সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কূটনৈতিকপাড়ায় ১০ ডিসেম্বর নিয়ে উত্তজনা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ২:৪১ পিএম
কূটনৈতিকপাড়ায় ১০ ডিসেম্বর নিয়ে উত্তজনা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকায় মহাসমাবেশ নিয়ে কূটনীতিকপাড়াতেও উত্তেজনা চলছে। কূটনীতিকপাড়া খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছে ১০ ডিসেম্বর কী হবে? রাজনীতির মাঠের উত্তেজনা ঢেউ এখন কূটনীতিকপাড়ায় আছড়ে পড়ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি ঢাকায় মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে যে গণ সমাবেশ কর্মসূচি বিএনপি পালন করছে তা সমাপ্ত হবে ১০ ডিসেম্বর। এই ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশে কি হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা চলছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জনগণের জান-মালের হেফাজত নষ্ট করার প্রচেষ্টা হলে বা জনজীবনে ভোগান্তি আনার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে। ১০ ডিসেম্বর কি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত হবে নাকি একটি শান্তিপূর্ণ মহা সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে- এ নিয়ে বিভিন্নমুখী আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক মহল গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে কথা বলছে, কাজ করছে। পর্দার আড়ালে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিকরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিছুদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারী সেক্রেটারি অব স্টেট আফরিন আক্তার বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনিও রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা বলেছেন। আগামী নির্বাচন যেন সকল দলের অংশগ্রহণে হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির তিন নেতার সঙ্গেও সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এবং সেখানেও রাজনীতিক সহাবস্থান এবং সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এখন কূটনীতিকপাড়া চোখ রাখছে ১০ ডিসেম্বরের দিকে। ১০ ডিসেম্বরের বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়ে কূটনীতিকদের পাঁচটি অভিপ্রায় এখন পর্যন্ত বোঝা গেছে। তারা প্রথমত, মনে করছে যে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার একটি সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার, এই অধিকার দিতে হবে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেন কোনো বাধা না দেওয়া হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বহু আগে থেকে কথা বলছে। ১০ ডিসেম্বরের দিকেও তারা দৃষ্টি দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো প্রত্যাশা করে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেন বাধা না দেয়া হয়।

দ্বিতীয়ত, কূটনীতিকরা আশা করছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন সহিংস হয়ে না ওঠে। বিএনপির সঙ্গে কূটনীতিকদের একাধিক বৈঠকে কূটনীতিকরা এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন যে, রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হতে হবে, সহিংস হওয়া যাবে না। কোনোভাবে জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাস ইত্যাদিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের মনোভাব কী সেটাও বোঝার চেষ্টা করছে কূটনীতিক মহল। ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে আওয়ামী লীগ কি করতে চায়, আওয়ামী লীগ কোন পাল্টা কর্মসূচি দেবে কিনা এবং রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরী হবে কিনা সেটি নিয়েও কূটনৈতিক মহল কথা বলছে। চতুর্থত, রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন অন্য খাতে প্রবাহিত না হয়ে যায়। কূটনৈতিক মহল আশা করছে যে ১০ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই রাজনৈতিক কর্মসূচির যেন অন্য খাতে প্রবাহিত না হয়। বিশেষত এই রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যদি হত্যা, সন্ত্রাস ইত্যাদি আবার বেড়ে ওঠে সেটি গণতন্ত্রের জন্য একটি অশুভ সঙ্কেত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

পঞ্চমত, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ। ১০ ডিসেম্বর এমন কোনো পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় যাতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবার জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটে। বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে দুই জঙ্গি পলায়নের পর কূটনৈতিক মহল বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে নুতন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। এবং কোন রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেন জঙ্গিবাদের উত্থান না ঘটায় সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখছে পশ্চিমা কূটনীতিক মহল। তারা আশা করছেন ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি হবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা এবং সংলাপের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচন নিয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং আগামী নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহণে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে সেই নির্বাচনে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×