মনোনয়ন বঞ্চনায় উত্তাল বিএনপি বদল হতে পারে প্রার্থী তালিকা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘিরে দলে শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা। মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতারা এখনো প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও তাঁদের অনুসারীদের ক্ষোভ রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনায় চাপে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
ঘোষিত তালিকায় নেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুমিন ফারহানা, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আরিফুল হকসহ একাধিক পরিচিত মুখ। তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনার ঝড়।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তালিকাটি এখনো প্রাথমিক। প্রয়োজনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। ইতোমধ্যে মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থীর নাম স্থগিত করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, ঘোষিত ২৩৭ আসনের বাইরে ৬৪টি আসনের মধ্যে ৪০টি শরিকদের জন্য রাখা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বাছাই করা হবে। পাশাপাশি বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতাদের কেউ কেউও মনোনয়ন পেতে পারেন বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা গণমাধ্যমে মুখ না খুললেও তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, তালিকায় নাম না থাকার কারণ তাঁরা জানেন না, বুঝতেও পারছেন না। রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রকাশিত তালিকাটি প্রাথমিক। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে। একে চূড়ান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।”
বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েন নির্বাচনী প্রস্তুতিকে জটিল করে তুলছে। হেভিওয়েট নেতাদের বাদ পড়া এবং কর্মীদের ক্ষোভ দলীয় ঐক্য ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





















