রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’

মো. মনিরুজ্জামান : প্রকাশিত: বুধবার, ১ মার্চ, ২০২৩, ৬:৪৮ পিএম
‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

যশোর জেলার এক নিভৃতপল্লীতে স্কুলমাস্টারের ঘরে আমার জন্ম। বেড়ে ওঠাও নিত্যদিনের আটপৌঢ়ে পরিবেশে, শান্ত-সুনিবিড় আলো-হাওয়ায়। আমি লেখক নই, কোনোকালে লেখক হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ, অতি ক্ষীণ। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কেন এই প্রয়াস। সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টাই এখানে।

আমার ছোট্ট এ জীবনে গর্ব করার মতো খুব একটা কিছু নেই। ছোটবেলায় বা একটু বড় হয়েও নিজ পরিমণ্ডলে মোটামুটি ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলাম। বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, যদিও বিজ্ঞান সাধনা সে অর্থে করা হয়ে ওঠেনি তেমন একটা। বাবা-মা, পরিবার-পরিজন ভাবতেন, বিজ্ঞানী না হোক বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিংবা তালেবর কিছু একটা হবেই তাদের ছেলে। আমিও এর বাইরে খুব একটা ভাবিনি জীবনের একটা সময় পর্যন্ত। নব্বই দশকের শুরুতে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে স্বপ্ন দেখছি আমাকে নিয়ে দেখা আমার প্রিয়জনদের স্বপ্নপূরণে কিছু একটা করার, সে সময় আমার পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে গেল সন্ত্রাসের বিভীষিকা।

শারীরিক, আর্থিক, সামাজিক এবং বিশেষভাবে মানসিক নির্যাতনে পর্যুদস্ত হলাম আমি ও আমার পরিবার। চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা আমাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে প্রকাশ্য দিবালোকে তাণ্ডব চালালো, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হলাম আমি এবং আমার ভাই। বিচার তো পেলামই না, এমনকি থানায় মামলা বা অভিযোগও করতে পারলাম না। এখানে-সেখানে ধরনা দিলাম। সবাই আশ্বাস দিলো, সহানুভূতি দেখালো এবং বেলাশেষে তাদের অপারগতা জানালো। বয়সটা অল্প ছিল, সেই অল্প বয়সেই বোধে এলো এই সোসাইটিতে টিকে থাকতে হলে মাস্তান হতে হবে, ভদ্রলোকদের এখানে টিকতে হলে থাকতে হবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে। সন্ত্রাসী-মাস্তানির বাইরে পুলিশের একটু ইজ্জত বা সম্ভ্রম নিয়ে টিকে থাকার সুযোগ আছে, কারণ সাধারণত মাস্তানরা তাদের ঘাঁটায় না।
জীবনের অনেকগুলো বসন্ত পেরিয়ে এসেছি, এখন আর মাস্তান হওয়া সাজে না, আর মাস্তানি তো রক্তেও নেই। আমি সারা জীবনের ভোলেভালে আদমি। সিদ্ধান্ত নিলাম পুলিশ হবো, মাথা উঁচু করে বাঁচবো। যারা নিরীহ মানুষের শান্ত-নিস্তরঙ্গ জীবনে অকারণে অপছায়া ফেলে, অন্যের মাথা যারা অকারণে নিচু করতে চায়, তাদের টুঁটি চেপে ধরবো। পরম করুণাময় আমার সহায় হলেন। আমি নাম লেখালাম বাংলাদেশ পুলিশের খেরোখাতায়। এবং সেই থেকে নিতান্তই সাধারণ এই আমি একটু গর্ব করেই বলি ‘I am a police officer by choice and not by chance’. আমি দেখেশুনে বিষ করেছি পান। দেশে পাঁচ বছর আমার মনের মতো করে পুলিশিং করার পর সুযোগ আসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত কসোভোতে শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করার। স্ত্রী, কন্যা, পরিবার রেখে দুরুদুরু বক্ষে নাম লেখালাম আকাশি-নীল পতাকা আর ব্লু ব্যারেটের শান্তিরক্ষী হিসেবে।

