মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ডোবা নর্দমা থেকে ২১নং ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করেছেন কাউন্সিলর মাহাবুব

আরিফ আজগরঃ প্রকাশিত: রবিবার, ১ মে, ২০২২, ৭:৪৭ এএম
ডোবা নর্দমা থেকে ২১নং ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করেছেন কাউন্সিলর মাহাবুব
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান। ২১নং ওয়ার্ডের মানুষের হৃদয়ে মিশে গিয়ে বিরল এক নজির সৃষ্টি করেছেন কুমিল্লায়। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠনের পর ২০১২ সালে প্রথম সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ২১নং ওয়ার্ডের মানুষের জোরালো অনুরোধে ভোটের মাঠে আসেন কাজী মাহবুবুর রহমান। তখন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৩৫ ভোট বেশি পেয়ে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কাজী মাহবুবুর রহমান। নির্বাচিত হয়ে, অবহেলা আর অবজ্ঞায় জর্জরিত ২১নং ওয়ার্ডের বেহাল দশার হাল ধরেন তিনি। জনদুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকা মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ শুরু করেন নিরলসভাবে। নিজের পরিবার, পরিজন একপাশে রেখে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন ওয়ার্ডের উন্নয়নে। নগরীর আশরাফপুর, শাকতলা, নোয়াগাঁও, গোবিন্দপুর এই ৪ গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ২১নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। দুর্দশায় জর্জরিত ওয়ার্ডের হাল ধরে প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে চেয়ারে বসার পর ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নক্কর জক্কর রাস্তাগুলো মেরামতে জোরালো মনস্থির করেন তিনি। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১২ কোটি টাকার কাজ করেছিলেন কাজী মাহবুবুর রহমান। ৫ বছরের শাসনামলে ওয়ার্ডের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছেন নান্দনিক আচার ব্যবহার আর উন্নয়ন এবং সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে। প্রথম ৫ বছরে ওয়ার্ডের ড্রেনেজ আর রাস্তা সংস্কারে তাক লাগিয়ে ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড গঠনের প্রথম ধাপ পার করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের সিটি নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাজী মাহবুবুর রহমান। সেইবার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৭০০ ভোট বেশি পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কাজী মাহবুবুর রহমান। দ্বিতীয়বারের মতো বসলেন শাসকের চেয়ারে। সুযোগ পেলেন অসমাপ্ত কাজগুলো পরিপূর্ণ সম্পন্ন করার। দ্বিতীয় টার্মে জয়লাভের পর ওয়ার্ডের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর হওয়ার পর ওয়ার্ডে ৪৭ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন তিনি। এছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২১নং ওয়ার্ডের জন্য ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছেন তিনি। একটি অত্যাধুনিক মডেল ওয়ার্ড গঠনে এই অর্থ ব্যায় করা হবে বলে জানান তিনি। দুইবারে ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে পানি নিষ্কাশনের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে শতভাগ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেছেন, পাশাপাশি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সড়ক নির্মান, পুননির্মাণ করে ওয়ার্ডকে একটি গোছানো, দৃষ্টিনন্দন সর্বোপরি মডেল ওয়ার্ডে রূপ দিয়েছেন কাজী মাহবুবুর রহমান। ওই ওয়ার্ডে এখন একটিও সড়ক নেই যেখানে উন্নয়নের স্পর্শ লাগেনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা শতভাগ সুপ্রসন্ন করে বর্ষার পানি নিষ্কাশনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ফলে, এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দলমত নির্বিশেষে কাজী মাহবুবুর রহমানকে গেঁথে নিয়েছেন তাদের মনের মনিকোঠায়। এসব উন্নয়নের পাশাপাশি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কোনোরকম হয়রানি ছাড়াই মানুষের জন্মনিবন্ধন করে দিয়েছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে ভোগান্তি ফেলা থেকে নিজেকে এবং ওয়ার্ড সচিবকে সচ্ছলতার সাথে পরিচালনা করেছেন, ফলে ২১নং ওয়ার্ডের মানুষের মুখে মুখে কেবল কাজী মাহবুবুর রহমানের নাম। এর বাইরেও ওয়ার্ডের অসচ্ছল, হতদরিদ্র, মানুষের বিভিন্ন আর্থিক সহায়তার হাত কখনোই বন্ধ রাখেননি তিনি। এছাড়াও দশ বছরের শাসনামলে ওয়ার্ডের মানুষের জায়গা-জমি সংক্রান্ত অনেক জটিল সমস্যার সমাধান, আর্থিক লেনদেনের ঝামেলা, বিবাহ বিচ্ছেদসহ অনেক মামলা মোকদ্দমার জটিল সমস্যারও সমাধান করেছেন পক্ষপাতহীন ভাবে। ফলে, এ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ কাজী মাহবুবুর রহমানের বিকল্প সেবক হিসেবে কাউকে চিন্তা করছে না। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান না হলেও কাজী মাহবুবুর রহমানের রয়েছে বর্ণাঢ্য শিক্ষা জীবন। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা কাজী মাহবুবুর রহমান ভোটের মাঠে আসার কারণ হিসেবে জানালেন, ১৯৯৭ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর লাশ কাঁধে করে আনতে তুমুল বেগ পোহাতে হয়েছিল, রাস্তাঘাট না থাকায় এই ভোগান্তি জুটেছিল। মনে চাপা কষ্ট জমা রেখে অপেক্ষায় ছিলেন ভোটের মাঠে আসার। ঠিক ২০১২ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের মানুষের জোর দাবির মুখে এবং ওয়ার্ডের দুঃখ দুর্দশার কথা চিন্তা করে জনগণের সেবা করার মহান ব্রত নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হন কাজী মাহবুবুর রহমান। পরপর দুইবার কাউন্সিলর হিসেবে ওয়ার্ডের জনগণ খুব কাছে পেয়েছে যেকোনো ডাকে। তাই আসছে সিটি নির্বাচনেও কাজী মাহবুবুর রহমানের বিকল্প কাউকে ভাবছে না কুমিল্লা সিটির ২১নং ওয়ার্ডের ৪ গ্রামের ১৪ হাজার ভোটার। এবারও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ আমাকে আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় উপহার দেবে কোনো সন্দেহ নেই। অপরদিকে, এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে হ্যাট্টিক জয় হবে ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমানের।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×