বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

যুদ্ধদিনের স্মৃতি : মিয়াবাজারসহ তিন সেতু বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করে দেই

মীর শাহ আলম : প্রকাশিত: সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৩, ৬:৪৮ পিএম
যুদ্ধদিনের স্মৃতি : মিয়াবাজারসহ তিন সেতু বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করে দেই
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে সবেমাত্র লেখাপড়া শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করার চিন্তা ছিল মফিজুর রহমান বাবলুর। কিন্তু একাত্তরের ২৬ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অতর্কিতে হামলে পড়লে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া মহকুমার কাঠালিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম ক্যাম্পে সশস্ত্র ট্রেনিং নেওয়ার জন্য চলে যান তিনি। সেখানে তার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লার রাজপথ কাঁপানো নেতা আফজল খান, আকবর হোসেনসহ অন্যরা।
সেখানে তারা ১০ দিনের ট্রেনিং নেন। পরে ২নং সেক্টরের অধীনে থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ ছাড়া বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর থানার রাধানগরে প্রশিক্ষণ শিবির খুলে পূর্ব পাকিস্তানের পাঁচ সহ¯্রাধিক যুবককে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সমন্বয়কের দায়িত্বে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই বীর সন্তান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ও লতিফা খাতুনের ছেলে।
যুদ্ধদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মফিজুর রহমান বাবলু বলেন, পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তার নোয়াপুর গ্রামের বাড়িটি ছিল এতদাঞ্চলের মুক্তিবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প। আওয়ামী লীগের নেতারাও বিভিন্ন সময়ে সেখানে বৈঠকে মিলিত হতেন। তৎসময়ে এমএনএ ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর কাজী জহিরুল কাইয়ুম বাচ্চু মিয়া ওই বাড়িটি নিরাপদ মনে করে সেখানে থাকতেন এবং তার সঙ্গে অন্য বড় মাপের মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন। রাজাকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাক হানাদার বাহিনী এ খবর পেয়ে দিন-দুপুরে নোয়াপুর গ্রামের বাড়িটি ঘেরাও করে।
মফিজুর রহমান বাবলু বলেন, একাত্তরের জুলাই মাসে তার আপন চাচা শফিকুর রহমান, আমিনুর রহমান, আবদুল খালেক, মো. আলম এবং ফেনীর শর্শদী গ্রামের গোলাম আজম নামের এক মেহমানকে হানাদার বাহিনী ধরে ফেলে। তাদেরকে রশি দিয়ে পীঠমোড়া করে বেঁধে ফেলা হয় এবং দাদা শওকত আলী মজুমদারের সামনে বাড়ির সম্মুখে প্রথমে তার বড় ছেলে শফিকুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রথম ছেলেকে হত্যার আগে হানাদাররা বলে, বুড্ডার খেল দেখুয়া। এভাবে পর্যায়ক্রমে একের পর এক চার চাচা ও এক মেহমানসহ পাঁচজনকে হানাদাররা এক ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে মেরে ফেলে।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ওই দিনের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, পাকবাহিনী পাঁচজনকে হত্যার পর আমার দাদাকে জীবিত রেখে বাড়ি থেকে চলে গেলেও আমার দাদা শওকত আলী মজুমদারের চোখের সামনে তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে একাধারে তার চার সন্তান ও মেহমানকে হত্যার ঘটনায় তিনি (দাদা) বাকরুদ্ধ ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ছেলেদের এমন নির্মম হত্যাকা- দেখে শোকে তিনি তিন বছর পর মৃত্যুবরণ করেন।

 

একাত্তরে এতদাঞ্চলে কিংবা অন্য কোথাও বাবার চোখের সামনে টগবগে চার সন্তানকে এমন নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর এই বীর শহীদদের স্মরণে সরকারিভাবে নোয়াপুর গ্রামে ‘নোয়াপুর শহীদ স্মৃতি পাঠাগার’ স্থাপন করা হয়।
যুদ্ধদিনের স্মৃতি প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু আর বলেন, বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রাম অঞ্চলে পাকবাহিনী সাঁজোয়া যানবাহনে করে বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করত। তাদের প্রতিরোধ করতে আমরা তখন সড়কের মিয়াবাজার, নোয়াবাজার, লালার পুলে বিস্ফোরক লাগিয়ে সুইচ টিপে পর্যায়ক্রমে এই তিনটি সেতু ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। ফলে এতদাঞ্চলে তাদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমে আসে। তিনি বলেন, আমাদের কাজ ছিল মূলত ‘হিট অ্যান্ড রান যুদ্ধ’।

একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর চৌদ্দগ্রামের দু’দিক থেকে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে পাকবাহিনীর একটি অংশ একপর্যায়ে পিছু হটে। তখন আমরা পরিকোট ব্রিজ উড়িয়ে দিয়েছিলাম। সে সব দৃশ্য আজো যেন চোখের সামনে ভাসছে, যা কখনো ভোলা যায় না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, প্রখ্যাত আইনজীবী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।

১৯৪৬ সালের ১০ আগস্ট জন্ম নেওয়া বাবলু তার মামা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি কাজী জহিরুল কাইয়ুমের হাত ধরে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাজনীতির পথে পা বাড়ান। তারপর ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন অবিভক্ত কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। সে সময় জাতির পিতা ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে অংশ নেন ডাকসুর সদস্য হিসেবে। সত্তরের নির্বাচনে দলের হয়ে কাজ করেন। অংশ নেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ সম্পাদকের। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ১৯৮২ ও ১৯৮৮ সালে দলীয় কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি ও ফ্রিডম পার্টির নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মফিজুর রহমান বাবলু নিজেকে জড়িয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার চাওয়া রাজনীতিকে অর্থ ও পেশীশক্তির কাছে জিম্মি না করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে শোষণহীন সুন্দর আগামীর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে সকল শ্রেণি- পেশার মানুষকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×