কুমিল্লায় ভুয়া ওয়ারেন্ট দেখিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুয়া ওয়ারেন্ট ও জাল কাগজপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। আদালত ও প্রশাসনের নাম অপব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ই ছিল এই চক্রের মূল কৌশল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারকরা “মওদুদ” নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের বৈধ তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সাধারণ মানুষের সামনে ভুয়া মামলার কাগজপত্র ও ওয়ারেন্ট উপস্থাপন করত। নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দাবি করে সাদা কাগজে তৈরি করা এসব জাল নথির মাধ্যমে তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত। এতে অনেক মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
এই প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে বাংলা নিউজ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং মানবাধিকার খবরের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-য় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও অবহিত করা হয়।
ভুক্তভোগী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বালাম বহি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, “মওদুদ” নাম ব্যবহার করে উপস্থাপিত মামলার কাগজপত্র ও ওয়ারেন্টগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক সদস্যকে শনাক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের প্রতারণা রোধে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। সন্দেহজনক কাগজপত্র বা ওয়ারেন্ট দেখানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


















