বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

দেবিদ্বারে টেকসই কৃষিতে নতুন ধারা: রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে শুরু হলো যান্ত্রিক বোরো চাষ

দেবিদ্বার প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
দেবিদ্বারে টেকসই কৃষিতে নতুন ধারা: রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে শুরু হলো যান্ত্রিক বোরো চাষ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেবিদ্বারে  প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় যান্ত্রিক চাষাবাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ৫ একর ব্লক প্রদর্শনীর আওতায় এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা ও উপযোগিতা বিবেচনায় বোরো মৌসুমের জন্য ধানের জাত হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে ব্রি ধান-১০২।
মাঠে গিয়ে দেখা যায়, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে সারিবদ্ধভাবে দ্রুতগতিতে ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে চারা রোপণে সময় লাগছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রস্তুত জমিতে ৩৫ দিন বয়সী বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন মেশিনচালকরা। এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা।
স্থানীয় কৃষক মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, হাতে চারা রোপণ করলে প্রতি বিঘা জমিতে শ্রমিক খরচ পড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। অথচ সিডলিং ট্রেতে চারা তৈরি করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ করলে বিঘা প্রতি খরচ দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার টাকা। তিনি বলেন, সময়মতো শ্রমিক না পাওয়া এবং অতিরিক্ত মজুরির ঝামেলা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে অনেকটাই কমে গেছে।
ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শুরুতে অনেক কৃষক মেশিনে রোপণ করা জমি দেখে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তবে ১৫ থেকে ২০ দিন পর কুশি বের হলে দেখা যায়, মেশিনে রোপণ করা জমিতে হাতে রোপণ করা জমির তুলনায় কুশির সংখ্যা বেশি হয়। তিনি আরও জানান, গত বছর পাশের গ্রামে ৫০ একর জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে সমলয় চাষাবাদ করে ভালো ফলন পাওয়ায় এবার কৃষকরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, প্রকল্পের আওতায় দেবিদ্বার উপজেলায় দুটি ৫ একর ব্লক প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একটি ইউসুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এবং অন্যটি দেবিদ্বার পৌরসভার উত্তরপাড়ায়। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ জোরদার করা, বিশেষ করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের ব্যবহার জনপ্রিয় করা এবং বোরো মৌসুমে নতুন জাত ব্রি ধান-১০২ এর সম্প্রসারণ।
তিনি আরও বলেন, রোপণের পর আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এডব্লিউডি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারেও অভ্যস্ত করা হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

হোমনায় উপজেলা, পৌরসভা ও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
হোমনায় উপজেলা, পৌরসভা ও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

কুমিল্লার হোমনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উপজেলা, পৌরসভা ও হোমনা সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখার নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদলের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত হোমনা উপজেলা ছাত্রদলের তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে জাহিদুল ইসলাম (অপু), সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফয়সাল মিয়া এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. মজিবুর রহমানকে।
হোমনা পৌরসভা ছাত্রদলের তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে সাইফুল হাসান সাজ্জাত, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ ফাহাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে আজিজুর রহমান (সোহান)।
অন্যদিকে, হোমনা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে আবু হায়দার রনি, সাধারণ সম্পাদক হিমেল সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মো. ফাহিম মিয়াকে।
জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় পূর্বের হোমনা উপজেলা ছাত্রদলের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট, পৌরসভা ছাত্রদলের ২১ সদস্যবিশিষ্ট এবং সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের ৪০ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে হোমনায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা।

শশীদল রেলস্টেশন দিয়ে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগ, প্রতিদিন যাচ্ছে বস্তাভর্তি চালান!

বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
শশীদল রেলস্টেশন দিয়ে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগ, প্রতিদিন যাচ্ছে বস্তাভর্তি চালান!

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিন এই রেলস্টেশন দিয়ে বস্তায় বস্তায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ট্রেন থেকে বস্তাভর্তি এসব পণ্য নামিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। এসব বস্তায় দামি মোবাইল ফোন, মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ভারতীয় মসলা এবং অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি মাদকদ্রব্যও রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শশীদল রেলস্টেশন থেকে এসব পণ্য কুমিল্লা, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য এভাবে পরিবহন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রেলস্টেশনকে ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কারা এসব পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত, কোথা থেকে এসব পণ্য আসছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, এসব পণ্যের মধ্যে মাদকদ্রব্য থাকার অভিযোগটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের প্রচলিত শুল্ক ব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য বাজারজাত হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, শশীদল রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে রেলপথে বস্তাভর্তি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি তদন্ত করে পণ্যের উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিদিন যদি এভাবে বিপুল পরিমাণ পণ্য রেলস্টেশন দিয়ে পরিবহন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির বাইরে কীভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?

এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে স্থানীয় সূত্রের দেওয়া এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

কুমিল্লায় জলাশয় থেকে ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ছিলেন দুই দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
কুমিল্লায় জলাশয় থেকে ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ছিলেন দুই দিন

Oplus_131072

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আদনান আলতাফ ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিখোঁজ হন আদনান। তাঁর সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তাঁর মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর কলেজের কাছের একটি জলাশয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×