মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা! চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

মো: সাখাওয়াত হোসেন (হৃদয়) স্ট্যাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৪৯ এএম
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা! চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

‎‎মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (হৃদয়)

‎কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি বর্তমানে চরমভাবে জরাজীর্ণ। লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জ প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে বড় বড় গর্ত, বিশেষ করে আশিরপাড় বাজার হইতে মনোহরগঞ্জ সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত ভাঙা কার্পেটিং এবং ধ্বংসপ্রায় অবকাঠামো যেন জনদুর্ভোগের স্থায়ী প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে, যার মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী যানবাহন এবং সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল দশা তাঁদের জন্য এখন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।


‎২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটির একাধিক স্থানে পানি উঠে গেলে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হতে থাকে, যা দিনদিন আরও বড় ও বিপজ্জনক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই গর্তগুলো পানিতে ঢেকে গিয়ে রীতিমতো প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। এতে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা—অনেকে আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ প্রাণ হারানোর মতো অবস্থার মুখেও পড়ছেন।


‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা এমন হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কিছুদিন আগে সামান্য মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

‎একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‎এই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন জীবন নিয়ে খেলাধুলা করার মতো। রোগী নিয়ে বের হলে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারি না। দুর্ঘটনার ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।

‎মনোহরগঞ্জের এক সিএনজি চালক বলেন, ‎এই রাস্তায় প্রতিদিন গাড়ি চালাই। যেকোনো সময় গাড়ির টায়ার গর্তে পড়ে উল্টে যেতে পারে, সেই ভয় নিয়েই গাড়ি চালাই। এভাবে চলতে থাকলে কখন যে কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয় আল্লাহ জানে।


‎সাধারণ মানুষের জোর দাবি অবিলম্বে এই মহাসড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। তারা চান, একটি উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই সড়ক, যা যাত্রীসাধারণকে নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ করে দেবে।


‎এই সড়কটি শুধু লাকসাম বা মনোহরগঞ্জ নয়, ‎এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অবহেলা নয়, প্রয়োজন এখন বাস্তবায়নের।

‎এবিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম দৈনিক কুমিল্লার ডাক-কে বলেন আমরা টেন্ডার জমা দিয়ে রেখেছি, আশা করছি খুব শিগগিরই সংস্করণ কাজ শুরু হবে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×