রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতিটির মেরামতেই ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০২৩, ১০:০৭ পিএম
প্রতিটির মেরামতেই ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মাত্র পাঁচ বছর আগে কেনা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ টাকার একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন সংস্কারেই লাগছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৫ টাকা। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে এ যন্ত্রটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই সময় দেড় লাখ ইভিএম কেনা হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। তখন উচ্চ দামে এসব যন্ত্র কেনা হয়েছিল। এগুলো ১০-১৫ বছর নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল।

কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, দেড় লাখ ইভিএমের ৪০ হাজার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার মেশিন ব্যবহার উপযোগী করতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। ইভিএম সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) বলছে, অযত্ন-অবহেলা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করার ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইভিএমের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান সমকালের সঙ্গে আলাপকালে একই ধরনের মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব মেশিন সংরক্ষণের জন্য মাঠ পর্যায়ে ইসির পর্যাপ্ত স্থান ও জনবল ছিল না। কোনো কোনো মেশিনে উইপোকা ধরে গেছে। অনেকগুলোর কেবল নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কোনোটির ব্যালট ইউনিটের মনিটর ভেঙে গেছে। রাকিবুল জানান, এসব মেশিনে নিয়মিত চার্জ দিয়ে রাখলেও সচল থাকত। সেটিও করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখন সংস্কার অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঠ পর্যায়ের পাশাপাশি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনেও ইভিএম সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদামঘর নেই। এ কারণে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হলেও তা কখনোই ইসি সচিবালয় বুঝে পায়নি। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে এগুলো বিএমটিএফের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে এনে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেই আবার মেশিনগুলো ফেরত এনে বিএমটিএফের কাছে রাখা হয়েছে।

গত সংসদ নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসনে ইভিএমে ভোট হয়। সব মিলিয়ে গত ২০ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকারের (সিটি, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) ভোটসহ মোট ১ হাজার ১৫৫টি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে।

এবার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরই দেড়শ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ইসির বক্তব্য ছিল, তাদের হাতে থাকা দেড় লাখ ইভিএমে ৬০ থেকে ৭০টি আসনে ভোট করা সম্ভব। দেড়শ আসনে ভোট করতে আরও ২ লাখ ইভিএম প্রয়োজন হবে। এ জন্য ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদন না হওয়ায় বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ইসি। কিন্তু নিজেদের হাতে থাকা দেড় লাখ মেশিন ব্যবহারেও তারা আর্থিক সংকটে পড়েছে।

ব্যালটে ভোট নিতে খরচ বেশি, তাই ইভিএমের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন– এমন বক্তব্য এর আগে কমিশনের সদস্যরা দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, এটা আসলে হিসাব-নিকাশ ছাড়া বলার সুযোগ নেই। কারিগরি কমিটি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে।

চলতি অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে সম্প্রতি ৬৩০ কোটি টাকা চেয়েছে ইসি। এ ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যয় বাবদ নতুন অর্থবছরে ৩ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ না থাকায় নতুন করে অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের অন্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া যায়। কিন্তু এভাবে ৬৩০ কোটি টাকা জোগান দেওয়া কঠিন।

বিএমটিএফের বকেয়া ১৯১ কোটি টাকা: ইভিএম রক্ষণাবেক্ষণ, গুদাম ভাড়া এবং মেশিন ক্রয় বাবদ বিমটিএফ এ পর্যন্ত ইসির কাছে পাবে ১৯১ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়্যারহাউস ভাড়া বাবদ বকেয়া হয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। মাসিক সাড়ে ৯৭ লাখ টাকা ভাড়ায় বিএমটিএফের গুদামে প্রায় ৬৫ হাজার ইভিএম মজুত রাখা হয়েছে। ইভিএমগুলো ২০১৮ সাল থেকেই বিএমটিএফে সংরক্ষিত থাকলেও উভয় পক্ষের আলোচনায় ভাড়া কার্যকর করা হয় ২০১৯ সাল থেকে। এই মেশিনগুলো বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়। ইভিএম রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ পাওনা আছে ৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইভিএম কেনাবাবদ বকেয়া রয়েছে ৮৮ কোটি টাকা।

