রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক নির্বাচনে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক নির্বাচনে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলতি বছরের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাজ না জানা অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদকে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে কর্মঘন্টাকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেয়া সাইফুল ইসলাম প্রকাশ আলম এর প্রতিষ্ঠান আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। মূলতঃ হাফিজ ও সাইফুল সিন্ডিকেটের পরামর্শে এবারের শিক্ষা পদকে কয়েকজনকে মনোনীত করা হয়েছে অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকের। এরমধ্যে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা মনোনীত হয়েছেন অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বোন মোসা. কামরুন্নাহার। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে শিক্ষা পদক হস্তান্তর করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

জানা গেছে, গত ১৭ মে (রোববার) সদ্য বিদায়ী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর একটি তালিকা ২১ মে বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একই সাথে মনোনীত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুক পোস্টের ছড়াছড়িও লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখিত তালিকায় মনোনীতরা হলেন: শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক কাজী জহিরুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা লিখা, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা লাকী আক্তার, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক মাহমুদুর রহমান, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা মোসা. কামরুন্নাহার, শ্রেষ্ঠ কর্মচারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদ, শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এরমধ্যে পদকের জন্য মনোনীত অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদ অফিসিয়াল কাজ সঠিকভাবে না জানলেও উৎকোচ গ্রহণের বেলায় বেশ পারদর্শী বলে জানা গেছে। তার হয়রানীর শিকার হয়েছে উপজেলার অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিশেষ করে শিক্ষিকাদের মাতৃকালিন ছুটি, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য, সার্ভিস বুকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানী থেমে নেই। বছরের শুরুতে বই বিতরণ কার্যক্রম, মাঝামাঝি সময়ে বইয়ের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কাজ সহ অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজে ঘুষ বানিজ্য যেন তার নৈমত্তিক কাজ। এর আগের অফিস সহকারী মিজানুর রহমানকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বদলি করিয়ে ‘মধু’ খেতে স্বল্প সময়ের মধ্যে লাকসাম অফিস থেকে পুনরায় চৌদ্দগ্রাম এসেছে এই হাফিজ আহমাদ। এরআগে ডেপুটেশনে চৌদ্দগ্রামে কর্মরত ছিল সে। গণঅভ‚্যত্থানের আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। সম্প্রতি এক শিক্ষিকার পক্ষে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার ঘটনায় তাঁর দুর্নীতির বিষয়টি অনেকেই জানে। বর্তমান সময়ে দুর্নীতি চলমান থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

এছাড়াও আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রকাশ আলম প্রায় প্রতিদিনই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চলে যান। আবার কিছু কিছু সময় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেই উপজেলায় যান এবং পরদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারি আইডি ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপকারের নামে বিভিন্ন সরকারি কাজে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পাঠদান ফাঁকির বিষয়ে বিভিন্ন সময় তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি কোন জবাব দেন না। বিদ্যালয়ের সামনে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ীসহ সবাই সাইফুল ইসলামের পাঠদান ফাঁকির বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো; প্রাথমিকের অনেক সহকারী শিক্ষক, উপজেলায় যাতায়াত করা বেশির ভাগ মানুষ ও অধিকাংশ সংবাদকর্মী মনে করতেন সাইফুল ইসলাম প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো পদে নিযুক্ত কর্মকর্তা! সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষকদের হয়রানী সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অবগত রয়েছেন। অপরদিকে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা হিসেবে মনোনীত মোসা. কামরুন্নাহার ওরফে মুক্তা প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের আপন বড় বোন। কিন্তু তিনি ঠিকানা দেখিয়েছেন স্বামীর বাড়ি চাঁদপুর হাজীগঞ্জের।

গত ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হাফিজ আহমাদ ঠিকমত কাজ জানে না। সে একা কাজ করলে শিক্ষকদের বেতন পেতেও কষ্ট হবে। এজন্য সাইফুল ইসলাম কাজে সহযোগিতা করছে। শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারি আইডি কি একজন শিক্ষক ব্যবহার করতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে ব্যবহার করতো, এখন করে না’।

অভিযোগ উঠেছে, হাফিজ আহমাদ ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জিম্মী করে মেডিকেল ছুটি, বকেয়া বিল, সার্ভিস বুক সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে। তাদের কাছে জিম্মী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও।

আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ওরফে আলম পাঠদান ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে এবং শিক্ষা অফিসকেও অবহিত করা হয়েছে বিষয়টি। এ বিষয়ে কেউ কর্ণপাত করেনি। এক কথায়, সে নিজ ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসে এবং যায়। অন্য শিক্ষকদেরও সে আতঙ্কে রাখে, এজন্য শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায় না। আমরা চাই, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সাইফুল ইসলামকে আমাদের বিদ্যালয় থেকে বদলি করে অন্য কোথাও নিয়ে যাক। কারণ, তাঁর থেকে শিক্ষার্থীরা কিছুই পাচ্ছে না। শুধু কাগজে-কলমে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান না বানিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করিয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলুক। এটাই আমাদের চাওয়া।

অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেয়া প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ওরফে আলম বলেন, আমি শিক্ষা কমিটির কিছু নই। কর্তৃপক্ষ যাকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাকে পদক দেয়ার জন্য মনোনীত করেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার বস আমাকে যেখানে দায়িত্ব পালন করতে বলবেন, সেখানেই আমি দায়িত্ব পালন করি।

শিক্ষা পদকের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করলে তিনি একটি কর্মশালায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি কাজী মো. কবির হোসেন বলেন, সারাদেশের শিক্ষা অফিসগুলোতে কর্মচারী সঙ্কট। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হয়রানী রোধে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা সহযোগিতা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘এখানে জয়েন্ট কয়েছি মাত্র তিনদিন হলো। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার আমাকে শিক্ষা পদকের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো’।

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের সাথে বেঈমানি করেছে। যেই জুলাই সনদকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছে, আজকে তারাই সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানী তেল নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই শব্দ। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তাহলে কি মাত্র ছয়মাসেই উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেছে? উনি এখন বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চায়। আমরা তাকে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান দিয়েছি, সেই প্ল্যান শোনার পর আর কোন কথা নাই। বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সুফলও দেখাতে পারছেনা বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি আপনার প্ল্যান শেষ হয়ে যায় তাহলে জনগণের কাছে স্যারেন্ডার করুন। অন্যথায় আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সকল কিছু পালন করবো।

তিনি শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে দুটি পৃথক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সরকারকে গালি দিয়ে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো, দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ আর আসছিলো না। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরঝর করে পড়ছিলো। রাগে ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। আমরা তার করা এসব অশালীন গালমন্দকে কখনোই সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর দলীয় সন্ত্রাসীরা সিফাত আব্দুল্লাহকে ব্যাপক প্রহার করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর হাতে কি কোন অস্ত্র ছিলো? কুড়াল ছিলো? দা ছিলো? পিস্তল ছিলো? যদি নাই বা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে। এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরাও তো সরকারের বিরোধীতা করে থাকি। আপনার যদি সাহস থাকে তাহলে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় আমার দেশের দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করেছে, শাপলা চত্ত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করুন। বিনিময়ে যদি কাউকে জেলে নিতে হয়, তাহলে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান। তারপরও এই সকল হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করুন।

জামায়াতের আমীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আপনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। সেই ওয়াদা পূরণ করুন। আমরা সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. শাহজালাল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তুষার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মো. আবুল খায়ের, মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা এনসিপি নেতা মো. মামুন মজুমদার, জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল রেজাউল করিম শামীম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিবির নেতা মো. মোজাম্মেল হক সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে দিনমজুর আবুল হাশেম ও বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়ে যুবক আবদুর রহমান সহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৬০) ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (২২)। পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ও বাতিসা বৈদ্দ্যের বাজার নামক এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহাম্মেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পাড়াপারের সময় দিনমজুর আবুল হাশেমকে অজ্ঞাতনামা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী শাহেনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ^বর্তী স্থানে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমরা আজ পথের পথিক।

অপরদিকে একইদিন বেলা ১২টায় উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, নিহত আবদুর রহমান শনিবার দুপুরে তার এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে গিয়ে একটি ভ্যানগাড়ীর সাথে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় পেছন দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হাশেম এবং আব্দুর রহমান নামের দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আনা হলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহম্মেদ জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই নিহত আব্দুর রহমানের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই স্বজনরা নিয়ে যায়। অপর দুর্ঘটনায় নিহত আবুল হাশেমের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদে গিয়ে এবার শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শিক্ষক নেতা।
জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ মোট নয়জন সদস্য রয়েছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সংসদীয় নজরদারির আওতায় রাখার ক্ষেত্রে কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকতা থেকে সংসদ, এবার শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাঁর শিক্ষক পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া, অবসর সুবিধা, উৎসব ভাতা এবং চাকরি জাতীয়করণের মতো বিষয় নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর নতুন দায়িত্বের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সেলিম ভূঁইয়া। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে শিক্ষক নেতার পরিচিতি এনে দেয়। রাজনৈতিক ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন—হোমনা ও তিতাস—থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

সংসদ সদস্য হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে যে খাতের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুক্ত, সেই শিক্ষা খাতের সংসদীয় নজরদারির দায়িত্বও এখন তাঁর কাঁধে।

হোমনা-তিতাসে প্রত্যাশা
সেলিম ভূঁইয়ার নতুন দায়িত্বকে হোমনা-তিতাসের মানুষও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষকতা ও শিক্ষক আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান, বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সংসদীয় কমিটির আলোচনায় গুরুত্ব পাবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

কুমিল্লা-২ আসনের একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে সংসদে যাত্রা শুরু করে এবার দেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। ফলে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘ শিক্ষকতা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সংসদীয় দায়িত্বে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা যায়।

×