মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ফকির বাজার ইসলামিয়া ছুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলীর শাস্তির দাবিতে স্মারক লিপি

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২, ৬:২৩ পিএম
ফকির বাজার ইসলামিয়া ছুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলীর শাস্তির দাবিতে স্মারক লিপি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

গত ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষায় সাইফুল হাসান প্রথম হওয়ার পরও এবং সদস্যদের সুপারিশ উপেক্ষা করে তার একক সিদ্ধান্তে নিয়োগ দেয়নি। তখন থেকেই কমিটির সদস্যদের সাথে মতবিরোধ শুরু হয়। অতঃপর কমিটির মিটিং না করেই রেজুলেশন লেখার জন্য অধ্যক্ষকে বলেন। অধ্যক্ষ তার কথা মত অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি অধ্যক্ষের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে।

১৮/১২/২০২১ ইং তারিখ নিয়োগ বোর্ডে সুপারিশ প্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের রেজুলেশন ও নম্বর পত্রে স্বাক্ষর না করার জন্য ডিজির প্রতিনিধিকে বলে দেয়। যার কারণে অধ্যক্ষ দুই দিন মিলিয়ে ডিজির কার্যালয়ে ১৪ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং সারাদিন ফোন দেয়ার পরও তার কোনো সারা পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার দিকে ফোন রিসিভ করে বলে কাগজপত্র নিয়ে তার বাসায় যাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে ডিজির প্রতিনিধি অধ্যক্ষের অসহায়ত্ব দেখে তার চাটুকারিতার সব কথা খুলে বলেন এবং স্বাক্ষর করেন।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোহাম্মদ আইয়ুব আলী মানিককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ১ বছর পর্যন্ত নিয়োগ দেয়নি। পরবর্তীতে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছে। এইসব ঘটনাবলী মাননীয় এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মাননীয় এমপি মহোদয়কে বারবার অনুরোধ করে এবং পূর্বের বিষয়গুলির জন্য ক্ষমা চেয়ে সুপারিশ পত্র গ্রহণ করে। পরবর্তীতে বোর্ডের চিঠি আসার পর গভর্নিং বডির প্রথম সভা করার জন্য অধ্যক্ষ তাকে বারবার অনুরোধ করে। অবশেষে ২২/০২/২০২২ ইং তারিখ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যুৎসাহী সদস্য নিয়োগ নিয়ে কমিটির সদস্যদের সাথে ঝগড়া লেগে যায় এবং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। অতঃপর সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবুল কাশেমকে নিয়োগ দেয়া হয়। সভাপতি বলেন কাজী আবুল কাশেমকে দেয়া যাবে না। আমি যে সিদ্ধান্ত দেই সেটা সকলকে মানতে হবে। অধ্যক্ষ বলেন আপনারা সকলে যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই হবে, একক সিদ্ধান্ত মানা আবশ্যক হলে কমিটি কিসের জন্য? পরবর্তীতে উনি ঢাকায় গিয়ে অধ্যক্ষকে ফোন করে বলেন কাজী আবুল কাশেমকে বাদ দিতে হবে, না হয় তিনি মাদ্রাসায় কোন সভা করবেন না এবং বলে আমার কথা আপনাকে (অধ্যক্ষকে) শুনতে হবে।

২২/০২/২০২২ ইং তারিখ থেকে আর কোন সভা করেন নাই। অধ্যক্ষ বারবার অনুরোধ করার পরও তার একই কথা কাজী আবুল কাশেমকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য থেকে বাদ দিতে হবে, না হয় কিছু করবো না। মাননীয় এমপি মহোদয়কে এ বিষয়ে সবিস্তারে জানানো হয়েছে এবং সভাপতি এমপি মহোদয়কে জানায় আমি পদত্যাগ করব। এমপি মহোদয় বলেছেন তাহলে পদত্যাগ পত্র অধ্যক্ষের নিকেট জমা দাও। এমপি মহোদয় অধ্যক্ষকে বলেছেন সে পদত্যাগ পত্র দিলে তা গ্রহণ করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু সে পদত্যাগ পত্র না দিয়ে ঢাকায় বসে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায়।

শিক্ষকগন ও ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক পরিশ্রম করে ১৮/০৩/২০২২ ইং তারিখ কক্সবাজার শিক্ষা সফরে যাওয়ার দিন ধার্য করা হয়। তিনি অনুমতি না দিয়ে একক সিদ্ধান্তে শিক্ষা সফর বাতিল করে দেন।

মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২৬/০৩/২০২২ ইং তারিখ ধার্য করা হয়, এই অনুষ্ঠানটিকেও তিনি একক সিদ্ধান্তে বাতিল করে দেন। উল্লেখ্য যে, তখন তিনি ফকির বাজার স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি হওয়ার জন্য তদবির করছে উল্লেখ করে অধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল কাজী আবুল বাশারকে তার পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য বলে। অধ্যক্ষ এলাকার প্রতিষ্ঠানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে তার পক্ষে কোন কথা না বলায় সে অধ্যক্ষের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়।

