সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় আবাসিক এলাকায় অবৈধ কারখানার দৌরাত্ম্য : জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫, ১১:১২ এএম
কুমিল্লায় আবাসিক এলাকায় অবৈধ কারখানার দৌরাত্ম্য : জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা নগরীসহ আশেপাশের এলাকায় আবাসিক এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে গড়ে উঠছে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব কারখানা একদিকে পরিবেশ দূষণ করছে, অন্যদিকে মানহীন পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে বিতরণ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নকল বিএসটিআই মনোগ্রাম ব্যবহার করে পণ্য বিপণন করছে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান। বিএসটিআই সনদ ছাড়াও, সেগুলোর নেই পরিবেশ ছাড়পত্র বা অগ্নিনির্বাপক সনদ।

**নূর ট্রেডার্স: একটি উদাহরণ**

কুমিল্লা নগরীর হাউজিং স্টেট এলাকায় ‘নূর ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই সরিষার তেল, চা-পাতা, মসলা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আবাসিক ভবনের নিচতলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব পণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কারখানার ভেতরে মাছি, ধুলাবালি ও অপরিচ্ছন্নতার ছাপ স্পষ্ট। উৎপাদিত পণ্যের মোড়কে নকল বিএসটিআই মনোগ্রাম ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, তাদের লাইসেন্স এখনো প্রক্রিয়াধীন।

**আইন ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি**

বাংলাদেশের খাদ্য আইন অনুযায়ী, ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য বিএসটিআই অনুমোদন বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, নগর পরিকল্পনা আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন বেআইনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনবিহীন কারখানায় উৎপাদিত খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

**স্থানীয়দের অভিযোগ**

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এসব কারখানার কারণে এলাকায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। রুমানা আক্তার নামে এক বাসিন্দা বলেন, “কারখানার দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” স্থানীয় দোকানিরাও স্বীকার করেছেন যে, নূর ট্রেডার্সের পণ্য তুলনামূলক সস্তা হলেও গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

**প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া**

কুমিল্লা জেলা বিএসটিআই উপ-পরিচালক কে এম হানিফ জানিয়েছেন, “আমাদের পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সংকট রয়েছে। তবে আমরা ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করছি। নূর ট্রেডার্সের অভিযোগটি পেয়েছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহুরা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিএসটিআই’কে সাথে নিয়ে আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবো।”

**উপসংহার**

অবৈধ কারখানাগুলো শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার জন্যও মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও কঠোর তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা যায়।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×