ডোবা নর্দমা থেকে ২১নং ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করেছেন কাউন্সিলর মাহাবুব
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান। ২১নং ওয়ার্ডের মানুষের হৃদয়ে মিশে গিয়ে বিরল এক নজির সৃষ্টি করেছেন কুমিল্লায়। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠনের পর ২০১২ সালে প্রথম সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ২১নং ওয়ার্ডের মানুষের জোরালো অনুরোধে ভোটের মাঠে আসেন কাজী মাহবুবুর রহমান। তখন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৩৫ ভোট বেশি পেয়ে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কাজী মাহবুবুর রহমান। নির্বাচিত হয়ে, অবহেলা আর অবজ্ঞায় জর্জরিত ২১নং ওয়ার্ডের বেহাল দশার হাল ধরেন তিনি। জনদুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকা মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ শুরু করেন নিরলসভাবে। নিজের পরিবার, পরিজন একপাশে রেখে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন ওয়ার্ডের উন্নয়নে। নগরীর আশরাফপুর, শাকতলা, নোয়াগাঁও, গোবিন্দপুর এই ৪ গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ২১নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। দুর্দশায় জর্জরিত ওয়ার্ডের হাল ধরে প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে চেয়ারে বসার পর ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নক্কর জক্কর রাস্তাগুলো মেরামতে জোরালো মনস্থির করেন তিনি। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১২ কোটি টাকার কাজ করেছিলেন কাজী মাহবুবুর রহমান। ৫ বছরের শাসনামলে ওয়ার্ডের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছেন নান্দনিক আচার ব্যবহার আর উন্নয়ন এবং সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে। প্রথম ৫ বছরে ওয়ার্ডের ড্রেনেজ আর রাস্তা সংস্কারে তাক লাগিয়ে ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড গঠনের প্রথম ধাপ পার করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের সিটি নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাজী মাহবুবুর রহমান। সেইবার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৭০০ ভোট বেশি পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কাজী মাহবুবুর রহমান। দ্বিতীয়বারের মতো বসলেন শাসকের চেয়ারে। সুযোগ পেলেন অসমাপ্ত কাজগুলো পরিপূর্ণ সম্পন্ন করার। দ্বিতীয় টার্মে জয়লাভের পর ওয়ার্ডের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর হওয়ার পর ওয়ার্ডে ৪৭ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন তিনি। এছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২১নং ওয়ার্ডের জন্য ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছেন তিনি। একটি অত্যাধুনিক মডেল ওয়ার্ড গঠনে এই অর্থ ব্যায় করা হবে বলে জানান তিনি। দুইবারে ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে পানি নিষ্কাশনের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে শতভাগ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেছেন, পাশাপাশি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সড়ক নির্মান, পুননির্মাণ করে ওয়ার্ডকে একটি গোছানো, দৃষ্টিনন্দন সর্বোপরি মডেল ওয়ার্ডে রূপ দিয়েছেন কাজী মাহবুবুর রহমান। ওই ওয়ার্ডে এখন একটিও সড়ক নেই যেখানে উন্নয়নের স্পর্শ লাগেনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা শতভাগ সুপ্রসন্ন করে বর্ষার পানি নিষ্কাশনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ফলে, এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দলমত নির্বিশেষে কাজী মাহবুবুর রহমানকে গেঁথে নিয়েছেন তাদের মনের মনিকোঠায়। এসব উন্নয়নের পাশাপাশি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কোনোরকম হয়রানি ছাড়াই মানুষের জন্মনিবন্ধন করে দিয়েছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে ভোগান্তি ফেলা থেকে নিজেকে এবং ওয়ার্ড সচিবকে সচ্ছলতার সাথে পরিচালনা করেছেন, ফলে ২১নং ওয়ার্ডের মানুষের মুখে মুখে কেবল কাজী মাহবুবুর রহমানের নাম। এর বাইরেও ওয়ার্ডের অসচ্ছল, হতদরিদ্র, মানুষের বিভিন্ন আর্থিক সহায়তার হাত কখনোই বন্ধ রাখেননি তিনি। এছাড়াও দশ বছরের শাসনামলে ওয়ার্ডের মানুষের জায়গা-জমি সংক্রান্ত অনেক জটিল সমস্যার সমাধান, আর্থিক লেনদেনের ঝামেলা, বিবাহ বিচ্ছেদসহ অনেক মামলা মোকদ্দমার জটিল সমস্যারও সমাধান করেছেন পক্ষপাতহীন ভাবে। ফলে, এ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ কাজী মাহবুবুর রহমানের বিকল্প সেবক হিসেবে কাউকে চিন্তা করছে না। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান না হলেও কাজী মাহবুবুর রহমানের রয়েছে বর্ণাঢ্য শিক্ষা জীবন। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা কাজী মাহবুবুর রহমান ভোটের মাঠে আসার কারণ হিসেবে জানালেন, ১৯৯৭ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর লাশ কাঁধে করে আনতে তুমুল বেগ পোহাতে হয়েছিল, রাস্তাঘাট না থাকায় এই ভোগান্তি জুটেছিল। মনে চাপা কষ্ট জমা রেখে অপেক্ষায় ছিলেন ভোটের মাঠে আসার। ঠিক ২০১২ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের মানুষের জোর দাবির মুখে এবং ওয়ার্ডের দুঃখ দুর্দশার কথা চিন্তা করে জনগণের সেবা করার মহান ব্রত নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হন কাজী মাহবুবুর রহমান। পরপর দুইবার কাউন্সিলর হিসেবে ওয়ার্ডের জনগণ খুব কাছে পেয়েছে যেকোনো ডাকে। তাই আসছে সিটি নির্বাচনেও কাজী মাহবুবুর রহমানের বিকল্প কাউকে ভাবছে না কুমিল্লা সিটির ২১নং ওয়ার্ডের ৪ গ্রামের ১৪ হাজার ভোটার। এবারও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ আমাকে আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় উপহার দেবে কোনো সন্দেহ নেই। অপরদিকে, এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে হ্যাট্টিক জয় হবে ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমানের।














