কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক সামিউল আলম ‘নাকি রায় বাহাদুর’
রাজনৈতিক শিক্ষকদের ষড়যন্ত্রে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানের অবনতি
কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার মানের অবনতি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, কতিপয় রাজনৈতিক শিক্ষক তাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন। শিক্ষক সামিউল ও উত্তম কুমারকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রতিষ্ঠানটির
শিক্ষার্থী অভিভাবকগণ। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন শিক্ষক সামিউল ও উত্তম কুমার ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রচার সম্পাদক আখি আলম রকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এসএসসির ফরম ফিলাপ করতে দিচ্ছেন না। তারা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষক সামিউল আলম অভিভাবকদের হুমকি দিচ্ছেন ‘তিনি না কি রায় বাহাদুর’ তিনি যা বলেন তাই হবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ছাত্র আন্দোলনের নামে নাটক সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের উস্কে দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক আখি আলম রকি ও তার সহযোগী শিক্ষক সামিউল আলম ও উত্তম কুমার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাহমিদা মুস্তফা। তবে দিন যতই যাচ্ছে ততই বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুরো আন্দোলনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক সামিউল আলম, বশির আহমেদ, উত্তম কুমার তাদের ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্টুডেন্ট সেজে পরিচালনা করেন। এছাড়া শিক্ষক আঁখি আলম রকি ও তারেক রুবেল ছাত্র পেটাতে গুন্ডা ভাড়া করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের একাধিক শিক্ষক সময়মতো প্রতিষ্ঠানে আসেন না এবং শিক্ষার্থীদের টিউশন ও কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করেন। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সে জন্য তারা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠাকালান নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে জানা যায়, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের শিক্ষক সামিউল আলম সাবেক মেয়র ডা. তাহসিন বাহার সূচনার আস্থাভাজন ছিলেন। বিগত আওয়ামী সরকার আমলে বাহার কন্যার প্রভাব বিস্তার করতেন প্রতিষ্ঠানে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর মেয়র পদ থেকে অপসারিত ডা. তাহসিন বাহার সূচনা বিদেশ পালিয়ে গেলেও সামিউল আলম, উত্তম কুমার ও আখি আলম রকি’র এখনও প্রভাব রয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটিতে। স্থানীয়দের মতে, সামিউল আলম বিভিন্ন ব্যবসা ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং ভুক্তভোগীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বাহার কন্যা, যিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে ভারতে পালিয়ে গেছেন, তার অনুগত সামিউল আলম এখনো প্রতিষ্ঠানে তার প্রভাব বজায় রেখেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ছাত্র জনতার আন্দোলনে অর্থ যোগান দিয়ে ছাত্রদের বিপক্ষে কাজ করছেন এবং তার এই অদৃশ্য শক্তি কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
পতিত আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এ চার শিক্ষককে বরখাস্ত করে কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার আগের পরিবেশ ও মান ফিরিয়ে আনার জোড়ালো দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
















