সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান কালুর বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল ‘রাজাকারটা আসলে কী? শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন আমার বাবা’

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ৭:১৯ এএম
নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান কালুর বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল ‘রাজাকারটা আসলে কী? শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন আমার বাবা’
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

👉 কালুর দাবি- তাঁর বাবা শান্তি কমিটির সদস্য হয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে’ কাজ করেছেন
👉 কালুর দাবির বিপরীত কথা বলছেন যুদ্ধকালীন ডেপুটি কমান্ডার

১৯৮৩ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রতিষ্ঠার পূর্বে এটি জেলার লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার অংশবিশেষ ছিলো। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বর্তমান নাঙ্গলকোট উপজেলা অঞ্চলে যে কয়েকজন পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের অন্যতম প্রধান বলা হয়ে থাকে হাজী আলী আকবরকে।

একাত্তরে ওই অঞ্চলে ‘রাজত্ব’ করা যুদ্ধাপরাধী আলী আকবর বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন; তবে এখনো নাঙ্গলকোটে কমেনি সেই আকবর পরিবারের দাপট। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ-একাত্তরে ‘রাজত্ব’ করছেন আলী আকবর আর বর্তমানে নাঙ্গলকোটে ‘রাজত্ব’ করে যাচ্ছেন সেই যুদ্ধাপরাধীর সন্তান।

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও অবাধ করা ব্যাপার হলো, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার নাঙ্গলকোট গ্রামের সেই আলোচিত যুদ্ধাপরাধী আলী আকবরের সন্তান সামছুদ্দিন কালু গত দুই মেয়াদে দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। সবশেষ বিনাভোটে নির্বাচিত বর্তমানে উপজেলা চেয়াম্যানের পদে থাকা কালু এর আগে দলটির সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র। কালু বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য; আগে একবার হয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থান নিয়ে কালুর দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায় কালু বলছেন- ‘আমার প্রশ্ন হলো রাজাকারটা আসলে কী? এ কথা আমি আগেও অনেকবার বলেছি আমার বাবা রাজাকার না। আমার বাবা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, আমি রাজাকারের ছেলে নই।’ এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি চলতি বছরের ৮ এপ্রিলের। কালুর বাবাকে নিয়ে এ বছরের স্বাধীনতা দিবসের সময় ব্যাপক কানাঘুষা শুরু হয়। এমন বিতর্কের মধ্যে ৮ এপ্রিল উপজেলা সদরের নিজ কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন কালু।

সেখানে কালু বলেন- ‘আমার বাবা কখনো রাজাকার ছিলেন না। তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি পাকবাহিনীর হাত থেকে এলাকার লোকজন এবং তাদের বাড়িঘর রক্ষা করছেন। ওই সময়ে আওয়ামী লীগের পলিসি ছিলো শান্তি কমিটির সদস্য হয়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে- মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কাজ করা। আমার বাবা একটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ক্ষতি করেননি। আমি অনেকবার বলেছি ‘আমার বাবা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, আমি রাজাকারের ছেলে নই, আর আমি ছাত্রলীগ করেছি।

