সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারে অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে বরাদ্ধকৃত ২টির ১টি খাল পুন: খনন উদ্বোধন

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
দেবীদ্বারে অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে বরাদ্ধকৃত ২টির ১টি খাল পুন: খনন উদ্বোধন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের শর্ত; খাল খনন ও পুনঃখনন এবং খালের উভয় পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে ২টি খাল পুন:খননের বরাদ্ধ পেয়েছে। ওই কর্মসূচীর আওতায় প্রথম প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখাঁর গ্রামের জয়নালের বাড়ির মসজিদ থেকে পদুয়া গ্রাম হয়ে তেবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৩.১৫ কিলোমিটার খাল পুন:খননের উদ্বোধন করেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূর্যোগ ব‍‍্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বিএনপি উপজেলা আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন ও সদস‍্য সচিব কাদী মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, এনসিপি উপজেলা সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম‍্যান, ইউপি সদস‍্য বৃন্দ এবং এলাকার গন‍্যমান‍্য ব‍্যক্তিবর্গ।

ওই খালটি প্রায় ৩.১৫ কিলো মিটার দৈর্ঘ এবং ১৫ ফুট থেকে কোথাও কোথাও ৩৫ ফুট প্রশস্তে খনন কাজে প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক ৫ শত টাকা পারিশ্রমিকে ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় সম্পন্ন করা হবে। একই জনবলে এবং অর্থায়নে রসুলপুরের প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ এবং ২৫ ফুট প্রশস্তে খাল পুন:খনন করা হবে।

দেবীদ্বারের ওই খালটি কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস‍্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র দক্ষিনাঞ্চলের মুখ‍্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) শনিবার (১৮ এপ্রিল) নিজ ইউনিয়ন রসুলপুর ইউনিয়নে রসুলপুর সৈয়দআলী বাড়ির ব্রিজ থেকে গোপালনগর হয়ে বুড়িনদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

ইজিপি কর্মসূচীর আওতায় এবং দূর্যোগ‍ ব‍্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় দেবীদ্বার কার্যালয়ের অর্থায়নে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শর্ত বাস্তবায়নে সারা দেশে খাল খনন ও পুনঃখনন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প কর্মসূচী বাস্তবায়ন হাতে নেয়া হয়।

তারই ফলশ্রুতিতে কুমিল্লার ৬ টি উপজেলা অর্থাৎ দেবীদ্বার, চান্দিনা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার ২ টি করে খাল খনন ও পুন:খনন এবং খালের দু’পাড়ে বৃক্ষরোপনে বনায়ন বাস্তবায়নের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়।

দেবীদ্বারের উল্লেখযোগ্য শত শত বছরের ঐতিহ‍্যবহনকারী খাল মরজরা, গুয়াদ্বারা খাল, দোয়াইর খাল, রামপ্রাসাদ খাল, মনোয়ারা খাল, ভিংলাবাড়ি খাল, মরিচা খাল, খিরদ নদী, বুড়িনদীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খালের অধিকাংশই গোমতী, মেঘনা, তিতাস, মন্দবাগসহ বিভিন্ন নদীর সাথে সংযোগ ছিল। যেগুলো আজ দখলদারদের আবাসন, স্থাপনা, মার্কেট এবং আবাদী জমির দখলে।

গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে, একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, দেশী মাছ উৎপাদনে এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।, “এলাকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব প্রকল্প গ্রহণ অর্থাৎ খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ সকল খালই উদ্ধারকরে খনন জরুরী।দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় পানি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। খাল পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য তা খুবই উপকারে আসবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূর্যোগ ব‍‍্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ খাল দু’টি ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক ৫ শত টাকার বিনিময়ে সম্পন্ন করা হবে। দু’টি প্রকল্পের প্রাক্কলন ব‍্যায় হবে প্রায় ৭২ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা।

এ ব‍্যাপারে খাল খনন উদ্বোধনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, খাল খনন বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষির উন্নয়ন, দেশী মাছের উৎপাদন, খালপাড়ে বনায়নসহ পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় এক অভূতপূর্ব অবদান রাখবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×