শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছোটবেলায় পুলিশ নিয়ে ভাবনা ও কিছু কথা যা ভুলতে পারবোনা

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান : প্রকাশিত: সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩, ৭:৩৮ এএম
ছোটবেলায় পুলিশ নিয়ে ভাবনা ও কিছু কথা যা ভুলতে পারবোনা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পুলিশকে দেখে আসছি অনেক আগে থেকে, সরকারী কলোনীতে জন্ম প্রথম পুলিশ দেখেছি প্রতিবেশী হিসেবেই, হয়তো সে কারণে কিনা জানিনা পুলিশকে আমার কখনো ভয় লাগতোনা বরং একটু একা বেড়ানোর সুযোগ বা বয়সের যোগ্যতা যেটাই বলিনা কেন ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে পুলিশকে ”টোলা” বলতে দেখেছি তখন পুলিশকে এত অসহায় অবস্থা পরতে এর আগে কখনো দেখিনি, আবার যখন কোন দু গ্রুপের মারামারির মাঝখানে পরে যেতাম তখন পুলিশকে মনে হতো বন্ধুটাইপ খারাপনা।

কোন এক সময় কুমিল্লায় নায়ক নায়িকাদের প্রীতি ফুটবল যতবারই আয়োজন হতে দেখেছি ততবারই ফলাফল জনতা পুলিশ সংঘর্ষ, তবে তখন ১২৯০ নম্বরের একটি মাত্র পুলিশ টহল গাড়ী, তখন কেউ কেউ ভয় দেখানোর জন্য বলতো আইলোরে ১২৯০ তবে এরশাদের পুরো আমলটাতে পুলিশই যেনো জনগনের প্রধান শত্রু হিসাবে আবির্ভূত হলো, তারপরও পুলিশকে সহনীয় শত্রুই মনে হয়েছে, দাঙ্গা পুলিশ নামে রিজার্ভ পুলিশ বড় দুটি ট্রাকে করে আসতো তখন দৌড়ে পালাতে হতো ভালো কিংবা মন্দ সকলকেই তারা বাছ বিচার ছাড়াই ঠ‍্যাংগাতো। থানার পুলিশের মতোনা তারা আসতো যেন শুধু মারার জন্যই, এইরকম একবার নিউ মার্কেটের সামনে আক্রান্ত হলাম পরে দেখি যতজনই দৌড়ে পালাতে পেরেছি ভেবেছি যাক বেচে গেছি। কিন্তু পরোক্ষণেই আবিস্কার প্রত্যেকেরই পায়ের গিরার নীচে লাঠির বারি খেতে হয়েছে, শওকত লিয়াকত এর সামনে মোর্শেদুল আলম নামের একজন সহকর্মীর দেখলাম পায়ের গোড়ালী ফেটে রক্ত বেড়িয়ে গেছে, আমার রক্ত বের না হলেও গোড়ালী ফোলে গেছে ব‍্যথায় টনটন করছে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন আস্তে আস্তে তুঙ্গে পুলিশকে শ্লোগানের মধ্যেই বুঝানোর যেনো প্রচেষ্টা,

”পুলিশ তুমি যতোই মারো,
বেতন তোমার ৪১২ চারশ’ বারো”

জানিনা তখন কি আসলেই পুলিশের বেতন ৪১২ ছিলো কিনা।নিশ্চয়ই ছিলো, হয়তো পুলিশের বেতন সে কারনেই বাড়ানো হয়েছিলো কিনা কে জানে।

ছোটরা কলোনীতে পুলিশের দারোগা থাকতেন নামটা মনে পরছনা ”মনু আপার আব্বা” মনু ও ঝুনু আপা। লেখাটা এডিট করতে গিয়ে আজকে নামটা মনে পড়েছে আব্দুল হাই। আমি শিক্ষকের সন্তান ছিলাম ঠিক তাই বলেনা সমাজের ধারনা বহু আগে থেকেই সমাজে প্রচলিত ছিল পুলিশ বিভিন্ন অফিসের কেরানী মানেই ঘুষখোর তাই তাদের পেট বড় ছিলো। মনু আপার আব্বা অনে বড় শরীর পেটও বড় ছিল কিন্তু তিনি ঘুষ খেতেন কিনা এটা বলা মুশকিল। তখন আমি অনেক ছোট আশ্চর্য হওয়ার বিষয় আমার বয়স তখন পাঁচ পেড়িয়ে মাত্র ছয় বছর বয়স। অনেক ছোট তবে অন্যদের তুলোনায় অনেক ছোট্ট কালের বিশেষ কিছু আমার মনে থেকে যায় বা আছে এবং আমার স্মরনে থাকে বলে কাছের অন্য অনেকের মতামত। আলহামদুলিল্লাহ্।

