মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নির্বাচনকে ঘিরে চরম হুমকির মুখে সলিমুল্লাহ এতিমখানা

জুয়েল খন্দকার : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:৩১ এএম
নির্বাচনকে ঘিরে চরম হুমকির মুখে সলিমুল্লাহ এতিমখানা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পুরান ঢাকার তথা দেশের ঐতিহ্যবাহী এতিমদের প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার নির্বাচনকে ঘিরে নানাহ অভিযোগ উঠেছে। গঠনতন্ত্র না মেনে কোন সাধারন সভা ছাড়াই সদস্য গ্রহন ও আজীবন সদস্যদের বাতিল এর পায়তারা চলছে দ্বীর্ঘদিন যাবত। তবে এই নির্বাচন সফল হতে পারলেই যে আজীবন সদস্য যোগ্য ব্যক্তিদের পদ-পদবী কিছুই রাখবেনা বলে গঠনতন্ত্র ছাড়াই গড়া হচ্ছে পদপদবী দিয়ে এই নির্বাচন! গঠনতন্ত্রের বাহিরে সাক্ষর জালিয়াতি করে সদস্য গ্রহনসহ নানান অপকর্ম করে করে যাচ্ছেন কমিটির কিছু অসাধু সদস্যরা যা গঠনতন্ত্র ও রাষ্ট্র বিরুধীতা করে সরকারী কর্মকর্তাসহ বিএনপি ও জামায়াতের লোকদেরকে নিয়েও সাজানো হয়েছে এই নির্বাচন !

গঠনতন্ত্রে যদিও বলা হয়েছিলো স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার গঠনতন্ত্র মোতাবেক সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ থাকলেও তা মানা হয়নি! তাছাড়া গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-ঝ এর ধারা-১(গ) মোতাবেক নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সমাজসেবা অধিদপ্তরকে অবহিতকরণের কথা বলা থাকলেও কোন চিঠি দিয়ে তা অবহিত করা হয়নি। তাছাড়া গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-চ এর ধারা-৩ মোতাবেক কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনে সভাপতি পদে নবাব সলিমুল্লাহ বাহাদুরের জীবিত বংশধরদের জন্য উক্ত পদ সংরক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও জীবিত বংশধরদেরকে অবহিত না করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণ সদস্যদের অবহিতকরণের জন্য কোন ধরনের পত্র বা নোটিশ প্রদান করা হয়নি। এমনকি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার গঠনতন্ত্র মোতাবেক আজীবন সদস্য অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি।

তাছাড়া আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য অনেক সদস্য আবেদন করলেও তাদের আবেদন কোন ধরনের ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও বাতিল করা হয়েছে যা গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদের-ঙ(ধারা-১) স্পষ্ট লঙ্ঘন করা হয়েছে। এসব আবেদনকারী পরবর্তীতে আজীবন সদস্যপদ লাভের জন্য নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক গত ০৭/০৯/২০২২ থেকে ০৮/০৯/২০২২ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে কমিশন বরাবর আবেদন করলেও কমিশন তা খারিজ করে দেয়। তাছাড়া যেসব আজীবন ও সাধারণ সদস্য করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ সদস্যই সাক্ষর জালিয়াতি এবং ভুয়া সদস্য। এসব ভুয়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছে যেমন-রিক্সাচালক, কাপড় সেলাইকারী এবং জুতার দোকানের কর্মচারী। এমনকি সদস্যদের মধ্যে উপ-ভাড়াটিয়াসহ রয়েছে বাসের হেলপার । যেসকল আজীবন সদস্য করা হয়েছে তাদের কাউকে সরেজমিনে যাচাই না করে সদস্য করা হয়েছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিএনপি ও জামায়ত মন্থী রাজনীতি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং একাধিক “চলমান চাকরি জীবী” সরকারি কর্মকর্তা ও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ! সরকারি চাকরি চলাকালীন আদালতের উপপরিচালক পরিকল্পনা বিভাগে শহিদুল ইসলাম (স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার ১১২ নাম্বার সদস্য হয়েছে), সরকারি ভূমি মন্ত্রনালয়ের মিনিস্ট্রি ভবনের কর্মকতা জামাল উদ্দিন খাঁন যার বিরুদ্ধে একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে (স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার ১০২ নাম্বার সদস্য হয়েছে ), আরো অনেকেই রয়েছেন! সরকারি চাকরি চলাকালিন কোন নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও কোন সরকারি বিরোধী কাজ ও কোন মিডিয়া কর্মী হিসিবেও কোন কাজে জড়াতে পারবেনা যা কিনা রাস্ট্র বিরোধী কাজ !

শুধু তাই নহে পোস্তা পলাশীর বিএনপির নেতা মোঃ হানিফ (স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার ১১৩ নাম্বার সদস্য হয়েছে) যে কিনা নিয়মিত লেগুনা ও স্ট্যান্ডে চাঁদা বাজিতে সক্রিয় এখনও ! সাগর আহম্মেদ শাহিন (স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার ১০৭ নাম্বার সদস্য হয়েছেন) বকশিবাজার, চকবাজারের ছেলে যে কিনা ইন্ডিয়াতে গিয়েছেন গত ০৬/০৯/২০২২ তারিখে কিংন্তু আজ ২২/০৯/২০২২ তারিখেও দেশে ফিরেনি ! সে বিদেশে থেকেই মনোনায়ন সদস্য ফর্ম কিনে জমাও দিয়ে দিয়েছেন যা কিনা সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচনের পরিপন্থী কাজ হয়েছে ।

এতিমখানার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে উপরোক্ত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে নির্বাচন বাতিল করে আজীবন সদস্য অর্ন্তভুক্ত করে সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন না করে পরবর্তীতে নির্বাচন দিলে চরম হুমকির মুখে পরে যাবে স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানা বলে দাবী করছেন সংশ্লিষ্ট কমিটিবৃন্দ ও এলাকা বাসী। শুধু তাই নহে স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নির্বাচনীয় বিষয় গুলি নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এতিমদের প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক নির্বাচন বাতিল চেয়ে তিনি সমাজ সেবা অধিদ্প্তরের পরিচালক বরাবর আবেদনও করেছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেই আবেদনে কাউন্সিলর হাসিব নির্বাচন বাতিলে প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র ভঙ্গের অভিযোগ আনে।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×