তাবৎ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘ, আর জাতিসংঘের সবচেয়ে কোর একটিভিটি হচ্ছে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম। সেই কার্যক্রমে একজন ফ্রন্টলাইনার শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করা এখনো পর্যন্ত আমার জীবনের অন্যতম গর্বের বিষয়। কিন্তু একটুও সহজ ছিল না সেই জার্নি। যুদ্ধাবস্থার দেশ, বৈরী প্রকৃতি ও পরিবেশ, পরিবার বিচ্ছিন্নতাসহ নানা টানাপড়েনের তিনশ’ পঁয়ষট্টি দিনের প্রতিটি দিনই ছিল দারুণ রঙিন, ঘটনাবহুল। জাতিগত দাঙ্গা, যুদ্ধ-উত্তর দেশ গঠনের নানা আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, যুদ্ধদেশের মানবিক বিপর্যয়, অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিল, যুদ্ধদেশে ব্যক্তিমানুষের যাপিত জীবনের ক্লাইমেক্স সবই প্রত্যক্ষ করেছি। পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং একটি পেশায় জড়িত থাকলেও আমার ভেতরেই আমি টের পাই কুল কুল করে বয়ে যাওয়া আশৈশব এক বৈরাগী মন। আমি আমার দিব্যচক্ষুতে প্রত্যক্ষ করেছি যুদ্ধদেশের কঠিন বাস্তবতা, এঁকে ফেলেছি স্মৃতির এপিসোডে। আমি আগেই বলেছি- আমি লেখক নই, একেবারেই নই, বড়জোর একজন স্টোরি টেলার, গল্পকথক। অনেকটা খেয়ালের বশেই মিশন জীবনের গল্পগুলো কয়েকটি পর্বে বিক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছিলাম নিজের ফেসবুক ওয়ালে। সাধারণ এই আমিকে বোধ হয় বড্ড মায়া করেন, ভালোবাসেন কিছু অসাধারণ মানুষ। সেসব অগণিত সুহৃদের অনেকেরই মনে দাগ কাটে আমার ওয়ালের এসব সাতসতেরো সাতকাহন। তারা আমাকে অনুরোধ করতে থাকেন- ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে লেখা গল্পগুলোকে মলাটবদ্ধ করার। পেশায় আমি পুলিশ অফিসার। ভেতরে একটু-আধটু বিবাগী মন থাকলেও আমি বাস্তবতা বুঝি। বড় বড়, জ্ঞানীগুণী মানুষের আত্মচরিত বা কথকতা মানুষ সময়, পয়সা নষ্ট করে পড়ে, তা থেকে শিক্ষা নেয়। কিন্তু আমারটা কেন পড়বে? কী আছে এতে? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করতে থাকি। নিজের ওয়ালে এসব আগডুম-বাগডুম লিখতে লিখতেই অলেখক এই আমার গড়ে ওঠে একটি পাঠকশ্রেণি। তারা আমাকে ক্রমাগত তাগাদা দিতে থাকে বই প্রকাশের অনুরোধ করে। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর কর্ণধার সুলেখক কামরুল হাসান শায়ক তাদেরই একজন। আমার অতিপ্রিয়, এই সুহৃদের অনুরোধেই মূলত বই আকারে ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’র গোড়াপত্তন হয়। পুলিশের চাকরির কর্মব্যস্ত দিনলিপিতেও হঠাৎ আসা কোনো অলস দুপুর, বিষণ্ন বিকেল কিংবা হঠাৎ ঘুমভাঙা মধ্যরাতে আমার ফেলে আসা দিনগুলো আমাকে দারুণভাবে অনুরণিত করে। আমাকে আমি যতটুকু চিনি, তাতে বুঝি আমি একজন স্মৃতিকাতর মানুষ। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি এখনো আমাকে ভীষণ নাড়া দেয়। আমার ভাবনাটা এমন যে, যদি বেঁচে থাকি তো আমার যাপিত জীবনের স্মৃতিচারণই হবে আমার অবসরের অন্যতম অনুষঙ্গ। অবসরে আমিই পড়বো আমার ফেলে আসা দিনগুলোর, আমার যাপিত জীবনের খণ্ডচিত্র।

‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ প্রকাশের জন্য অযুত কৃতজ্ঞতা পাঞ্জেরী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান শায়ক ও তার সহকর্মীদের। একুশের বইমেলা সামনে রেখে একেবারেই তড়িঘড়ি করে এর প্রকাশনা। এই স্বল্প সময়ে বইটির সম্পাদনার জন্য পাঞ্জেরী প্রকাশনীর নিলাদ্রি নিলয়কে জানাই অকুণ্ঠ অভিবাদন।
বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে আমার দুঃখ-সুখের, দুর্যোগ-দুঃসময়ের সাথী আমার স্ত্রী ইডেন কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাছিমা সুলতানাকে। শান্তিরক্ষী হিসেবে আমার নিযুক্তিতে তিনি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলেন। কঠিন সেই দিনগুলোতে ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ ভুলে হাসিমুখে সামলেছেন আমাদের সন্তান ও পরিবারকে। বইটি প্রকাশের এই মাহেন্দ্রক্ষণে খুব মনে পড়ছে আমার পরলোকগত মায়ের কথা, মিশনের দিনগুলোতে যিনি প্রতিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতেন তার শান্তিরক্ষী পুত্রের কথা শোনার জন্য। পরম করুণাময় তাকে শান্তিতে রাখুন। আমার ব্যক্তিগত বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ, শ্রদ্ধাভাজন প্রিয়জনরা বিগত কয়েক বছরে আমার টাইমলাইনে শান্তিরক্ষীর ডায়েরি হিসেবে লেখালেখিগুলোকে একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশে বারবার অনুরোধ করেছেন, নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের কারণেই বই হিসেবে ব্যক্তিগত ডায়েরির এ আত্মপ্রকাশ। তারা উৎসাহ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বইটি প্রকাশিত হবে জানতে পেরে প্রকাশনার আগেই বিপুল পরিমাণ প্রি সেল অর্ডারের মাধ্যমে আমাকে এবং প্রকাশককে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে ও কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন। কসোভো মিশনের শীতার্ত দিনগুলোতে হৃদয়ের উষ্ণতায় আমাকে প্রাণবন্ত রেখেছেন দেশ-বিদেশের নানা জাতি-ধর্মের সহকর্মীরা। তাদেরও স্মরণ করি পরম শ্রদ্ধায়। কসোভো মিশনে কর্মকালে আমার কন্যা প্রিয়ন্তীর বয়স ছিল বছরখানেক, একইভাবে সুদান মিশনে থাকাকালে আমার পুত্র আলিফ ছিল সদ্যজাত। আমার মিশনে থাকার কারণে আমার প্রিয়ন্তী ও আলিফ তাদের বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের জন্যও আমার অনিঃশেষ শুভাশিস। কেন জানি, আজ ভীষণ মনে পড়ছে আমাদের অকালপ্রয়াত শিশুপুত্র জীবনকে, যার আঠারো দিনের জীবনের আঠারোটি দিনই কেটেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে, ইনকিউবেটরে বা নিজের ছোট্ট দেহটিতে নানা রঙের নল লাগিয়ে। সে কখনো জানতেও পারেনি, কে সে, তার বাবা কে, তার মা কে। সে কখনোই হয়তো জানবে না কতোটা দুঃখ নিয়ে তার বাবা-মা তাকে স্মরণ করে।
নবীন লেখক হিসেবে আমি আমার অনাগত সব বিদগ্ধ পাঠকের স্নেহাশীষ কামনা করি। আমি মানুষটা ছোট হতে পারি কিন্তু লেখনীর ক্যানভাসটি বিশালায়তন, যাকে ফুটিয়ে তোলার সামর্থ্য হয়তো আমার নেই। সেই অর্থে এটি আমার সৃষ্টিশীল প্রথম প্রকাশনা। যাবতীয় ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। বইটি ২০০৫-০৬ এর প্রেক্ষাপটে লেখা। স্মৃতিনির্ভর এই লেখনীতে স্থান, কাল, পাত্র, নাম, ব্যক্তি কিংবা ঘটনায় ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে, সেজন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাই সবার কাছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এ লেখনীর মূল উপজীব্য হলেও কোথাও কোথাও কল্পিত প্লট বা ঘটনার অনুষঙ্গের মিশ্রণ যে হয়নি, সেটি হলফ করে আজ আর বলতে পারি না। ক্ষমা চাই সেজন্যও।

