মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন

মোঃ সাখাওয়াত হোসেন : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৩২ পিএম
পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এক অনন্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এক অভূতপূর্ব উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আনন্দ র‍্যালির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, কৃতী সংবর্ধনা এবং ক্রেস্ট প্রদানসহ নানা আয়োজনে দিনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সচিব ড. একেএম জাহাঙ্গীর। সঞ্চালনায় ছিলেন মাইন উদ্দিন সোহাগ, ইকবাল মাহমুদ এবং আবুল কালাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. আনোয়ার উল্লাহ এফসিএমএ, অতিরিক্ত সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডা. মো. জিয়া উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান প্রমুখ।

 

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রধান অতিথি বলেন, “একশ বছর আগে যারা এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের জন্য আমরা গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করি। এই স্কুলের অবদান আমাদের দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী মানুষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়া।”

 

বিশেষ অতিথি মো. আনোয়ার উল্লাহ এফসিএমএ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা একটি ফাউন্ডেশন করার পরিকল্পনা করছি, যা এই এলাকার উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে। এই উদ্যোগ যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, ততই মঙ্গল হবে।”

 

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার। এছাড়া উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করে দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন।

 

অনুষ্ঠানটি এতটাই অনবদ্য ছিল যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক নিজেই এর প্রশংসা করে বলেন, “এই স্কুলের গৌরবের ইতিহাস শুধু দেশের গণ্ডিতেই নয়, বিশ্ব দরবারেও ছড়িয়ে পড়বে।”

 

এদিন উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন, এবং এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগীরা।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×