সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি সাবেকদের

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪, ৬:১০ এএম
পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি সাবেকদের
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কাজের লোক নয়, দলবাজদের জয় জয়কার : সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ

পুলিশে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা শতভাগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা বলেন, পুলিশের মধ্যে দুর্নীতিবাজদের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু তার প্রভাব পড়ছে দুই লাখ ৭০ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীর উপর। দুর্নীতি নির্মুল করতে হলে পদোন্নতি হতে হবে নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও সততা ভিত্তিতে। কিন্তু এসবের ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বদলি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে দলবাজদের জয় জয়কার। এটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কিন্তু এটা শুধু বর্তমান সরকারের আমলে নয়, বিগত সরকারের আমল থেকেও চলে আসছে। পদোন্নতি ও বদলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান ছাড়া হয় না। বর্তমানে এটা একটা বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে।

পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, একজন পুলিশ দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে। মামলার সঠিক তদন্ত করবে। কিন্তু এটা না করে বসের খুশি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এক শ্রেণীর পুলিশ। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব শেভ করতেন একটি সেলুনে। ওই সময় একজন পুলিশের একজন ডিসি সেলুনে গিয়ে আগেভাগে তাওয়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ওই ডিসি একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জজ মিয়া নাটক যারা সাজিয়েছিলেন, সেসব পুলিশেরও পদোন্নতি পেয়েছেন। এই ধরনের পুলিশ আমরা চাই না। কেউ ভুলে যাবেন না, আমরা আপনাদের পরিবারের সন্তান। আপনাদের সেবা ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এটাই হচ্ছে আমাদের মূলমন্ত্র। তাই কতিপয় দুর্নীতিবাজদের জন্য সমগ্র পুলিশ বাহিনকে ঢালাওভাবে দায়ী করলে, এটা হবে বড় অন্যায়। আমরা দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি, ধিক্কার জানাই। শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসা বাড়িতে বাজার করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন এক শ্রেণীর পুলিশ। নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে তদ্বির করতে তারা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। যার কারণে পরিস্থিতি এমন হয়েছে, যেন গ্রামাঞ্চলের থানা চালায় পুলিশ না, চালায় দলবাজরা। এটা তো হওয়ার কথা না। ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি সম্প্রতিকালে পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে ডিআইজি, এসপি, ইনস্টপেক্টরসহ অর্ধশতাধিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ কথা বলতে বলতে কেদেই ফেলেন।

তারা বলেন, আমরা দুর্নীতি সমর্থন করি না। শুধু কি পুলিশই দুর্নীতি করে? সচিবালয় থেকে ব্যাংকপাড়া সর্বত্র দুর্নীতি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে আবেদন, দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করুন, তাদের ধিক্কার জানান। আর পুলিশের পদোন্নতি হবে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও সততার ভিত্তিতে-এই বিষয়টি নিশ্চিত করুন। কিন্তু বর্তমানে চলছে উল্টো পথে। যে বেশি দুর্নীতিবাজ তাকে ভালো জায়গায় পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। তার পদোন্নতির ফাইলও দ্রুত অনুমোদন হয়ে যায়। কারণ সে টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারেন। তাদের সংখ্যাও সীমিত। যারা দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। কনস্টবল থেকে আইজি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে স্তরে দেখভাল করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি স্তরেই দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতি হচ্ছে কেন? দলবাজরা করে দুর্নীতি। যারা পেশাদার পুলিশ তারা তো দুর্নীতি করেন না। তারা উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা হয়ে যান রাজাকারের সন্তান। দলবাজদের বেশিরভাগ সরকারবিরোধী ও রাজাকার-আলবদলের পরিবারের সন্তান।

পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সেই পুলিশ। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আক্রান্ত হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের মোকাবেলা করেছি। জীবন দিয়েছি। করোনার সময় কেউ কারোর সন্তান কবর দেয় না, করোনা আক্রান্ত মাকে রাস্তায় ফেলিয়ে দিয়েছে। আমরা অসুস্থদের ওষুধ দিয়েছি। মৃতদের কবর দিয়েছি। ঝড়-বৃষ্টির মাঝেও দায়িত্ব পালন করে আসছি। এতো কিছু করেও কেন আমরা দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিবো? পুলিশ সদস্যদের যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নেই। সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সব সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তারা বিভিন্ন প্রকল্পে এক কলমের খোঁচায় হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। এটা যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। পুলিশের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। দলবাজ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর লোক না। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিআইজি নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তর এটা গোপন রেখে তাকে পদোন্নতি দিয়ে ডিআইজি বানিয়েছে। কয়েক জন এসপির বিরুদ্ধেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এদেরকে যারা পদোন্নতি দিচ্ছে তারা শীর্ষ দুর্নীতিবাজ। সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ সদস্যরা শীর্ষ দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দিতে রাজি আছি। সচিবালয়ের কর্মকর্তারা যে সুযোগ-সুবিধা পায়, তাদের চেয়ে চার গুণ কম সুযোগ-সুবিধা পেয়েও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি এবং দিয়ে যাব। যারা সত্যিকার দুর্নীতিবাজ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তারা আহ্বান জানান। বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ক করে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার দাবি জানান তারা।

সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ বলেন, পুলিশে আগেও তদ্বির ছিল, কিন্তু সেটা ছিল খুব কম। সিনিয়র, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হতো। এখন যাদের পদোন্নতি হয়, তাদের বেশিরভাগ কাজ করে না, দলবাজ করে। দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্যদের যেন জয় জয়কার। তারা পদোন্নতি পাচ্ছে। এই জিনিসটা খুবই ভয়ঙ্কর। অবশ্যই এটা বন্ধ করতে হবে। সিনিয়র, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে। যারা ভালো কাজ করে তাদের পুরস্কার এবং যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের তিরস্কার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠার পরিস্থিতি বা সুযোগ পুলিশের কর্মকাণ্ডকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পুলিশের কর্মকাণ্ড একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসারে পরিচালিত হলেও দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা এবং প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দুর্নীতির মাত্রা ও সংখ্যা লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি করছে। পুলিশের মধ্যে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি, জনগণের নিকট দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বমূলক ভূমিকা পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে পুলিশের মধ্যে দুর্নীতি পরায়ণ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়বে এবং এর ফলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অনেকটাই সহজ হবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×