শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের মারামারি, আহত ১০

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৬ পিএম
চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের মারামারি, আহত ১০
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারি ও হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০-১২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিৎিসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের দীঘির পাড় এলাকায়। সোমবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ও বিএনপি পন্থী নেতাকর্মীদের মাঝে তুচ্ছ ঘটনাতে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের জগন্নাথদীঘির পাড়ে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে উভয়পক্ষের অন্তত ১০-১২ জন কর্মী সমর্থক। ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত একে-অপরকে দোষারোপ করছে। অপরদিকে পৃথক একটি ঘটনায় রবিবার রাতের আঁধারে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজার বাজার ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ ও পাঠাগার কার্যালয় ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা গেছে, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের বিজয়করা পূর্বপাড়া প্রকাশ হইল্লাপাড়ার আরব হোসেন রাজু নামের বিএনপির এক সমর্থক ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট ও রোববার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মী সভায় উৎসকানিমূলক বক্তব্য এবং মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় জগন্নাথদীঘির পাড়ে স্থানীয় জামায়াত সমর্থকরা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলতে যায়।

এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম রাশেদের নেতৃত্বে কয়েকজন উৎশৃঙ্খলভাবে স্লোগান দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। এর প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করলে বিএনপি সমর্থিত রফিক মেম্বার, তপনসহ কয়েকজন আহত হয়। এছাড়াও বিক্ষুব্ধরা বিএনপির সমর্থক আরব হোসেন রাজুর বাড়িতে হামলা করে। পরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ চৌধুরী পাশার ছেলে আবির চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জামায়াত কর্মী ইসমাইল হোসেনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ ঘটনায় আহতদের অধিকাংশই বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। তবে, জামায়াত কর্মী ইসমাইলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নে হামলার প্রতিবাদে উজিরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ এর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজার বাজার ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ ও পাঠাগার কার্যালয় ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ পেয়ে দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের পৃথক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘কথা কাটাকাটির জের ধরে স্থানীয় লোকজন জগন্নাথদীঘির পাড়ে বিএনপি’র একটি অফিস ভাংচুর করেছে বলে শুনেছি। পরে ছাত্রদলের হামলায় জামায়াত সমর্থক ইসমাইল হোসেন গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়াও একই দিন তারা রাতের আঁধারে কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগার ভাংচুর করেছে। শান্ত চৌদ্দগ্রামকে অশান্তের পাঁয়তারা বন্ধসহ এ ঘটনায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, ‘আমরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণা করছি। কিছু দুস্কৃতিকারী সার্বিক পরিস্থিতি ঘোলাটের চেষ্টা করছে। রোববার রাতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের ৮-১০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানা প্রশাসনকে অনুরোধ করছি।’

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংবাদ পেয়েই তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কেউই লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

নানিকে দেখতে সুদূর সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী আরমান হোসেন। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন নানাবাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু প্রিয় নানির কাছে পৌঁছানো হলো না তাঁর। গন্তব্যে যাওয়ার আগেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ঝরে গেল তরুণ এই প্রাণ। নাতির মরদেহের পাশে বসে ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরমান। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও আহত হন।

নিহত আরমান হোসেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক। তাঁর নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। নাতিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী এই নারী।

আরমানের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নানিকে দেখতে এসে আরমানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে। পেছনে রয়ে গেলেন অসহায় নানি, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি প্রাণ।

×