সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

তারেক রহমান : নীরব সেবক থেকে দলের কাণ্ডারি

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৪১ এএম
তারেক রহমান : নীরব সেবক থেকে দলের কাণ্ডারি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

সাত বছর ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার আগে ছিলেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। পুরো দলের কাণ্ডারি তিনি। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন তার ম্যাজিক নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সরকারকে সহযোগিতা করতে নানামুখী কর্মকাণ্ড চালিয়ে নিজের নেতৃত্ব ক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই নেতা নীরবে অনেকটা গোপনে আরও কিছু কাজ করে আসছেন। যা কখনো সামনে আসেনি। তিনি নিজেও এসব কাজ প্রকাশ্যে আনতে চান না। দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য নানা ধরনের সেবা কার্যক্রমে যুক্ত তিনি। বিদেশে অবস্থান করলেও এসব কর্মকাণ্ড তিনি নিজেই সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তদারকি করেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আত্মতৃপ্তির জন্যই তিনি এসব কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় অনেক পরিবারের পুরো দায়িত্ব রয়েছে তারেক রহমানের কাঁধে। তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় মাদ্রাসা, হাসপাতাল। নিজ উদ্যোগেই এগুলোর খরচ বহন করছেন তিনি। বিএনপি স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে জানেন না তারেক রহমান সরাসরি এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। বিএনপি’র পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ড জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং আমরা বিএনপি পরিবারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে বৃদ্ধ এবং এতিম এমন ২৫টি পরিবারের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে।
সাহায্যপ্রাপ্ত একটি পরিবার বগুড়ার গাবতলীতে থাকে। পরিবারের কর্তা পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। তিনি হার্টঅ্যাটাকে মারা যান এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে। বিষয়টি জানার পর তারেক রহমান নিজেই তাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। এমন প্রায় দেড়শ’র মতো মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়া শিক্ষার্থীদের ১৪ জনের মতো চিকিৎসক হয়ে এখন দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ছেন আরও কয়েকজন। সেনাবাহিনীতে দু’জন চাকরি পেয়েছেন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে এই দু’জনের লেখাপড়ার সমস্ত খরচ বহন করেছেন তারেক রহমান। তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়েছিলেন এমন সাত থেকে আটজন প্রকৌশলী হয়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান এসব শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিলেও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সেভাবে জানতে পারেন না। বগুড়ার গাবতলী থানায় লাঠিগঞ্জের তিন মাথার মোড়ে এতিমদের জন্য একটি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এই মাদ্রাসায় পড়া প্রায় সব শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি নেই বা আংশিক আছে। এই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকও অন্ধ। তার উদ্যোগেই এই মাদ্রাসা করা হয়। ২০১১ সালের দিকে এই মাদ্রাসার তথ্য জানতে পারেন তারেক রহমান। তিনি সবকিছু খোঁজখবর নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ওই মাদ্রাসা চালাচ্ছেন। ২০১৭ সালের দিকে মাদ্রাসার একটি চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল।
তখন পরীক্ষায় দেখা যায় কিছু শিক্ষার্থী চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে উঠবেন। পরে তাদের চিকিৎসা শুরুর নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। চিকিৎসা পেয়ে তাদের সাত জন শিক্ষার্থী এখন চোখে দেখতে পান। বগুড়ার এই এতিমখানার মতো সারা দেশে আরও ৫টি এতিমখানার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। গাবতলীর লাঠিগঞ্জ হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা- সেখানে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সবাই মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করেন বিনা খরচে। সারা দেশে ১৪৪ পরিবারকে প্রতি মাসে ভাতা দিচ্ছেন তারেক রহমান। দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত এসব পরিবারকে অর্থ দেয়া হয় তার পক্ষ থেকে। ২০১৪ সাল থেকে এই ভাতা দেয়া শুরু করেন তিনি। এ ছাড়া গুম, খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর মধ্যে তিনজনের বিয়ের আয়োজন করেন তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে। ফেনী, বগুড়া ও সাতক্ষীরায় এই তিন বিয়ের আয়োজন হয়।