যেমন মন্নানের মুদি দোকান, সাথে কাপড় ইস্ত্রীর দোকান, নাম কি ছিলো জানিনা মোটারামের দোকান বলতো, তবে লোকটা মুসলিম ছিলো, একদিন কেউ বাসা থেকে বাহির হয়না, আমি দোকানে যাবার জন্য কলোনীর কোনাতে যাইতেই দেখি মনু আপার আব্বার ডিউটি তিনি বললেন কার্ফুয়ের মধ্যে স্যারে ছেলে কই যাস, বললাম দোকানে যাবো আর আসবো, বললেন দেরী করিসনা, যা, গেলাম রং দেয়া বুটও কিনলাম খেতে খেতে আসছি, পরে জানলাম ঐ দিনটি ছিলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বা ঘটনা পরবর্তী কোন একটা দিন।

এরপর শহীদ জিয়ার আমলে কতো কিছু পুলিশের মাধ্যমে দেখেছি, যেমন সান্ধ্য আইন, সন্ধ্যার মধ্যে সব ঘরে থাকতে হবে বাহিরে আসা যাবেনা, এরপর হঠাৎ দেখলাম আইন সাইরেন বাজানোর সাথে সাথে রাত ৮টার সময় কারেন্ট থাকলেও বাতি বন্ধ করার ব্যাপার, পরে জানলাম এগুলো ছিলো উনার একধরনের যুদ্ধের কৌশল তিনিই ভালো জানতেন আমাদের শত্রু কারা। বিমান থেকে কোনটা শহর কোনটা গ্রাম বুঝতে না দেয়ার কৌশুল তবে আজো জানিনা এটা কাদের সাথে যুদ্ধ ভেবে করা হয়েছিলো।

শমশের দারোগা আমাদের পরিচিত স্বপন ভাইয়ের আব্বা তিনি একটু উচ্চ পদে ছিলেন। রূহুল আমিন ট্রাফিক পাশাপাশি হাত কাটা পুলিশ থাকতেন তবে তার নামটা মনে নেই। তবলিগ বলে ডাকতো। তিনি যখন তবললীগে যেতেন সংসার চলতো পুলিশের রেশনে যা পাওয়া যেত তা দিয়ে। তবে পরিবারের পর্দার কড়াকড়ির কারণে বিশেষ কিছু জানা ছিলোনা। উনার বছর বছর আল্লাহর নেয়ামতে বাচ্চা হতো তবে চারটাই কণ‍্যা সন্তান। উনার বাচ্চাদেরকেও তিনি ছোট বয়স থেকে ওড়না ঠিক তা না বর্তমানে যে হিজাব পরে এগুলো পড়াতেন।

যতটুকু মনে পড়ে উনার সবগুলো মেয়ে খুবই সুন্দরী ছিলেন। তিনি একবার তাবলীগে সময় লাগাতে চলে গেছেন তিন চিল্লা মানে ১২০ দিনের জন‍্যে। আর উনার বউ আবার সন্তান সম্ভবা বাচ্চা হবে তখন হয়তো তিনি রাজশাহী অঞ্চলে আছেন। পাশের বাসায় থাকতেন আমার খুব কাছের মানুষ কিবরিয়া ভাইয়ের ভাই ট্রাফিক পুলিশ রুহুল আমিন। হাতকাটা তবলিগের স্ত্রীর বাচ্চা হবে হাসপাতালে নিতে হবে। Ambulance আনা হলো কিন্তু মহিলা একটু বেশী অসুস্থ। রূহুল আমিন ভাই মহিলাকে পাজা কোলে করে নামিয়ে হাসপাতালে নিলেন, এ ঘটনার পর নতুন ইস‍্যু হাতকাটা তাবলীগ কামডা করলো কিতা। সবাই মিলে তাবলীগের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার।

মহিলাটির পঞ্চমবারের মতো মেয়েই হইলো, মেয়ে গুলো একটা থেকে যেন একটা সুন্দর বেশী, হাত কাটা পুলিশ বোধ হয় পুত্র সন্তান পাবার আশায় ১২০ দিন সময় লাগিয়ে এসেছে। তিনি ফেরত আসলেন তখন ছোটরা সরকারী কলোনী জমজমাট। বিরাট সোসাইটি। মানুষ তাকে নানান কথা শোনাতেন সুযোগ পাইলে কে ছাড়ে। হাতকাটার মন যেনো আরো খারাপ হয়ে গেলো। তার বউকে পরপুরুষ কোলে নিয়ে যেতে হয়েছে আর সে তবলিগ করতে গেছে। এসব নিয়ে মুখরোচক আলোচনা।