উচ্চ দামে কেনা: সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালে ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি দামে এই মেশিন কেনা হয়েছিল। ভারতে ব্যবহৃত ইভিএমের দাম ১৭ হাজার রুপি। এর আগে ড. শামসুল হুদা কমিশনের মেয়াদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ইসির জন্য যে ইভিএম তৈরি করেছিল, তার প্রতিটির দাম পড়েছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা।

তবে ইসির ইভিএম সংক্রান্ত কারিগরি টিমের সদস্য এবং বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম সমকালকে জানান, ভারতের ইভিএমে ফ্রিঙ্গার স্ক্যানার নেই। তাই ওই মেশিনের সঙ্গে এর তুলনা করলে চলবে না। অন্যদিকে বুয়েট যে মেশিন তৈরি করেছিল, তাতেও ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে কেনা দেড় লাখ ইভিএম সংরক্ষণে ইসি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তাদের প্রশিক্ষিত জনবলও ছিল না। তিনি বলেন, বিএমটিএফ এসব মেশিনের পার্টস দেশে বানানোর উদ্যোগ নিলে বুয়েটের পক্ষ থেকে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত ভোটার ও প্রার্থী সংখ্যা, ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করা, ভোট গণনা, সার্ভার-সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের স্পেসিফিকেশনের ওপর ইভিএমের দাম নির্ভর করে। বাংলাদেশে ইভিএমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বা হাতের আঙুলের ছাপ দিয়ে বা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ভারতের ইভিএমে এই সুবিধা নেই। তবে ভারতের ইভিএমে ভোটার ভ্যারিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সংযুক্ত আছে। এতে ভোটার তাঁর পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পারছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ইভিএমে এই সুবিধা নেই।

২০১০ সালে দেশে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের প্রচলন শুরু করে শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। ওই সময় তারা বুয়েটের কাছ থেকে ১ হাজার ২৫০টি ইভিএম কেনে। ওই কমিশন এই যন্ত্রে ভোট নিয়ে সফলও হয়। পরে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ২০১৫ সালে ভোট নিতে গেলে একটি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। সেই মেশিনটি পরে আর ঠিক করতে পারেনি কমিশন। তাই ওই মেশিনগুলো নষ্ট করে নতুন করে আরও উন্নত প্রযুক্তি ইভিএম তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয় রকিব কমিশন। এর পর ২০১৭ সালে কে এম নূরুল হুদার কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় লাখ টাকা দরে ইভিএম কেনে বিএমটিএফ থেকে।

এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেন, ২০১৮ সালে ১৩ জন লোকবলসহ ইভিএম প্রকল্পটির অনুমোদন পায়। এতে শুধু দেড় লাখ ইভিএম ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির কেনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি ইভিএমের জন্য ১ বছর গ্যারান্টি ও ৫ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি প্রদান করা হয়। প্রকল্পে সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনো খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা না থাকায় এসব ইভিএম প্রাথমিকভাবে জেলা, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সরকারি স্থাপনায় রাখা হয়। এসব স্থাপনার পরিবেশ ইভিএম সংরক্ষণের জন্য সহায়ক ও উপযুক্ত ছিল না। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে সংরক্ষিত ইভিএমগুলোর ক্ষেত্রবিশেষে বিনষ্ট হয়। বর্তমানে ইসি জেলা পর্যায়ে বাসা ভাড়া করে ইভিএম সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন ২০২৩ সালে শেষ হবে। আগামী সংসদীয় নির্বাচন যেহেতু প্রকল্পের মেয়াদ শেষে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর অথবা পরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে, এ কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএমটিএফ সার্বিক বিবেচনায় ইভিএম সংস্কারের প্রস্তাব ইসিকে জানিয়েছে।