অসহায় পরিবারকে নিজের উদ্যোগে ৫টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। এরমধ্যে ৩টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুটি ঘরের কাজ চলছে। এরমধ্যে বগুড়াতে দুটি, লক্ষ্মীপুর এবং রাজবাড়ীতে একটি করে। বাকি দুটির একটি লালমনিরহাটে এবং আরেকটি ফেনীতে। কুষ্টিয়ায় দুইজন রিকশাচালককে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বাড়ি নির্মাণ বাবদ ৩ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে তাদের। তারেক রহমান এসব কাজের অর্থের ব্যবস্থা করে দিলেও স্থানীয় বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের নেতারা তা বাস্তবায়ন করেন। সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১২ জনের কৃত্রিম হাত-পা সংযোজনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারেক রহমান। তারা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বা পুলিশের নির্যাতনে হাত-পা হারান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের এ পর্যন্ত ১৫০ জনকে সহযোগিতা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সূত্রমতে, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে যুবদল নেতা ফেরদৌসকে পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করার ১৫ দিন পর কারাগারে মারা যান তিনি। নিহত এই যুবদল নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। উপহার হিসেবে একখণ্ড জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। ঘর ও জমি পেয়ে খুশি নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও দুই সন্তানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৬ নং চরজাঙ্গালিয়া ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন ফেরদৌস আলম। পরে পুলিশ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে বর্বর নির্যাতন চালায়। চিকিৎসা না দিয়ে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে ১৫ দিন পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ফেরদৌস আলম। এ ঘটনায় মামলা বা প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে দেয়নি পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একখণ্ড জমি কিনে ঘর করে দেন। এতে করে সন্তানদের নিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়।কমলনগর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা পাটওয়ারী মানবজমিনকে বলেন, ফেরদৌস আলম ছিলেন ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ অন্যায়ভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা মো. আশরাফ উদ্দিন নিজান মানবজমিনকে বলেন, শুধু ফেরদৌস আলমই নয়, এভাবে বহু বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ফেরদৌসের মতো নির্যাতিত প্রত্যেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ওদিকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত ময়মনসিংহের শহীদ হাফেজ মো. সাদেকের পরিবারকে একটি দোকান করে দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আমরা বিএনপি পরিবারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান। সাদেকের পরিবারকে এই দোকান বুঝিয়ে দেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সাদেকের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ১ নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালিকা বাড়িতে। এ ছাড়া বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষ ও দলের সমস্যাপীড়িত নেতাকর্মীদের সহায়তা করে আসছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়- অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজে সরাসরি সহায়তা করেন আর না হয় দলের বিত্তবান নেতাকর্মীদের সহায়তা করতে নির্দেশনা দেন।
প্রকৃতি এবং প্রাণী নিয়ে চিন্তা করেন তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ে শুধু ঢাকাতেই এক লাখ নিম গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। বগুড়া খোকন পার্কে (পার্ক নির্মাণের সময়) ১০০ বছরের পুরনো একটি জয়তুন গাছ ছিল। সেই গাছটি কাটার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তখন। সেটি জানার পর তারেক রহমান গাছটি রেখেই পার্ক নির্মাণের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন গাছটির রক্ষা হলেও কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পার্কটি নতুন করে করার নামে গাছটি কেটে ফেলেছেন। বগুড়ায় রাস্তায় ডিভাইডার করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। তিনি নিজের হাতে কিছু গাছ লাগিয়েছিলেন সেখানে।
আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে অনেক মানবিক কাজ করে আসছেন। তিনি চান না এসব প্রকাশ্যে আসুক। গোপনে, নীরবে তিনি এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। যারা সাহায্য বা সহযোগিতা পাচ্ছে তারাও জানতে পারেন না এটি তারেক রহমান করছেন। তারা মনে করেন বিএনপি বা নেতাকর্মীরা তাকে সহযোগিতা করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এসব কর্মকাণ্ড আমাদেরও উৎসাহিত করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×