শুক্রবার জুমার সালাত মসজিদ তখন জামপেট ফুলফিল বাহিরেও কাতার। ইমাম আব্দুল মালেক হুজুর জুমার খুৎবার আগে বাংলা বয়ান অনেকে বলেন বাংলা খুৎবা সেই বাংলা খুৎবাও অবশ্য বার চাঁন্দের খুৎবা থেকে বাংলা তরজমাটাই পাঠ করতেন কেননা পরে জেনেছি উনার জ্ঞানের বহর দেড়হাতের বেশী ছিলোনা যাক ইমাম সাহেবের টপিক আলাদা। বার চাঁন্দের খুৎবায় অটোমেটিক যা লেখা আছে সেই খুৎবা দিতে গিয়ে বললেন-

“যার একটি মেয়ে বা কণ্যা সন্তান তার জন্য একটি জান্নাত দেয়ার ওয়াদা আল্লাহ পাক করেছেন। ঠিক তখনই সব মুসুল্লি মনের অজান্তেই হাত কাটার দিকেই যেন সবাই বার বার তাকাচ্ছেন, হাতকাটার মনের অবস্থা অনুমেয় মনে মনে পারলে হুজুরকে বলে যে, নিজেরতো প্রথমেই দুই পোলা ”হাসান আর হোসাইন, আর আমার বেলা জান্নাত” তাই কিনা জানিনা হাতকাটা পুলিশ তার পঞ্চম মেয়ের নাম রাখলেন ”জান্নাত”, পরে জানতে পারলাম ব‍্যপারটা আমাদের নিকট থেকে শোনে আমার বাবা হাতকাটাকে আমাদের বাসায় ডেকে এনে কি কি জানি বুঝিয়েেছেন। উল্লেখ্য যে আমার বাবা তখন মসজিদের সেক্রেটারি পাশাপাশি তিনি ছিলেন অজাতশত্রু সবার শ্রদ্ধেয় ব‍্যক্তি মানুষ পীর সাহেবের মতো ভক্তি করতো। তিনি এলাকার বিচার আচারে অবশ‍্য যেতেন না। যতকিছু ভালো তার সাথে প্রথম আলো টাইপ মূল কথা যে কাজ করলে সোয়াব হইতে পারে সেটা করতেন বাকি সব এড়িয়ে চলতেন। আসলে আমার বাবা হাত কাটাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন আর উনার ভুলটা ধরিয়ে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন। হয়তো হাত কাটার হাত খালি আব্বার দৃষ্টিতে কর্জে হাসানা। কেননা সোয়াব আছে। যাক সেসব কথা।

এরপর আসলেন মোসলেম দারোগা, মোটা বলে নাম পরলো ”পেটলা দারোগা” কাঠাল কিনলে দুটো, তরমুজ কিনলে দুটো, মানুষ খেয়াল করতো আসলে লোক সংখ্যা কমনা ইনিরও একটি ছেলের পর পাঁচটা মেয়ে বউ আবারো পোয়াতি, মানুষের ধারনা দুটি আনতেন ”নিজের জন্য একটা আর সবার জন্য একটা, তবে আমি উনার ছেলের নিকট থেকে জেনেছি মানুষের ধারনা ভুল” এরপর আসলো অসীম দারোগা, মুখে পোলাপানের খুব প্রশংসা আর পেছনে গেলে পোলাপানকে সন্দেহ করা, বড় হয়ে যখন জালাম পুলিশের প্রধান ও প্রথম কাজ নাকি সন্দেহ করা, এটা জানার পর উনার প্রতি আমার মনের রাগটা আর বিশেষ ছিলোনা।

একদিন শুক্রুবারে সবাই টিভি দেখছেন, তিন তলা বাসার ছাদে কে যেন কুকুরের বাচ্চা নিয়া তুলছে মোসলেম দারোগার রাগ ছিলো বেশী, তিন তলা থেকে কুকুরের বাচ্চাটিকে আছাড় মারতে গিয়ে ইলেক্ট্রিকের তারে লেগে শর্ট সার্কিট করে কুকুরটি যদিও বেচে যায় তবে প্রায় ৩১ বাসার টিভি শর্ট সার্কিটে নষ্ট হয়ে গেল। সবাই টিভি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা লাগছে, পেটলা দারোগা শোনার পর মনটা তার খারাপ লেগেছে দূর ছাই কি করতে কি করে ফেললাম, অপরাধবোধে ঐ দিন নীচে নামেননি পোলাপানকি জানে এতোসব আবার খেলতে গিয়ে কুকুর ছানা আছরের আযানের আগেই আবার সেই স্থানে কুকুরের ডাক তখন মোসলেম দারোগার নিকট তেমন আর খারাপ লাগছেনা, মনে মনে নিজেকে শাসালেন গেউগেউ ডাকুক কুকুর ডাকুইন্না জিনিস আমি বাধা দেবার কে।

 

লেখক : এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান, জজকোর্ট, কুমিল্লা।

আইন বিষয়ক উপদেষ্টা : দৈনিক কুমিল্লার ডাক।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×