বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি সাবেকদের

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪, ৬:১০ এএম
পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি সাবেকদের
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কাজের লোক নয়, দলবাজদের জয় জয়কার : সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ

পুলিশে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা শতভাগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা বলেন, পুলিশের মধ্যে দুর্নীতিবাজদের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু তার প্রভাব পড়ছে দুই লাখ ৭০ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীর উপর। দুর্নীতি নির্মুল করতে হলে পদোন্নতি হতে হবে নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও সততা ভিত্তিতে। কিন্তু এসবের ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বদলি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে দলবাজদের জয় জয়কার। এটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কিন্তু এটা শুধু বর্তমান সরকারের আমলে নয়, বিগত সরকারের আমল থেকেও চলে আসছে। পদোন্নতি ও বদলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান ছাড়া হয় না। বর্তমানে এটা একটা বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে।

পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, একজন পুলিশ দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে। মামলার সঠিক তদন্ত করবে। কিন্তু এটা না করে বসের খুশি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এক শ্রেণীর পুলিশ। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব শেভ করতেন একটি সেলুনে। ওই সময় একজন পুলিশের একজন ডিসি সেলুনে গিয়ে আগেভাগে তাওয়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ওই ডিসি একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জজ মিয়া নাটক যারা সাজিয়েছিলেন, সেসব পুলিশেরও পদোন্নতি পেয়েছেন। এই ধরনের পুলিশ আমরা চাই না। কেউ ভুলে যাবেন না, আমরা আপনাদের পরিবারের সন্তান। আপনাদের সেবা ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এটাই হচ্ছে আমাদের মূলমন্ত্র। তাই কতিপয় দুর্নীতিবাজদের জন্য সমগ্র পুলিশ বাহিনকে ঢালাওভাবে দায়ী করলে, এটা হবে বড় অন্যায়। আমরা দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি, ধিক্কার জানাই। শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসা বাড়িতে বাজার করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন এক শ্রেণীর পুলিশ। নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে তদ্বির করতে তারা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। যার কারণে পরিস্থিতি এমন হয়েছে, যেন গ্রামাঞ্চলের থানা চালায় পুলিশ না, চালায় দলবাজরা। এটা তো হওয়ার কথা না। ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি সম্প্রতিকালে পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে ডিআইজি, এসপি, ইনস্টপেক্টরসহ অর্ধশতাধিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ কথা বলতে বলতে কেদেই ফেলেন।

তারা বলেন, আমরা দুর্নীতি সমর্থন করি না। শুধু কি পুলিশই দুর্নীতি করে? সচিবালয় থেকে ব্যাংকপাড়া সর্বত্র দুর্নীতি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে আবেদন, দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করুন, তাদের ধিক্কার জানান। আর পুলিশের পদোন্নতি হবে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও সততার ভিত্তিতে-এই বিষয়টি নিশ্চিত করুন। কিন্তু বর্তমানে চলছে উল্টো পথে। যে বেশি দুর্নীতিবাজ তাকে ভালো জায়গায় পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। তার পদোন্নতির ফাইলও দ্রুত অনুমোদন হয়ে যায়। কারণ সে টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারেন। তাদের সংখ্যাও সীমিত। যারা দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। কনস্টবল থেকে আইজি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে স্তরে দেখভাল করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি স্তরেই দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতি হচ্ছে কেন? দলবাজরা করে দুর্নীতি। যারা পেশাদার পুলিশ তারা তো দুর্নীতি করেন না। তারা উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা হয়ে যান রাজাকারের সন্তান। দলবাজদের বেশিরভাগ সরকারবিরোধী ও রাজাকার-আলবদলের পরিবারের সন্তান।

পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সেই পুলিশ। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আক্রান্ত হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের মোকাবেলা করেছি। জীবন দিয়েছি। করোনার সময় কেউ কারোর সন্তান কবর দেয় না, করোনা আক্রান্ত মাকে রাস্তায় ফেলিয়ে দিয়েছে। আমরা অসুস্থদের ওষুধ দিয়েছি। মৃতদের কবর দিয়েছি। ঝড়-বৃষ্টির মাঝেও দায়িত্ব পালন করে আসছি। এতো কিছু করেও কেন আমরা দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিবো? পুলিশ সদস্যদের যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নেই। সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সব সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তারা বিভিন্ন প্রকল্পে এক কলমের খোঁচায় হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। এটা যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। পুলিশের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। দলবাজ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর লোক না। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিআইজি নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তর এটা গোপন রেখে তাকে পদোন্নতি দিয়ে ডিআইজি বানিয়েছে। কয়েক জন এসপির বিরুদ্ধেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এদেরকে যারা পদোন্নতি দিচ্ছে তারা শীর্ষ দুর্নীতিবাজ। সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ সদস্যরা শীর্ষ দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দিতে রাজি আছি। সচিবালয়ের কর্মকর্তারা যে সুযোগ-সুবিধা পায়, তাদের চেয়ে চার গুণ কম সুযোগ-সুবিধা পেয়েও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি এবং দিয়ে যাব। যারা সত্যিকার দুর্নীতিবাজ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তারা আহ্বান জানান। বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ক করে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার দাবি জানান তারা।

সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ বলেন, পুলিশে আগেও তদ্বির ছিল, কিন্তু সেটা ছিল খুব কম। সিনিয়র, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হতো। এখন যাদের পদোন্নতি হয়, তাদের বেশিরভাগ কাজ করে না, দলবাজ করে। দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্যদের যেন জয় জয়কার। তারা পদোন্নতি পাচ্ছে। এই জিনিসটা খুবই ভয়ঙ্কর। অবশ্যই এটা বন্ধ করতে হবে। সিনিয়র, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে। যারা ভালো কাজ করে তাদের পুরস্কার এবং যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের তিরস্কার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠার পরিস্থিতি বা সুযোগ পুলিশের কর্মকাণ্ডকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পুলিশের কর্মকাণ্ড একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসারে পরিচালিত হলেও দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা এবং প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দুর্নীতির মাত্রা ও সংখ্যা লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি করছে। পুলিশের মধ্যে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি, জনগণের নিকট দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বমূলক ভূমিকা পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে পুলিশের মধ্যে দুর্নীতি পরায়ণ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়বে এবং এর ফলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অনেকটাই সহজ হবে।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×