সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মাদক বেচাকেনা : রক্ষক ৩ কর্মকর্তাই ভক্ষক

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩, ৪:৩৬ পিএম
মাদক বেচাকেনা : রক্ষক ৩ কর্মকর্তাই ভক্ষক
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চাঁদপুরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকা ও আন্তঃজেলা যোগাযোগের জন্য সড়ক, রেল ও নৌপথের ব্যবস্থা রয়েছে। যে কারণে খুবই সহজেই মাদক কারবারিরা এই জেলার রুটগুলো ব্যবহার করে। কিন্তু জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণে রক্ষক হিসেবে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভক্ষকের ভূমিকা পালন করায় কারবারিদের জন্য মাদক বেচাকেনার বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদপুর জেলার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক বেচাকেনার সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা এখনও সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

অভিযুক্তরা হলেন চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এসআই পিয়ার হোসেন, সহকারী এসআই মো. সাইফুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক সেন্টু রঞ্জন নাথ। জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম দিদারুল আলম গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত তারা চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে বহাল তবিয়তে। এই অভিযোগের অনুলিপি একই সঙ্গে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকায় মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালকের (অপারেশন ও গোয়েন্দা) কাছে পাঠানো হয়।

সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি জানতে পেরেছেন, সেন্টু, পিয়ার ও সাইফুল নামে ৩ কর্মকর্তা চাঁদপুরে যোগদান করার পর থেকে গত ৫ বছরে বিভিন্ন সময় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোপনে সখ্যতা গড়ে তোলেন। যার কারণে মাদকের বড় ধরনের কোনো মামলা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। একই সাথে তারা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসিক হিসেবে নগদ টাকা নিতেন বলেও কয়েকজন কারবারি অভিযোগ করেছেন। শুধুই তাই নয়, এই তিনজন সংঘবদ্ধভাবে মাদক বিক্রিতে কারবারিদের বাধ্য করতেন।

এই ৩ কর্মকর্তার মাদক বেচাকেনার অনুসন্ধ্যানে গিয়ে কথা হয় একাধিক মাদক বিক্রেতার সঙ্গে। তাদের কথাগুলো সংরক্ষণ করেছেন এই প্রতিনিধি। একই সঙ্গে ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক সপ্তাহ আগে শহরের ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

চাঁদপুর শহরের আদালত পাড়া এলাকার অন্যতম মাদক বিক্রেতা দেওয়ান মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি এক সময় মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কিন্তু আমার সন্তানরা বড় হওয়ার পর এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এরপরও ভালো থাকতে পারেনি। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৩ কর্মকর্তা সাইফুল, পিয়ার ও সেন্টু আমাকে মাদক বিক্রি করতে বাধ্য করেছে। সাইফুলের বাড়ি কুমিল্লা হওয়ায় তারা সেখান থেকে মাদক নিরাপত্তা দিয়ে এনে আমাকে দিয়ে বিক্রি করিয়েছে। এর জন্য তারা আমার কাছ থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা নিতেন। তাদের কারণে আমি চাঁদপুর থেকে ফরিদগঞ্জে বাসা নিয়েছি। সেখানে গিয়েও তারা আমার সঙ্গে মাসিক নির্ধারিত টাকা না দেওয়ায় সমস্যা করে ও আমাকে মাদক দিয়ে চালান দেয়।’

শহরের কয়লা ঘাট এলাকার লোক কলোনীর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সোর্স রিপন ঢালী জানান, ‘সম্প্রতি সাইফুল, পিয়ার ও সেন্টু এই ৩ কর্মকর্তা মাদক বিক্রেতা রানা, রহিমসহ তার সহযোগীদের টাকা খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়া, শহরের খুচরা মাদক বিক্রেতা ক্লাব রোডের জোনাকি, আল-আমিনের স্ত্রী, লেংড়ি খালা, রাজিব, লাকী, রানা, বারেক ও জসিম মিজি থেকে সাপ্তাহিক অন্তত ৩০ হাজার টাকা করে নেয়। তাছাড়া মাদক বিক্রেতা শাহাজাহান ঘর থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পেয়ে না এনে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসেন ওই অসাধু ৩ কর্মকর্তা।’

শহরের জামতলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা শাহজাহানের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার পুতুল বলেন, ‘আমার স্বামী মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন নেই। আমার স্বামী মাদক খায়, কিন্তু বিক্রি করে না। যখন বিক্রি করেছে তখন মাদক অফিসের কর্মকর্তা সাইফুল, পিয়ার ও সেন্টু মাসিক টাকা নিতেন। এখন মাসিক টাকা না দেওয়ায় বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মামলার হুমকি দিচ্ছে।’

অধিদপ্তরের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই অভিযুক্ত তিনজন চাঁদপুর শহরের একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িত। অভিযানের আগে তারা মুঠোফোনে কারবারিদেরকে জানিয়ে দিতেন। যে কারণে অভিযান করেও সফলতা পাওয়া যায়নি। যার ফলে কাজের ধীরগতি ও তাদের কারণে অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলা হয়।

অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তা সাইফুল, পিয়ার হোসেন ও সেন্টু রঞ্জন দেবনাথের বক্তব্য নেয়ার জন্য তাদের ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন ধরেননি তারা। ফোনে না পেয়ে রোববার অফিস চলাকালীন সময়ে তাদের দপ্তরে গিয়েও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তাদের অপারেশন কক্ষটি বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায়নি। এই প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন।

চাঁদপর জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি এই জেলায় আগেও ছিলাম। চলতি বছরের জুনে আবার যোগদান করেছি। এখানকার প্রশাসন ও অন্যান্য লোকজন আমার পরিচিত হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমার কাছে বিভিন্নভাবে অভিযোগ আসতে থাকে। এগুলো আমার কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে আমাকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠাই। অধিদপ্তর তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি দেখবেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরে তারা নিজেদের রক্ষায় সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক জাফর উল্যাহ কাজলকে প্রশ্ন করেন এই প্রতিনিধি। জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের বিষয়ে আমাদের প্রধান দপ্তর কাজ করছে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।’

এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রতিনিধির সঙ্গে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×