ছিনতাইয়ের ঘটনা সত্য, মামলা নিতে অস্বীকার পুলিশের!
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা এলাকার কচুয়া চৌমুহনী সংলগ্ন স্থানে এক ভয়ংকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যবসায়ীর মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। তা সত্ত্বেও, ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ডিসেম্বর তিনি ব্যবসায়িক কাজে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। পদুয়ারবাজার জাঙ্গালিয়া পার হয়ে কচুয়া চৌমুহনীতে পৌঁছালে সাদা রংয়ের এক্সজিও গাড়ি দিয়ে ডাকাতদল তার অটোরিকশা গতিরোধ করে। ডাকাতদল তাকে জিম্মি করে দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের দুটো মোবাইল হ্যান্ডসেট, এটিএম কার্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন, এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এমনকি মোবাইল ব্যাংকিং নগদ অ্যাপ থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা আরাফাত হোসেন বুশরা চিহ্নিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, বুশরার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং নতুন করে মামলা করার প্রয়োজন নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুশরা কুমিল্লার মূর্তিমান আতঙ্ক। তিনি প্রবাস ফেরত লোকদের টার্গেট করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে নেন। পুলিশ যদি এই অভিযোগগুলিকে আমলে নিতো, তাহলে শতাধিক মামলা করতে হতো। অনেকেই মনে করেন, পুলিশের অদৃশ্য কোনো শক্তির ঈশারায় বুশরার বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে অভিযোগকারীদের বুঝিয়ে ফেরত দেয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা থাকা সত্ত্বেও মামলা এফআইআর না করায় পুলিশের হয়রানি ও অবহেলা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায়, বুশরা ও তার বাহিনী আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এটি প্রবাস ফেরত লোকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন সতর্কবার্তা।
ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বুশরার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীর অভিযোগ পেয়েছি, বুশরাকে গ্রেফতার করলে সব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।


















