সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

জোট নিয়ে কৌশলী আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩, ৩:৫৮ এএম
জোট নিয়ে কৌশলী আওয়ামী লীগ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটগত ভোট নিয়ে কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। জোট কৌশলে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এমন অবস্থান নিয়েছে দলটি।

 

দলীয় সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দল আগে থেকেই নির্বাচনি জোট নয়, এটি আদর্শিক জোট বলে দাবি করে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনেকেই জোটবদ্ধ বা এককভাবে ভোট করার কথা জানিয়েছে ইসিকে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটসহ জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি আলাদাভাবে জোটবদ্ধ ও এককভাবে ভোটে অংশ নিতে ইসিতে আবেদন করেছে জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপি। সঙ্গত কারণে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে কিছু না জানিয়ে ভোটের প্রস্তুতির কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। যাতে কেউ নিরাস না হয় সেই পথে হাঁটছে দলটি। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা নিয়ে ধোয়াশা থাকায় এমন কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন কমিশনের কাছে জোট ও এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার কথা জানানো দলগুলোকে নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী করার কথাও ভাবছে ক্ষমতাসীনরা। একই সঙ্গে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে এসব দলকে দিয়ে এককভাবে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে ভোট করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে আওয়ামী লীগ। কারণ আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে চায় দলটি। এ জন্য তুরুপের তাস হিসেবে জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপিকে বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে ক্ষেপেছে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো।

 

সূত্র আরও জানায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিকরা অনেক আগ থেকেই বলে আসছে, আসন ভাগাভাগির বিষয়ে। এ নিয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন শরিক দলগুলোর নেতারা। ওই সময়ে জোট নেত্রী বলেছেন, প্রত্যেক দলকে অন্তত একটি করে প্রার্থী দেব। এর বাইরেও যদি কোনো দলে একাধিক প্রার্থী যোগ্য থাকেন, তাদেরও ১৪ দলীয় জোটে প্রার্থী দেওয়া হবে। এতে অনেকটা আশ^স্ত হয়েছিলেন শরিক দলগুলোর নেতারা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম গত ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু করে। এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। কিন্তু এখনও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো সাড়া মেলেনি। এতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের কোনো কোনো

নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিএনপি আসবে কি আসবে না, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নেব, না এককভাবে অংশগ্রহণ করব, সেটি সিদ্ধান্ত হবে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপিকে সঙ্গে নিয়েও মহাজোট হতে পারে। আর বিএনপি না এলে জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপি আলাদা প্রতীকে নির্বাচনে করবে।

 

১৪ দলের শরিক দলগুলোর একাধিক শীর্ষ নেতা সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ জোট নিয়ে কৌশল অবলম্বন করছে। তারা বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, তা নিয়ে অনেকটা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। সঙ্গত কারণে আওয়ামী লীগ এখন কী করবে? কোন পথে হাঁটবে সেটি বুঝে উঠতে পারছে না। আওয়ামী লীগ বিগত দিনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলকে আদর্শিক জোট বলে এলেও তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে ১৪ দলের মধ্যে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। তারা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করলেও আমাদের সঙ্গে এখনও কোনো আলোচনা করেনি। এটা একটি আদর্শিক জোটের কাজ হতে পারে না। তারপরও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর মধ্যে অনেকেই দলীয় ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ চলছে। বিশেষ করে নির্বাচন ১৪ দলীয় জোটের হবে নাকি, আবারও মহাজোট হবে-বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের পরিকল্পনা, না এলে অন্য পরিকল্পনায় নির্বাচনে যাবে ক্ষমতাসীনরা। এর ওপর নির্ভর করবে জোটভুক্ত দলগুলোর আসন সংখ্যা বাড়া বা কমা। আশা করি, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার আগে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবে।

 

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু এক বৈঠকে জানান, ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচন করবে। জোট শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি জোটনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত করবেন। শিগগিরই তিনি জোট নেতাদের ডাকবেন, তাদের সঙ্গে বসেই এটা ঠিক করবেন।

 

আওয়ামী লীগ দলগতভাবে নির্বাচন করবে, নাকি জোটগতভাবে করবে? জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোটে থাকবে কি না? নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তার দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সময়মতো সব জানানো হবে।

 

১৪ দলের শরিক দলের এক প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ১৪ দলীয় জোটকে নির্বাচনি জোট না বলে আদর্শিক বললেও এখন সেটি লক্ষ করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করে তফসিল ঘোষণা করছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এখনও কোনো আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করেনি। এটা কোনো শুভ লক্ষণ নয়। হয়তো বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার দিকে তাকিয়ে আছে আওয়ামী লীগ। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে দলটি। এই মুহূর্তে জোটকে আরও দৃশ্যমান করা ও ১৪ দলের মধ্যে আসন বণ্টন করে প্রার্থীদের এখনই মাঠে নামিয়ে দিতে। তবে আওয়ামী লীগের মতো নিজেরাও দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রম শুরু করছে। ঠিক করছেন নিজেদের প্রার্থী তালিকা। শিগগিরই এ বিষয়টি জোটনেত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছি।

 

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগসহ ৮টি রাজনৈতিক দল। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, জোটগতভাবে ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য শনিবারই ছিল শেষ সময়। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আবেদন জমা দিয়েছে-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও তরিকত ফেডারেশন। আর আলাদাভাবে ভোটে অংশ নিতে আবেদন করেছে জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপি। আওয়ামী লীগ বলেছে, তারা জোটবদ্ধ ও এককভাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ নির্বাচন করবে। আর সভাপতির স্বাক্ষরে তারা নমিনেশন দেবে। তবে আওয়ামী লীগ কোন কোন দলের সঙ্গে জোট করবে ইসিতে দেওয়া চিঠিতে তা উল্লেখ করেনি। সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকা প্রতীক নিয়ে করবে বলেছে। গণতন্ত্রী পার্টিও নৌকা প্রতীকে ভোট করবে বলে চিঠি দিয়েছে। জাপার দুটি চিঠি এসেছে। জিএম কাদের বলেছেন, তার সইয়ে মনোনয়ন হবে। আবার রওশন এরশাদ বলেছেন, তারা জোটে ভোট করবেন।

 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সময়ের আলোকে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে প্রতিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে ১৪ দলের ঐক্য ও ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই খুব দ্রুত ১৪ দলকে নির্বাচনি ইস্যুতে আসন বণ্টন করে প্রার্থীদের এখনই মাঠে নামিয়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগকে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো সদুত্তর পাইনি। তবে ৩০টি আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কাজ শুরু করেছি।

 

জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, এবারও কেন্দ্রীয় ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। আমরাও দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কাজটি করছি। পরে প্রার্থীদের তালিকা জোটনেত্রীর কাছে পাঠাব। তিনি সব কিছু ঠিক করবেন। আমরা গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে দুটি অপশনই রেখেছিলাম। এবারও ইসিতে চিঠি দিয়ে সেটাই জানিয়ে দিয়েছি।

 

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সময়ের আলোকে বলেন, আমরা ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচন করব। তবে এখনও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×