনে প্রচুর খরচ করেন। স্থানীয় প্রতিটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও মোটা অংকের টাকা দেন। আগামীতে নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও করছেন তিনি।

ঢাকা-চট্টগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, গ্রাহক হয়রানিসহ গ্রাহকদের মালামাল নষ্টের ঘটনায় তারা এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে বার বার অভিযোগ করছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। প্রতিষ্ঠানটির অতীতের নানা অপরাধ, প্রতারণার বেশ কিছু প্রমাণ বাংলানিউজের কাছে আছে।

এজেআর ও রিয়াদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন ই-টপ ম্যাট্রেস’র কর্ণধার নাঈম। তিনি বলেন, আমাদের মালামাল পরিবহনের জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে এজেআর কুরিয়ারকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফরিদপুরে আমার ম্যাট্রেস পাঠানোর কথা ছিল। যা এজেআর কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সেটি নষ্ট হয়। সেভাবেই পণ্যটি তারা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়।

আগে যদিও তারা ভালোভাবে গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতেন। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে তাদের সেবার অবনতি ব্যাপক। গত কয়েক অর্ডারে এজেআর আমার কোম্পানির ম্যাট্রেস নষ্ট করেছে। গত ৮ জুন সাভারে একটি ম্যাট্রেস ডেলিভারি করা হয়। সেটির অবস্থা এতটাই খারাপ করে এজেআর, গ্রাহক নিজ অর্থ খরচ করে এমন পণ্য কেনে না। এ বিষয়ে এজেআর অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। রাজবাড়ীর একটি ডেলিভারিতেও তারা একই ঘটনা ঘটায়। এসব আমাদের আবার ফেরত আনাতে হয়েছে। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যেগুলো খারাপ অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছি, সেগুলো পরিবর্তন করে কাস্টমারকে আবার দিতে হয়েছে। কিন্তু এজেআর ফের একই কাজে করে।

মিম ম্যাট্রেস অ্যান্ড ফার্নিচার নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানেরও একই অভিযোগ করে। তারা তাদের অভিযোগের বিষয়ে রিয়াদকেও জানায়। কিন্তু তিনি কোনো সুরাহা করেননি।

এসব বিষয়ে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী সামসু উদ্দিন রিয়াদের সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন (সিএমপি) কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির মোবাইলের বদলে ইট দেওয়ার ঘটনায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম শাখার জড়িত কর্মীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।

রিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার বিষয়ে বাংলানিউজকে জানান উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদি আমি নিজেই। মামলার কার্যক্রম চলমান। চলতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ মামলার হাজিরা রয়েছে। তা ছাড়া আমরা রিয়াদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

কুমিল্লার ডাক ডেস্ক।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম
বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও আশপাশের এলাকায় বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে পরিচিতি পেয়েছেন মো. গোলাম সারোয়ার। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দানবীর হাজী জুনাব আলী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সেই সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে গোলাম সারোয়ারের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং মহানগর দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফাইন টাওয়ারের চেয়ারম্যান। এছাড়া কয়েকটি কমপ্লেক্সের পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গোলাম সারোয়ার সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম সারোয়ার নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এলাকার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলার প্রসারে সহযোগিতা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অনুদান দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।

করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নিজ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তাঁদের মতে, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মানসিকতাই গোলাম সারোয়ারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয় ভোটার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গোলাম সারোয়ারের সততা, নম্রতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাঁকে স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিমসার ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, গোলাম সারোয়ার আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এলাকার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশাকে ঘিরে গোলাম সারোয়ারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নিমসার ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিপদে মানুষের পাশে থাকার যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছেন, সেটিই এখন সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের সাথে বেঈমানি করেছে। যেই জুলাই সনদকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছে, আজকে তারাই সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানী তেল নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই শব্দ। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তাহলে কি মাত্র ছয়মাসেই উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেছে? উনি এখন বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চায়। আমরা তাকে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান দিয়েছি, সেই প্ল্যান শোনার পর আর কোন কথা নাই। বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সুফলও দেখাতে পারছেনা বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি আপনার প্ল্যান শেষ হয়ে যায় তাহলে জনগণের কাছে স্যারেন্ডার করুন। অন্যথায় আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সকল কিছু পালন করবো।

তিনি শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে দুটি পৃথক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সরকারকে গালি দিয়ে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো, দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ আর আসছিলো না। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরঝর করে পড়ছিলো। রাগে ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। আমরা তার করা এসব অশালীন গালমন্দকে কখনোই সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর দলীয় সন্ত্রাসীরা সিফাত আব্দুল্লাহকে ব্যাপক প্রহার করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর হাতে কি কোন অস্ত্র ছিলো? কুড়াল ছিলো? দা ছিলো? পিস্তল ছিলো? যদি নাই বা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে। এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরাও তো সরকারের বিরোধীতা করে থাকি। আপনার যদি সাহস থাকে তাহলে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় আমার দেশের দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করেছে, শাপলা চত্ত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করুন। বিনিময়ে যদি কাউকে জেলে নিতে হয়, তাহলে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান। তারপরও এই সকল হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করুন।

জামায়াতের আমীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আপনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। সেই ওয়াদা পূরণ করুন। আমরা সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. শাহজালাল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তুষার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মো. আবুল খায়ের, মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা এনসিপি নেতা মো. মামুন মজুমদার, জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল রেজাউল করিম শামীম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিবির নেতা মো. মোজাম্মেল হক সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে দিনমজুর আবুল হাশেম ও বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়ে যুবক আবদুর রহমান সহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৬০) ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (২২)। পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ও বাতিসা বৈদ্দ্যের বাজার নামক এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহাম্মেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পাড়াপারের সময় দিনমজুর আবুল হাশেমকে অজ্ঞাতনামা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী শাহেনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ^বর্তী স্থানে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমরা আজ পথের পথিক।

অপরদিকে একইদিন বেলা ১২টায় উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, নিহত আবদুর রহমান শনিবার দুপুরে তার এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে গিয়ে একটি ভ্যানগাড়ীর সাথে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় পেছন দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হাশেম এবং আব্দুর রহমান নামের দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আনা হলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহম্মেদ জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই নিহত আব্দুর রহমানের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই স্বজনরা নিয়ে যায়। অপর দুর্ঘটনায় নিহত আবুল হাশেমের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

×