তুচ্ছ ঘটনায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে কুবি ছাত্রলীগ
মেয়ে ঘটিত, মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটি, জুনিয়রদের সামনে নিজেদের উপস্থাপনের মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বার বার মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গত একমাসে ৫ বার মারামারিতে জড়িয়েছে নেতাকর্মীরা। ফলে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শাখাটি।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত ১০ এপ্রিল ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে বান্ধবীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষে জড়ায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা। ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল ও অনুষদ শাখার নেতাদের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও হাতাহাতি হয়। মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কাউসার হোসেন আপনকে থাপ্পড় মারেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা পাঠচক্র সম্পাদক রবিন হোসেন ও উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আলভির ভূইঁয়া। এঘটনায় সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দত্ত হল ছাত্রলীগ নেতা রবিন, আলভির, শরীফ, শাহিন, সবুজ, জামিল, ইয়াসিনের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সেলিম আহমেদ, ছাত্রলীগকর্মী আরিফ, গালিবসহ কয়েকজন। পরে দুই গ্রুপকে হলে ফিরে যেতে বললে গোল চত্ত্বর ও মুক্তমঞ্চে ফের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ প্রক্টরিয়াল টিম উপস্থিত হয়ে উভয় গ্রুপকে হলে পাঠিয়ে দেয়। এঘটনায় দুই হলের নেতারা একে অপরকে দোষারূপ করেন।
কুবি শাখা ছাত্রলীগ গত একমাসে ৫ বার মারামারিতে জড়িয়েছে। গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের পার্টি অফিসে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ছাত্রলীগের এক নেতাকে পিঠে চাপড়ে খবর জানতে চাওয়ায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২২ মার্চ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদকে চিনতে না পেরে ‘তুমি’ সম্বোধন করায় মারধরের শিকার হয় মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমান। এতে তার বা’চোখে গুরুত্বর জখম হয়। এঘটনায় শাখা ছাত্রলীগ থেকে ওয়াকিলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করছে। ১৭ মার্চ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা মারধর করেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল বাশার সাকিব, ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজসহ নেতাকর্মী। এছাড়া গত ৩ মার্চ মার্কেটিং বিভাগে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে হল গ্রুপ এবং মেস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বারবার মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, বিভাগের, ক্লাসের তুচ্ছ ঘটনায় হলের নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়ছে বলে এমনটা ঘটছে। যখনি কোন সমস্যা দেখছি আমরা সাথেসাথে মীমাংসা করে দিচ্ছি। ঈদের পরে হল কমিটিগুলো শক্তিশালী করে কিভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো কমানো যায় সেদিকে নজর দিব। হল প্রশাসনের সাথে নিয়ে ছাত্রদের কাউন্সিলিং করব।
প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘যখনি কোন ঘটনা ঘটছে সাথেসাথে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে কেউ অভিযোগ না করলে তো কিছু করতে পারব না। যখনি অভিযোগ পাচ্ছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’