৩১/০৫/২০২২ ইং তারিখ রাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষ, অফিস কক্ষ ও শিক্ষকদের কক্ষ চুরি হয়। মাদ্রাসার অফিস কক্ষের আলমারি এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ড্রয়ার ভেঙ্গে সেখান থেকে কিছু টাকা নিয়ে যায় এবং মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট করে ফেলে। পরদিন ০১/০৬/২০২২ ইং তারিখ সকালে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় এসে এই অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে ফোন করে, কয়েকবার ফোন করার পরও রিসিভ না করায় তাকে মেসেজ পাঠায়। তার কোনো সারা না পেয়ে অধ্যক্ষ চুরির ঘটনা বুড়িচং থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, কমিটির সদস্য, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানায়। থানা থেকে ওসি, এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে বিষয়টি সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অধ্যক্ষকে বলেন দ্রুত কমিটির সভা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ তাকে ফোন করে বলেন জরুরি কমিটির সভা করা দরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ০২/০৬/২০২২ ইং তারিখ বিকাল ৩ টায় আসবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় নির্ধারণ করে দেন এবং অধ্যক্ষ যথারীতি কমিটির সভা আহ্বান করেন। সভাপতির দেয়া নির্ধারিত তারিখে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বেলা ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করেও তার সারা মেলেনি, অধ্যক্ষ বিকেল পাঁচটায় ফোন করায় তিনি জানান আসতে পারবো না, ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথে মিটিং আছে। তখন প্রবিধান মোতাবেক দাতা সদস্যকে সভাপতি করে সভার কাজ সম্পন্ন করা হয়। অনুরূপভাবে সে না আসায় ১৩/০৬/২০২২ ইং চুরির ঘটনায় একটি সভা করা হয়। তারপর NTRCA তে শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা দেয়ার জন্য ২১/০৭/২০২২ ইং তারিখে আরো একটি সভা করা হয়। প্রকাশ থাকে যে, কমিটির সভা না করার কারণে উপাধ্যক্ষের তিন মাসের বকেয়া প্রায় ১১০০০০/= (এক লক্ষ দশ হাজার টাকা) এবং সহকারি মৌলভীদের উচ্চতর স্কেল পায়নি।

মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষকে না জানিয়ে শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করে তার পক্ষে দল গঠন করার চেষ্টা করে। এমনিভাবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০/০৭/২০২২ ইং তারিখে তিনি অধ্যক্ষকে না জানিয়ে মাদ্রাসায় এসে শিক্ষক রুমে গিয়ে উপস্থিত শিক্ষকদেরকে নিয়ে সভা করে এবং বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলে শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল তৈরির প্রয়াস চালায়। তারপর অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এসে তার নিকট রেজুলেশন খাতা চায় এবং রেজুলেশন খাতাটি নিয়ে উক্ত ৩টি রেজুলেশন ছিড়ে নিয়ে যায়। উপস্থিত সকলে এমন কাজ না করার অনুরোধ করার পরও কারো কথা শুনেননি।

উপরোক্ত সভা না করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজে অসহযোগিতার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য গোপনে অফিস সহকারীদেরকে চাপ দিয়ে পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে সভাপতি কর্তৃক গভর্নিং বডির মিটিং ডেকেছে মর্মে ৪টি চিঠি রিসিভ করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ বিষয়টি অবগত হয়ে অফিস সহকারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা বিস্তারিত লিখে জবাব দাখিল করে। উল্লেখিত ঘটনাবলী প্রমাণাদিসহ মাননীয় এমপি মহোদয়কে দেখানো হয়েছে।

০৩/০৯/২০২২ ইং তারিখ ০৩ জন শিক্ষক তাদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির কাগজ পত্র, উপাধ্যক্ষের বকেয়া বেতন ভাতার কাগজপত্র ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারী বেতন-ভাতার বিল আগস্ট/২০২২ নিয়ে কুমিল্লা থেকে সভাপতির ঢাকার বাসায় যান। তিনি স্বাক্ষর না করে শিক্ষকদের ফেরৎ পাঠিয়ে দেন।

তার এহেন কর্মকান্ডের কারণে বিশেষত একক আধিপত্য বিস্তার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অন্যান্য সদস্যদের অপমান করায় কমিটির ০৯ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগ পত্রসহ মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন করা হলে মাদ্রাসা বোর্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রমাণিত হওয়ায় কমিটি ভেঙ্গে দেয় এবং এড-হক কমিটি গঠনের অনুরোধ করে। তারপর থেকে পদ হারিয়ে তার মাথা খারাপ হয়ে যায়, তখন সে আবোল তাবোল কথাবার্তা বলা শুরু করে এবং মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষের ব্যাপারে নাম সর্বস্ব কিছু পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করে, যেগুলোর প্রতিবাদ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। অচিরেই প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×