সূত্র : সমকাল

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: উন্নত সেবার প্রত্যয় এবং ভোজন রসিকদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে রুচিশীল, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার পরিবেশনের অনঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাত এর মাধ্যমে ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগ্রীম অর্ডার নিয়ে যেকোনো স্থানে উন্নতমানের সকল খাবার সরবরাহ করা সহ সদ্য উদ্বোধনকৃত এ হোটেলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম বুকিং এর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের পাশেই নয়নাবিরাম পরিবেশে এর অবস্থান হওয়ায় দূর-দুরান্তের ভোজন রসিকরাও এখানে খাবার খেতে ছুটে আসবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশে নবনির্মিত ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, এটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তথাপিও শুনলাম এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অন্তত ২০০ লোকের সুন্দর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অবস্থা বুঝে মনে হচ্ছে, কারো কারো এটি সহ্য হচ্ছে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হতে হবে মানুষের কল্যাণ করা। এমপি হবো, চেয়ারম্যান হবো, মাস্তানি করা; এগুলো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে অভিজাত একটি কাজ। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর-মার্জিত। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে মানুষের জন্য শিক্ষনীয়। রাজনীতি আর মাস্তানি একসাথে চলে না। সুতরাং, যে দলই আপনি করুন না কেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করুন। আসুন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা যেন এ চৌদ্দগ্রামকে একটি মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেলক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী কাজ করি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এখানে এসেই আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখানে হযরত ওলামায়ে কেরামদের বিশাল একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তাদের সাথে আমার সাক্ষাতও হয়ে গেলো। আমার বাবাও একজন আলেম ছিলেন। সুতরা, জন্মগতভাবেই হযরত ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সবসময় আমার একটা দুর্বলতা ও ভালোবাসা কাজ করে। উনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমি হোটেল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটিও একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি উপস্থিত লোকজনের নিকট প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি কোন দলের? আওয়ামী লীগের? বিএনপির? জামায়াতে ইসলামীর? না। প্রতিষ্ঠান কোনো দলের হয়না। এটি এলাকার সকল মানুষের। এখানে মানুষ অর্থের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করবে। এটি সার্বজনিন প্রতিষ্ঠান। যারাই উদ্যোগ নেন, তারা সমাজসেবার মানসিকতায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলেন। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কখনো এমন প্রতিষ্ঠান চালু করে না। মূলত সেবার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করা হয়। সুতরাং, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে এ প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। আমি এ হোটেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম-নাঙ্গলকোট সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলী আজ্জম, মো. হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা খাজা আহমেদ, টিআই মোহাম্মদ ফারুক, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জামায়াত নেতা শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. আমির হোসাইন, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব এর সুযোগ্য সন্তান ইকবাল মাহমুদ, ইকরাম মাহমুদ, ইমরান মাহমুদ সহ এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

কুমিল্লার ডাক ডেস্ক।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম
বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও আশপাশের এলাকায় বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে পরিচিতি পেয়েছেন মো. গোলাম সারোয়ার। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দানবীর হাজী জুনাব আলী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সেই সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে গোলাম সারোয়ারের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং মহানগর দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফাইন টাওয়ারের চেয়ারম্যান। এছাড়া কয়েকটি কমপ্লেক্সের পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গোলাম সারোয়ার সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম সারোয়ার নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এলাকার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলার প্রসারে সহযোগিতা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অনুদান দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।

করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নিজ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তাঁদের মতে, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মানসিকতাই গোলাম সারোয়ারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয় ভোটার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গোলাম সারোয়ারের সততা, নম্রতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাঁকে স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিমসার ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, গোলাম সারোয়ার আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এলাকার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশাকে ঘিরে গোলাম সারোয়ারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নিমসার ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিপদে মানুষের পাশে থাকার যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছেন, সেটিই এখন সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

×