সাত মামলায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার মনোনয়ন বৈধ
Oplus_131072
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা তদন্তাধীন এবং তিনি কাগজে-কলমে ‘পলাতক’ আসামি হলেও, রিটার্নিং কর্মকর্তা তার দাখিল করা মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান যাচাই-বাছাই শেষে একরামুজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর নাসিরনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামায় একরামুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নাসিরনগর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় মোট সাতটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক, যেখানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এক সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থাকা একরামুজ্জামান ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং জয়ী হন। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বোটক্লাবে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহীনূর ইসলাম জানান, থানার মামলায় একরামুজ্জামান জামিন নেননি এবং তিনি কাগজে-কলমে পলাতক। এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, “একজন পলাতক আসামি কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন? আমরা লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছি।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে দাখিলকৃত কাগজপত্র সঠিক থাকায় মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আপত্তি থাকলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাসিরনগরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।



















