মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

লন্ডনমুখী বিএনপি নেতারা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০২৩, ৮:২৭ পিএম
লন্ডনমুখী বিএনপি নেতারা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা লন্ডনে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন আরও অনেকে। দলে দলে লন্ডনমুখী হচ্ছেন বিএনপি নেতারা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ, তার গুডবুকে নাম লেখানো, প্রার্থিতার বিষয়ে এলাকায় আওয়াজ তোলা, দলের ভিতরে নিজের কদর বৃদ্ধিসহ নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত করতেই মূলত তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন লন্ডনে।

কেউ কেউ আবার সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানের সঙ্গে নানা পোজের ছবি তুলে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান দিচ্ছেন নিজেদের লন্ডন সফর। জানা গেছে, বেশির ভাগ নেতাই স্ব-উদ্যোগে লন্ডন গিয়ে চেষ্টা-তদবির করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে আসছেন। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, রোজার ঈদের আগে ও পরে মিলে গত দেড় মাসে দলের বিভিন্ন স্তরের ২০ জনের বেশি নেতা লন্ডন গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

এক বছরের কম সময়ে গেছেন ৫০ জনের বেশি। এর মধ্যে বিএনপির সমমনা দলেরও কেউ কেউ রয়েছেন। বিএনপির উল্লেখযোগ্য নেতার মধ্যে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, আরেক উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগরী উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া বিএনপির সাবেক জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থও লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছবি তুলে যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এমন অনেক নেতা লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নীতিনির্ধারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাঁরা জানান, যারা লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, তাদের সবাই নিজ উদ্যোগে গেছেন এবং যাচ্ছেন। তাদের কাউকে তিনি (তারেক রহমান) ডেকে নেননি। সবাই মোটামুটি দলের ভিতরে নিজের পদপদবি ও অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে নিজের আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই সেখানে ছুটছেন। পাশাপাশি এলাকার নেতা-কর্মীদের জানানো যে, দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ও অবস্থান খুব ভালো।
তার মনোনয়ন মোটামুটি নিশ্চিত।
দলীয় নেতাদের লন্ডন সফর নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নেতার সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগের একটা বড় দিকই হচ্ছে দেখাসাক্ষাৎ। নেতা যেহেতু লন্ডন থাকেন, সেহেতু দলীয় নেতা-কর্মীরাও লন্ডন যাবেন- এটাই স্বাভাবিক। তবে যাদের সামর্থ্য আছে, তারাই লন্ডন যাচ্ছেন। আবার অনেকে ব্যক্তিগত কাজে লন্ডন যান, তখন নেতার সঙ্গে দেখা করে আসেন। আবার অনেকে সাংগঠনিক কাজেও লন্ডন যেতে পারেন। নানা কারণেই তারা লন্ডন যেতে পারেন। এর মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়। ’

লন্ডন সফর করে অতি সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আসলে আমাদের লন্ডনে যাওয়াটা নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল না। আমরা একটা আন্দোলনের মধ্যে আছি। তিনি (তারেক) সেখান থেকে নেতৃত্ব ও গাইডলাইন দিচ্ছেন। সেই আন্দোলন কীভাবে আরও বেগবান করা যায় সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। চলমান আন্দোলন সফল করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ’

লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি গিয়েছিলাম যুক্তরাজ্য বিএনপির স্বাধীনতা দিবসের প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এ সময় বিএনপির মিডিয়া সেলের বিষয়বস্তুসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি কিছু গাইডলাইন দিয়েছেন। এটাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। অন্যরা কেন যাচ্ছেন সেটা তো আমি বলতে পারব না। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যারাই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন, সবাই তার সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ‘দলে নিজের অবস্থান খুবই ভালো’ এ বার্তাটি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া এ বার্তা দিতে চাচ্ছেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগামী নির্বাচনে একমাত্র তিনিই প্রার্থী। আসলে বেশির ভাগই নেতাদের ব্যক্তিগত সফর, কোনো সাংগঠনিক সফর নয়। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলের কোনো নেতা বা কর্মী যে পর্যায়েই থাকুক না কেন- তিনি তার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে গিয়ে দেখা করবেন, এটা তো অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। এতে তারা দ্বিগুণ-তিন গুণ হারে উজ্জীবিত হন, সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেশি প্রেরণা পান। তা ছাড়া তার (তারেক) নেতৃত্বে রাজপথে আমাদের আন্দোলন চলছে। সে ব্যাপারেও তিনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। কাজেই নেতাদের লন্ডন সফরের বিষয়টিতে নেতিবাচক কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ ইতিবাচক একটি বিষয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকেই তিনি দল পরিচালনা করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তেই তারা শপথ নেন এবং তার নির্দেশেই গত বছর ১১ ডিসেম্বর তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×