প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুবি উপাচার্যের বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ”অমুকের চামড়া তুলে নিবো আমরা, এসব শিক্ষার্থীদের কাজ নয়” উপাচার্যের এমন বক্তব্য নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্যের পর শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ মন্তব্য করেছেন, উপাচার্য ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির উত্থান করতে চাচ্ছেন।
জানা যায়, ২৮মে (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপাচার্য বলেন, “অমুকের চামড়া তুলে নিবো আমরা এসবের পিছনে সময় নষ্ট না করে সময়টুকু কাজে লাগাতে হবে। আমাদের কাজ হবে কিভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়াতে পারি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি। আমরা যেন দেশের মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যায়ে যেতে পারি সে চেষ্টা করবো।”
এদিকে উপাচার্যের এমন বক্তব্য ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে বলছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল বাঙালির আশা-ভরসা আস্থার শেষ ঠিকানা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে “ছাত্রদল ও শিবিরের চামড়া, তুলে নিবআমরা” স্লোগানের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রোগ্রামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই স্লোগানের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। একটা স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি সংগঠন ছাত্র শিবির ও ছাত্রদল কে কুবি ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত করার মিশন নিয়ে এসেছেন..?
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, উপাচার্য স্যার কথাটি নিঃসন্দেহে ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে কুটক্তির প্রতিবাদে সারাদেশের ছাত্রলীগের মতো আমরাও এমন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাই। এই স্লোগানকে উদ্দেশ্য করে উপাচার্যের বক্তব্য দেওয়া সেটি দুঃখজনক। কি কারণে ওনি এ ধরণের বক্তব্য দিলেন? তাহলে কি ওনি ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির উত্থান ঘটাতে চাচ্ছেন কিনা সেটা ওনি ভাল বলতে পারবেন। আমরা এটি নিয়ে উপাচার্য স্যারের শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অবশ্যই ব্যাখ্যা চাইবো। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন বলেন, আমি গঠনমূলক বক্তব্য প্রদান করেছি। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নাই। আমি কারও নাম ধরে এমন বক্তব্য দেইনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাকের বক্তব্যের প্রতিবাদে গত ২৬ মে বিক্ষোভ মিছিল করেন কুবি শাখা ছাত্রলীগ। সেখানে নেতা-কর্মীরা ‘ছাত্রদলের চামড়া তুলে নিবো আমরা, কুবির মাটি ছাত্রলীগের ঘাটি’ এসব শ্লোগান দেন।















