বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক নির্বাচনে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক নির্বাচনে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলতি বছরের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাজ না জানা অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদকে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে কর্মঘন্টাকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেয়া সাইফুল ইসলাম প্রকাশ আলম এর প্রতিষ্ঠান আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। মূলতঃ হাফিজ ও সাইফুল সিন্ডিকেটের পরামর্শে এবারের শিক্ষা পদকে কয়েকজনকে মনোনীত করা হয়েছে অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকের। এরমধ্যে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা মনোনীত হয়েছেন অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বোন মোসা. কামরুন্নাহার। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে শিক্ষা পদক হস্তান্তর করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

জানা গেছে, গত ১৭ মে (রোববার) সদ্য বিদায়ী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর একটি তালিকা ২১ মে বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একই সাথে মনোনীত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুক পোস্টের ছড়াছড়িও লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখিত তালিকায় মনোনীতরা হলেন: শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক কাজী জহিরুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা লিখা, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা লাকী আক্তার, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক মাহমুদুর রহমান, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা মোসা. কামরুন্নাহার, শ্রেষ্ঠ কর্মচারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদ, শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এরমধ্যে পদকের জন্য মনোনীত অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদ অফিসিয়াল কাজ সঠিকভাবে না জানলেও উৎকোচ গ্রহণের বেলায় বেশ পারদর্শী বলে জানা গেছে। তার হয়রানীর শিকার হয়েছে উপজেলার অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিশেষ করে শিক্ষিকাদের মাতৃকালিন ছুটি, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য, সার্ভিস বুকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানী থেমে নেই। বছরের শুরুতে বই বিতরণ কার্যক্রম, মাঝামাঝি সময়ে বইয়ের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কাজ সহ অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজে ঘুষ বানিজ্য যেন তার নৈমত্তিক কাজ। এর আগের অফিস সহকারী মিজানুর রহমানকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বদলি করিয়ে ‘মধু’ খেতে স্বল্প সময়ের মধ্যে লাকসাম অফিস থেকে পুনরায় চৌদ্দগ্রাম এসেছে এই হাফিজ আহমাদ। এরআগে ডেপুটেশনে চৌদ্দগ্রামে কর্মরত ছিল সে। গণঅভ‚্যত্থানের আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। সম্প্রতি এক শিক্ষিকার পক্ষে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার ঘটনায় তাঁর দুর্নীতির বিষয়টি অনেকেই জানে। বর্তমান সময়ে দুর্নীতি চলমান থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

এছাড়াও আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রকাশ আলম প্রায় প্রতিদিনই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চলে যান। আবার কিছু কিছু সময় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেই উপজেলায় যান এবং পরদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারি আইডি ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপকারের নামে বিভিন্ন সরকারি কাজে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পাঠদান ফাঁকির বিষয়ে বিভিন্ন সময় তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি কোন জবাব দেন না। বিদ্যালয়ের সামনে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ীসহ সবাই সাইফুল ইসলামের পাঠদান ফাঁকির বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো; প্রাথমিকের অনেক সহকারী শিক্ষক, উপজেলায় যাতায়াত করা বেশির ভাগ মানুষ ও অধিকাংশ সংবাদকর্মী মনে করতেন সাইফুল ইসলাম প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো পদে নিযুক্ত কর্মকর্তা! সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষকদের হয়রানী সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অবগত রয়েছেন। অপরদিকে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা হিসেবে মনোনীত মোসা. কামরুন্নাহার ওরফে মুক্তা প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের আপন বড় বোন। কিন্তু তিনি ঠিকানা দেখিয়েছেন স্বামীর বাড়ি চাঁদপুর হাজীগঞ্জের।

গত ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হাফিজ আহমাদ ঠিকমত কাজ জানে না। সে একা কাজ করলে শিক্ষকদের বেতন পেতেও কষ্ট হবে। এজন্য সাইফুল ইসলাম কাজে সহযোগিতা করছে। শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারি আইডি কি একজন শিক্ষক ব্যবহার করতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে ব্যবহার করতো, এখন করে না’।

অভিযোগ উঠেছে, হাফিজ আহমাদ ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জিম্মী করে মেডিকেল ছুটি, বকেয়া বিল, সার্ভিস বুক সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে। তাদের কাছে জিম্মী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও।

আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ওরফে আলম পাঠদান ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে এবং শিক্ষা অফিসকেও অবহিত করা হয়েছে বিষয়টি। এ বিষয়ে কেউ কর্ণপাত করেনি। এক কথায়, সে নিজ ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসে এবং যায়। অন্য শিক্ষকদেরও সে আতঙ্কে রাখে, এজন্য শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায় না। আমরা চাই, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সাইফুল ইসলামকে আমাদের বিদ্যালয় থেকে বদলি করে অন্য কোথাও নিয়ে যাক। কারণ, তাঁর থেকে শিক্ষার্থীরা কিছুই পাচ্ছে না। শুধু কাগজে-কলমে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান না বানিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করিয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলুক। এটাই আমাদের চাওয়া।

অফিস সহকারী হাফিজ আহমাদের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেয়া প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ওরফে আলম বলেন, আমি শিক্ষা কমিটির কিছু নই। কর্তৃপক্ষ যাকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাকে পদক দেয়ার জন্য মনোনীত করেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার বস আমাকে যেখানে দায়িত্ব পালন করতে বলবেন, সেখানেই আমি দায়িত্ব পালন করি।

শিক্ষা পদকের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করলে তিনি একটি কর্মশালায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি কাজী মো. কবির হোসেন বলেন, সারাদেশের শিক্ষা অফিসগুলোতে কর্মচারী সঙ্কট। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হয়রানী রোধে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা সহযোগিতা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘এখানে জয়েন্ট কয়েছি মাত্র তিনদিন হলো। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার আমাকে শিক্ষা পদকের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো’।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×