মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ভাণ্ডারিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর অফিস কক্ষ কম্পিউটার অপারেটরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র!

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:১৩ পিএম
ভাণ্ডারিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর অফিস কক্ষ কম্পিউটার অপারেটরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইসের) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (কম্পিউটার অপারেটর) মো. এমাদুল হক অফিস কক্ষে কম্পিটারে অনলাইনে নিজস্ব ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কর্মচারী এমাদুল হক অফিসের অভ্যন্তরে দিনে রাতে শিক্ষক ও অশিক্ষকদের অনুপ্রবেশ করিয়ে কম্পিটার ও অনলাইনে নানা কাজ কর্ম করে আসছেন। ফলে শিক্ষা অফিসের কক্ষ হয়ে উঠছে তার ব্যাক্তিগত ব্যবসা কেন্দ্র।

অনুসন্ধানে দেখো গেছে, জাতীয় শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইউআইটিআরসিএ কর্মরত মো. এমাদুল হক (কম্পিউটার অপারেটর) ব্যানবেইসের ইউআইটিআরসিএ সরকারী অফিসে সরকারী যন্ত্রপাতি ও আসবাব পত্র কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, টোনার, কাগজ, কালি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বানিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তিনি অত্র উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষকদের নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন, উচ্চতর টাইমস্কেল, বিএড স্কেল, প্রমোশন, ইনডেক্স ডিলেট, ম্যানেজিং কমিটির আবেদন, চাকুরীর ফরম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য টাইপ ও ফটোকপির কাজ বানিজ্যিক ভিত্তিতে করছেন। এছাড়াও নন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভাণ্ডারিয়া বন্দরে আগত বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের কস্পিউটার সংক্রান্ত টাইপ ও ফটোকপির কাজ টাকার বিনিময়ে করে থাকেন। তিনি নিজেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এ্যাসিষ্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের প্রভাবিত করে শিক্ষকদের নিকট হতে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিমাসের শেষ ও ১ম সপ্তাহে অফিস ভবন দিন রাত ২৪ ঘন্টা খোলা রেখে অফিসের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমান শিক্ষক ও অশিক্ষকদের অনুপ্রবেশ করিয়ে এসব বাণিজ্যিক কাজ কর্ম করে আসছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, অফিস চলাকালিন সময়ে কম্পিউটার ফটোকপি ও অনলাইনের সকল কাজ পয়সা ছাড়া করেন না। বহিরাগতদের কাজও তিনি অফিসের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেন।

এ বিষয়ে কম্পিউটার মো. এমাদুল হক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, অফিসে আমাদের জরিপের কাজ চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম জানান, অফিস বন্ধ হওয়ার পর বহিরাগতদের কোন কাজ করার কোন সুযোগ নেই। এটা করে থাকলে তিনি সঠিক কাজ করেননি। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে ব্যানবেইস এর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রোগ্রামার অফিসার খান আহম্মেদ বুলবুল জানান, আমি রামপালে কর্মরত আছি। ভাণ্ডারিয়ায় আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। আমি রামপালে অবস্থান করায় এ বিষয়ে সঠিক কিছু আমার জানা নাই। তিনি অফিসের নিয়ম নীতির পরিপন্থি কাজ করলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন আরাফাত রানা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। অফিসে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যাক্তিগত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড করতে পারেন না। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×