তবে বিষয়টি মানতে নারাজ যুদ্ধকালীন তৎকালীন চৌদ্দগ্রামের (বর্তমান নাঙ্গলকোটের ৭টি ইউনিয়ন) জোনাল কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধ মহসিন ভূঁইয়া। নাঙ্গলকোট উপজেলার মোকরা ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা মহসিন ভূঁইয়া বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে নাঙ্গলকোট অঞ্চলে মাদার অর্গানাইজেশন ছিলো শান্তি কমিটি। শান্তি কমিটির সদস্যরাই ওই সময়ে রাজাকার, আলবদর, আলশামস তৈরি করেছিলেন এবং তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলো। ১৯৭১ আলী আকবরের ভূমিকা আমরা সবাই জানি। তিনি (কালু) যেই দাবি করেছেন, সেটা মোটেও সঠিক না। স্বাধীনতার পর আলী আকবরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো যুদ্ধাপরাধের ঘটনায়। তিনি দীর্ঘদিন ওই মামলায় কারাগারে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের আমলে এই মামলা থেকে অন্যদের মতো আলী আকবরও রেহাই পান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র বাদী হয়ে দ্যা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) বা দালাল আইনে ১৭৭/৭২ লাকসাম থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি ছিলেন নাঙ্গলকোট গ্রামের হাজী আলী আকবর। লাকসাম থানার মামলাটির নম্বর ছিলো ১৮ এবং জিআর ২১৩/৭২। মামলাটির ধারা ছিলো ৩৬৪/৩০২/১০৯/১১৪/২৮ দাবি, তৎসহ আর্টিক্যাল ১১ (৩) (বি) অব প্রেসিডেন্ট অর্ডার নং-৮/৭২। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল হত্যা, অগ্নিসংযোগ, দলখ-লুটপাট, গুমসহ বিভিন্ন অভিযোগ।
মুক্তিযোদ্ধাদের সময় নাঙ্গলকোটের সবচেয়ে আলোচিত ছিলো বীর মুক্তিযোদ্ধা পল্লী চিকিৎসক কলিম উল্লাহ হত্যাকাণ্ড। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পল্লী চিকিৎসক কলিম উল্লাহ বাড়ি উপজেলার হেসাখাল গ্রামে। তাঁর ছেলে সৈয়দ আহমেদ আলম বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাবাসহ কয়েকজন হানাদার বাহিনীদের নিয়ে এসে আমার বাবাকে প্রথমে পিটিয়ে বেহুশ করে এবং পরে নির্মমভাবে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমার বাবা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে দেশকে স্বাধীন করতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, এটাই ছিলো তার অপরাধ।
জেলার লাকসাম পৌরসভার ভোজপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ মজুমদার বলেন, ‘যুদ্ধের সময় নাঙ্গলকোটের বেশিরভাগ অংশ লাকসামের ছিলো। পল্লী চিকিৎসক কলিম উল্লাহ আমার আপন বোন আনোয়ারা বেগমের স্বামী। যেদিন তাকে হত্যা করা হয়, সেদিন আমিও তাদের বাড়ির পাশেই ছিলাম। যুদ্ধাপরাধী আলী আকবরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডা. কলিম উল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তাকে পিটিয়ে হাত-পায়ে গুলি করে চলে যাচ্ছিলো তারা। কিছুদূর যাওয়ার পর আলী আকবর তাকিয়ে দেখেন আমার ভগ্নিপতি নড়াচড়া করছে। এরপর তিনি হানাদারদের ঘুরিয়ে এনে আমার ভগ্নিপতির বুকের মধ্যে এলোপাতাড়ি গুলি করান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি শহীদ হন। ভাবতে অবাক ও দুঃখ লাগে আজকে সেই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী হাজী আলী আকবরের সন্তানই নাঙ্গলকোটের রাজত্ব করছে।

এদিকে, আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মলন। এরই মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে- এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে যাচ্ছেন সামছুদ্দিন কালু। গত মে মাসের শুরুতে কালুকে নাঙ্গলকোট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে; এমন কথা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন তার অনুসারীরা। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে জেলা ও উপজেলার নেতার বলছেন- ওই পৌর কমিটি এখনো অনুমোদন হয়নি।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালুর রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু হয় জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। কালু সে সময় যুব কমপ্লেক্সের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এরপর এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা করা কালু ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভিড়ার চেষ্টা করে বিএনপিতে। এরপর ১৯৯৬ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ কালু প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগে। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহজাহান মজুমদার বলেন, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তার (কালুর) বাবা হাজী আলী আকবরের নামে ৭২ সালে মামলা হওয়ার ঘটনা এরই মধ্যে সবাই জানে। এসব নিয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তবে এতে কার কী আসে-যায়! কারণ এখনতো রাজনীতি আর রাজনীতির জায়গায় নেই। তাই এনিয়ে কিছু বলতেও মন চায় না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ বলেন, দলের নীতি নির্ধারকরা সবই জানেন। তারা যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করছেন।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সামছুদ্দিন কালু বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে এই ধরণের আলোচনা হলে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল স্থানীয় সাংবাদিকরা আমার কাছে বিষয়টি জানতে আসেন। পরে আমি তাদের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমার বাবা কখনো রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না। তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি পাকবাহিনীর হাত থেকে এলাকার লোকজন এবং তাদের বাড়িঘর রক্ষা করছেন। ওই সময়ে আওয়ামী লীগের পলিসি ছিলো শান্তি কমিটির সদস্য হয়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কাজ করা। আমার বাবা একটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ক্ষতি করেননি। ২-৪ জন নেতা আমার সাথে পেরে উঠতে পেরে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে আমাকে অপমান এবং ছোট করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার শুরু করছে।

এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কালু আরও বলেন, আমার বাবা অন্যায় করলে সেটা তার ব্যাপার। এখানে আমার অপরাধটা কী। আমি রাজনীতি করি, এটা কি আমার অপরাধ? আমাদের দলের কিছু মানুষ এখন এগুলো সামনে আনছেন। কার বাপ-দাদা কী করেছেন, সেটা তাদের বিষয়। আমার বাবা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, তাই বলে কি আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করতে পারব না?

 

ভিডিও লিংক https://www.facebook.com/cumillardak

 

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×