সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সাক্কুর পাশে নেই বিএনপি আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৩:৪৩ এএম
সাক্কুর পাশে নেই বিএনপি আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচন

 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনে এবার সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পাশে নেই বিএনপি-জামায়াত। দলের মূলধারা এবং জোটের নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে অনেকটা দূরে রয়েছেন বলে কথা বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীবিহীন এ নির্বাচনে সাক্কুর একমাত্র ভরসা নিজস্ব বলয় এবং সরকার দলের অদৃশ্য একটি অংশ। কী কারণে এক সময়ের সহকর্মীরা তার কাছ থেকে এত দূরে? দলীয় কর্মী ছাড়া তিনি কি এ বৈতরণী পার হতে পারবেন? এমন আলোচনা এখন নগরীর অলিগলিতে। ফলে এবারের সমীকরণ আগের সব নির্বাচন থেকে অনেকটাই ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লায় বিএনপি-জামায়াত জোটের একক সমর্থন নিয়ে ২০১২ এবং ২০১৭ সালে দুবার সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচিত হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মামলা-হামলাসহ নির্যাতন করেছেন। দলকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব বলয় গড়ে তুলেছেন। বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিরোধী দলের নেতা হয়েও সব সময় পুলিশ প্রটেকশনে থেকেছেন। সরকার দলের নেতাদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। স্থানীয় সংসদ-সদস্যের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সরকার দলের নেতাদের সঙ্গে ঠিকাদারি কাজের ভাগবাটোয়ারা করেছেন। ২০১৭ সালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন। তা সত্ত্বেও সিটি নির্বাচনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বাধ্য হয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই থাকতেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার প্রার্থী হলেও নৌকার বিপক্ষের নেতাকর্মীরা সাক্কুর পক্ষেই অবস্থান নেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার ৩০ হাজার ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত মেয়র নির্বাচিত হন। রিফাতের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়ে যায়। দলীয় প্রতীকবিহীন এবারের উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে সাক্কু আঁতাত করছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। যার ফলে বিএনপি-জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাক্কুকে এড়িয়ে চলছেন।

এদিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের একচেটিয়া সমর্থন পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন নিজাম উদ্দিন কায়সার। তরুণ প্রজন্মের এ প্রার্থীর সঙ্গে প্রকাশ্যেই ভোটের মাঠে কাজ করছেন হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মী। বিশেষ করে দলীয় প্রতীক না থাকায় নেতাকর্মীরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারছেন বলে অভিমত অনেকের।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান ছুট্টি বলেন, সাক্কু নানা কৌশলে বিএনপিকে ব্যবহার করে নিজে ফুলেফেঁপে কলাগাছ হয়েছেন। বিএনপির আদর্শ ভুলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়ায় তাকে আমরা আর বিএনপি মনে করছি না। আমরা তাকে এখন আওয়ামী লীগের লোক মনে করি। কারণ তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়ে দল ও নেতাকর্মীদের কোনো কাজে আসেননি। উপরন্তু তার দ্বারা নেতাকর্মীরা হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকার থেকে একজন সুবিধাভোগী লোক। এখনো আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে সাক্কুর আঁতাত রয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপি এবং সমমনা জোটের নেতাকর্মীরাও সাক্কুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সাক্কু আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঠিকাদারি কাজের ভাগবাটোয়ারা করে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কোনো নেতাকর্মী এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থি কাউন্সিলরদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেননি। উলটো আমাদের কোণঠাসা করে রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলররাই ছিল ওনার বিশ্বস্ত এবং ঘনিষ্ঠ। তাই এই সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তার পাশে থাকার প্রয়োজন মনে করে না।

১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক কাউন্সিলর শাখাওয়াত উল্লাহ শিপন বলেন, সাক্কু ভাই এবার বিএনপির কোনো কর্মী খুঁজে পাবেন না। এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া ওনার ভুল সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। কারণ এবার সমীকরণ ভিন্ন। নিজাম উদ্দিন কায়সারের পক্ষে মাঠে নেমে গেছে বিএনপি এবং জোটের নেতাকর্মীরা। কারণ কায়সারকে দিয়েই দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং নেতাকর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে অভিমত সবার। তবে এ বিষয়ে সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার আগেও কোনো আঁতাত ছিল না, এখনো নেই। এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগেও মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি দলীয় কোনো নেতাকর্মীকে হয়রানি করিনি। তিনি বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আমার সঙ্গে রয়েছেন এবং মাঠে কাজ করছেন। নগরবাসী যাকে ভোট দেবেন তিনিই কামিয়াব হবেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×