সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

এবার তারেককে নিয়ে বিএনপির ওপর মার্কিন চাপ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৬:৪১ এএম
এবার তারেককে নিয়ে বিএনপির ওপর মার্কিন চাপ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। সেই ভিসা নীতি আওতায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর এ ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উল্লাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা মনে করছে যে, আওয়ামী লীগ চাপে পড়ে গেছে। আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ করবে না। কিন্তু এর মধ্যেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো একটি ঘটনা বিএনপির মধ্যে তোলপাড় তৈরি করেছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ব্যাপারেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তীব্র অনীহা এবং অনাস্থা জানিয়েছে এবং তারেক জিয়াকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২০০৭ সাল থেকেই আছেন তারেক জিয়া। তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় এবং তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত তারেক জিয়াকে একজন ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্ত এবং এবং সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় যখন তারেক জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় তারপর তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন বেগম খালেদা জিয়া। যে কোনো মূল্যে তিনি তার পুত্রকে দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। এই সময় বেগম খালেদা জিয়া ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এবং মইন ইউ আহমেদ এর সরকারকে বলেছিলেন যে, তারেক জিয়া ভবিষ্যতে আর রাজনীতি করবে না এবং সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবে। এই শর্তে ২০০৭ সালের শেষ দিকে তারেক জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর জন্য নীতিগতভাবে সম্মতি দেয় তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকার। এই সম্মতি পাওয়ার পর তারেক জিয়া প্রথম পছন্দ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। আর এ কারণেই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভিসা আবেদন করেছিলেন। কিন্তু উইকিলিকস এর ফাঁসকরা তথ্যে দেখা যায় যে, তারেক জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস নেতিবাচক মন্তব্য করে এবং তারা বলে যে তারেক জিয়া দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি দুর্নীতিবাজ। এ কারণেই তাকে ভিসা না দেওয়ার সুপারিশ করে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তারেককে বিপদজনক হিসেবেও চিহ্নিত করেন।

ঢাকাস্থ দূতাবাসের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তারেক জিয়াকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং এর ফলে তারেক জিয়ার আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া হয়নি। তার বদলে তিনি বিকল্প হিসাবে যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সপরিবারে সেখানেই যান। এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন যে তারেক জিয়ার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সেই ভিসা নিষেধাজ্ঞাটি এখনো বহাল রয়েছে। এখন বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে তৎপরতা দেখাচ্ছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞাসহ নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তখন বিএনপির অনেকে আশাবাদী হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বিএনপিকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির জন্য তারেকের মতো ‘দুর্বৃত্তকে’ রাজনীতি থেকে বাদ দিতে হবে। বরং পরিবারতন্ত্র মুক্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত নেতৃত্বের অধীনে বিএনপিকে আন্দোলন করতে হবে এবং নির্বাচন করতে হবে। তারেক জিয়ার নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পছন্দ করে না।

অনেকেই মনে করছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে আগামী নির্বাচন এবং বাংলাদেশ নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে সেই সমঝোতার চেষ্টার একটি অংশ হিসেবেই তারেক জিয়াকে মাইনাস করতে চাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ লালন, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়ে যখন ভারত আলোচনা করেছে তখন তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারেক জিয়ার ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা এবং এই ব্যাপারে কোনোরকম সমঝোতার সম্ভাবনা নেই বলেও ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় জানানো হয়েছে। আর এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন তারেক জিয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশে যে একটি পরিছন্ন রাজনীতির ধারা যদি তৈরি করতে হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে তারেক জিয়ার মতো দণ্ডিত, দুর্বৃত্তদেরকে বাদ দেওয়াই শ্রেয়। আর এই বার্তাটি বিএনপির অন্তত দুইজন নেতাকে দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন দেখার বিষয় যে, তারেক জিয়া দলের নেতৃত্বে থেকে সরিয়ে দেওয়া মার্কিন প্রস্তাব বিএনপি কিভাবে গ্রহণ করে।

সূত্র : বাংলা ইনসাইডার

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×