অনাগত দিনের সব পাঠক, প্রকাশনা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে, আমার যেসব সহকর্মী আমাকে ও বই প্রকাশে নানাভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন তাদের সবার প্রতিও আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার দীর্ঘদিনের অনুজ সহকর্মী এএসআই ফারুককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই অফিস আওয়ারের বাইরে টাইপসহ যাবতীয় সহযোগিতার জন্য। আপনাদের মূল্যবান মতামত বা পরামর্শ পেলে পরবর্তী কোনো প্রকাশনায় ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অসঙ্গতিগুলোকে অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবো- এ কথা বলেই বিদায় নিতে চাই। পরম করুণাময় আমাদের সবার সহায় হোন।

লেখক : মো. মনিরুজ্জামান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার), ডিআইজি, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, বাংলাদেশ পুলিশ।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: উন্নত সেবার প্রত্যয় এবং ভোজন রসিকদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে রুচিশীল, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার পরিবেশনের অনঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাত এর মাধ্যমে ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগ্রীম অর্ডার নিয়ে যেকোনো স্থানে উন্নতমানের সকল খাবার সরবরাহ করা সহ সদ্য উদ্বোধনকৃত এ হোটেলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম বুকিং এর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের পাশেই নয়নাবিরাম পরিবেশে এর অবস্থান হওয়ায় দূর-দুরান্তের ভোজন রসিকরাও এখানে খাবার খেতে ছুটে আসবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশে নবনির্মিত ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, এটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তথাপিও শুনলাম এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অন্তত ২০০ লোকের সুন্দর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অবস্থা বুঝে মনে হচ্ছে, কারো কারো এটি সহ্য হচ্ছে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হতে হবে মানুষের কল্যাণ করা। এমপি হবো, চেয়ারম্যান হবো, মাস্তানি করা; এগুলো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে অভিজাত একটি কাজ। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর-মার্জিত। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে মানুষের জন্য শিক্ষনীয়। রাজনীতি আর মাস্তানি একসাথে চলে না। সুতরাং, যে দলই আপনি করুন না কেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করুন। আসুন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা যেন এ চৌদ্দগ্রামকে একটি মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেলক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী কাজ করি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এখানে এসেই আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখানে হযরত ওলামায়ে কেরামদের বিশাল একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তাদের সাথে আমার সাক্ষাতও হয়ে গেলো। আমার বাবাও একজন আলেম ছিলেন। সুতরা, জন্মগতভাবেই হযরত ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সবসময় আমার একটা দুর্বলতা ও ভালোবাসা কাজ করে। উনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমি হোটেল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটিও একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি উপস্থিত লোকজনের নিকট প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি কোন দলের? আওয়ামী লীগের? বিএনপির? জামায়াতে ইসলামীর? না। প্রতিষ্ঠান কোনো দলের হয়না। এটি এলাকার সকল মানুষের। এখানে মানুষ অর্থের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করবে। এটি সার্বজনিন প্রতিষ্ঠান। যারাই উদ্যোগ নেন, তারা সমাজসেবার মানসিকতায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলেন। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কখনো এমন প্রতিষ্ঠান চালু করে না। মূলত সেবার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করা হয়। সুতরাং, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে এ প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। আমি এ হোটেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম-নাঙ্গলকোট সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলী আজ্জম, মো. হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা খাজা আহমেদ, টিআই মোহাম্মদ ফারুক, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জামায়াত নেতা শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. আমির হোসাইন, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব এর সুযোগ্য সন্তান ইকবাল মাহমুদ, ইকরাম মাহমুদ, ইমরান মাহমুদ সহ এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

কুমিল্লার ডাক ডেস্ক।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম
বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও আশপাশের এলাকায় বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে পরিচিতি পেয়েছেন মো. গোলাম সারোয়ার। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দানবীর হাজী জুনাব আলী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সেই সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে গোলাম সারোয়ারের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং মহানগর দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফাইন টাওয়ারের চেয়ারম্যান। এছাড়া কয়েকটি কমপ্লেক্সের পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গোলাম সারোয়ার সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম সারোয়ার নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এলাকার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলার প্রসারে সহযোগিতা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অনুদান দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।

করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নিজ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তাঁদের মতে, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মানসিকতাই গোলাম সারোয়ারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয় ভোটার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গোলাম সারোয়ারের সততা, নম্রতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাঁকে স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিমসার ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, গোলাম সারোয়ার আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এলাকার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশাকে ঘিরে গোলাম সারোয়ারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নিমসার ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিপদে মানুষের পাশে থাকার যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছেন, সেটিই এখন সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

×