মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লার বজ্রপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:১৩ এএম
কুমিল্লার বজ্রপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার রাজগঞ্জের বজ্রপুর মৌজায় বহুতল ভবন শুভ ইটি-ল্যাব উপলতা টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা সাখাওয়াত জাহান দাবি করেছেন, তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ৩.৩৩ শতক জমি বেআইনিভাবে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

**প্রতারণার কৌশল: মুখের কথা, নেই লিখিত চুক্তি**

সাখাওয়াত জাহান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় তার জমিটি ফাঁকা ছিল, যা তার আত্মীয়রা দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ডেভেলপার কোম্পানি বিনা অনুমতিতে তার জমি ব্যবহার করে ৬০ শতক জায়গার ওপর নির্মাণ কাজ শুরু করে। তিনি দেশে ফিরে কোম্পানির সঙ্গে দেখা করলে, তারা বলেন, “আপনার কাগজ হালনাগাদ করে আনেন, পাওনা থাকলে পাবেন।”

এরপর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির কাছে আগস্ট ২০২৪-এ জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। সাখাওয়াত জাহানের অভিযোগ, “তারা শুধু মুখের কথা বলে আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু লিখিত কিছু দিচ্ছে না। কাজ দ্রুত চালিয়ে যাচ্ছে, যেন ফ্ল্যাট বিক্রি করে চলে যেতে পারে।”

**ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও অসংগতি**

ডেভেলপার কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “চেয়ারম্যান আসলে চুক্তি করা হবে।” অথচ কাজ অব্যাহত আছে, এবং বিলম্বের কোনো যৌক্তিক কারণ দেখানো হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই ফ্ল্যাট বিক্রির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা কোনো প্রতিকার না পান।

**ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ ও আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত**

ভুক্তভোগী সাখাওয়াত জাহান বলেন, “কাজ শেষ হলে ডেভেলপাররা চলে যাবে, তখন মামলা ছাড়া কিছু করার থাকবে না।” তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

**প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ**

শুভ ইটি-ল্যাব উপলতা টাওয়ারের চেয়ারম্যান প্রদীপ বাবু, ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান (জুয়েল), এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সালাম—এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি ভূমি অফিস ও প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে ভুক্তভোগীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।

ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, সাধারণ জনগণের জমি দখলের এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

**পুনশ্চঃ** কারো সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে সম্পত্তির মালিকদের অধিকার সুরক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ থেকে বিরত থাকা উচিত।

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ১১ দলীয় জোটের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিশেষ দায়িত্বশীল পর্যায়ে প্রস্তুতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান এর সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের কর্ম-পরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, উপজেলা জামায়াতের কর্ম-পরিষদ সদস্য ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার প্রমুখ। এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সহ বিশেষ দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে কেন্দ্র করে আগামী শনিবার বেলা ১২ ঘটিকায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে চৌদ্দগ্রামে বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও ১১ দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বরণ করা সহ উত্থাপিত সকল গণদাবী আদায়ের লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে উক্ত পথসভায় উপস্থিত থাকার জন্য উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×