শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জব্বারের বলী খেলায় এবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহ্জালাল বলী

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩, ৮:৩০ পিএম
জব্বারের বলী খেলায় এবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহ্জালাল বলী
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পেশী শক্তি আর নানা কলাকৌশলে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার চেষ্টা থাকে কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বলীদের। যে বা যারা এই দুটো বিষয়কে আয়ত্ত করতে পারেন, তারা সক্ষম হন ফাইনাল রাউন্ডের রিংয়ে আসতে। মাথায় মাথা ঠেকিয়ে ঝুঁকে কুস্তি প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে অন্যের নিশ্বাসের গতিবিধি দেখে কুপোকাত করার চেষ্টা তো আছেই। ঢাক-ঢোলের মহারণ বাদ্যে ঐতিহ্যবাহীর লালদীঘি ময়দানে এমন চিত্র ফের তিন বছর পর দেখতে পেল নগরবাসী।

বাহুবলে বলীয়ানরাও পেলেন লালদীঘির মাঠে ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলী খেলার আবেশ। এ জন্য উচ্ছ্বসিত সকলে। আর বাঁশির সুরের সঙ্গে জয়ঢাকের তালে কুস্তিগিররা নাচলেও কৌশল ও বাহুবলে শেষ হাসিটা হেসেছেন কুমিল্লার শাহ্জালাল, যিনি গতবারের রানার্সআপ।

আব্দুল জব্বারের বলী খেলার ১১৪তম আসরের চ্যাম্পিয়নের শিরোপা পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাহ্জালাল বারবার মঞ্চে লাফিয়ে তার জয় উদ্যাপন করছিলেন। তিনি বলেন, প্রতিবার আসি।

গতবারের মধুর প্রতিশোধ নিলাম এবার। এর আগে ১১০তম আসরে কুমিল্লার শাহ্জালাল জয়ী হয়েছিলেন।

লালদীঘি মাঠে বলী খেলা ফিরেছে তিন বছর পর। করোনায় দুই বছর খেলা ও মেলা হয়নি।

এরপর গত বছর মাঠটির সংস্কার কাজের জন্য সেখানে বলী খেলা করা যায়নি। ইতিহাস সংস্কৃতির ধারক-বাহক চট্টগ্রাম বিপ্লবতীর্থ হিসেবে পরিচিত। দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা চট্টগ্রাম বিভিন্ন কারণে ঐতিহাসিক। গর্ব ও অহংকার করার মতো সংস্কৃতি কৃষ্টি রয়েছে এখানে। যার ফলে ঈদের পর বৈশাখের তীব্র দাবদাহের মধ্যেও বলী খেলায় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। লালদীঘির ময়দানে স্থাপিত বলী খেলার রিংয়ে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী বলীরা একে অন্যকে কুপোকাত করছিলেন তখন চারদিকে জয়োল্লাসের ধ্বনি।

 

 

তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের ভ্রুক্ষেপ ছাড়াই হাজার হাজার দর্শনার্থীর চোখ ছিল লালদীঘির মাঠের অস্থায়ীভাবে নির্মিত বালুর মঞ্চের দিকে। বরাবরের মতো প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক, যদিও এবার তিনি অবসরে যাচ্ছেন। প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করলেও তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী রেফারি বলী খেলার ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ছিদ্দিক আহমেদ বলীসহ আরও দুজন।

মঞ্চে প্রথম রাউন্ডের খেলা শুরু যখন হয় তখন ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট। বাঁশি ও ঢোলের শব্দে লালদীঘি যেন একখ- স্টেডিয়াম। এবারের বলী খেলায় ১শ’ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও বাছাই করা হয় ৬০ জনকে। আর গতবার অংশ নিয়েছিলেন মোট ৭২ জন।

মঙ্গলবার বিকেলে বলী খেলার প্রথম রাউন্ড শুরু হলেও ৪টা ১৭ মিনিটে দু’জন বলী লড়তে লড়তে রিংয়ের বাইরে মাঠে পড়ে যান। তারা প্রায় ১৭ মিনিট যাবত একে অন্যকে কুপোকাত করার চেষ্টা করে। প্রথম রাউন্ডে লড়তে আসা অধিকাংশই মহেশখালীর বাসিন্দা। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত তারা কেউ আসতে পারেনি। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে শেষ হয় প্রথম রাউন্ড। এরপর বিচারকরা প্রথম রাউন্ড থেকে ৫ জনকে নির্বাচিত করেন। তারা হলেন রুবেল, সেলিম, মুসা, আমির হোসেন এবং আব্দুন নূর।
অপরদিকে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন তরিকুল ইসলাম জীবন, রানার আপ শাহ্জালাল এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী সৃজন চাকমাও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেন। দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হয় ৪টা ৫৮ মিনিটে। সেখান থেকে সেমিফাইনালে ওঠেন ৪ জন। তারা হলেন আনোয়ারার আবদুর নূর, কুমিল্লার শাহ্জালাল, খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমা ও চকরিয়ার জীবন বলী। সেমিফাইনালে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা লটারির মাধ্যমেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করেন। সেমিফাইনালে জীবন বলীর সঙ্গে লড়েন সৃজন চাকমা। আর শাহ্জালাল বলীর সঙ্গে লড়েন আব্দুর নূর। সেমিফাইনালে সৃজন ও জীবন বলীর কুস্তি চলে প্রায় ১২ মিনিট। দীর্ঘ সময় লড়াই করে সৃজনকে হারিয়ে প্রথমে ফাইনাল রাউন্ড নিশ্চিত করেন জীবন। অপরদিকে ২ মিনিটের মধ্যে আব্দুর নূরকে পরাস্ত করে শাহ্জালাল ফাইনাল নিশ্চিত করেন। এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে আব্দুর নূরকে হারিয়ে যথারীতি সৃজন চাকমা দ্বিতীয়বারের মতো তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
যথারীতি চূড়ান্ত পর্বে শাহ্জালালের সঙ্গে জীবনের দেখা এ পর্যন্ত তিনবার। গতবার ছাড়াও এর আগে ১১০তম আসরে তারা দুজন লড়েন ফাইনালে। মঙ্গলবার ফাইনাল রাউন্ডে তারা লড়েন প্রায় ২ মিনিট। মিষ্টি প্রতিশোধে জীবনকে কুপোকাত করে চ্যাম্পিয়ন হন কুমিল্লার শাহ্জালাল। এর আগে ১০৯তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন জীবন বলী। ১১০তম আসরে কুমিল্লার শাহ্জালাল জয়ী হলেও ১০৯তম আসরে কক্সবাজারের চকরিয়ার বাসিন্দা জীবনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তখন খেলায় অবৈধ কৌশল অবলম্বন করার অপরাধে রেফারি শাহ্জালালকে খেলার অযোগ্য করে জীবনকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন।

চট্টগ্রামের এই বলী খেলা বিখ্যাত ও ইতিহাসখ্যাত। বিশেষ করে বাংলাদেশে জব্বারের বলী খেলার নাম সব জেলার মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। কেউ বলী খেলাকে পছন্দ করেন বলে পরিচিত আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চেনে তিন দিনব্যাপী মেলার বিকিকিনির ব্যাপকতার জন্য। তাই জব্বারের বলী খেলা ও মেলার বিষয়টি জানেন না এবং শোনেনি এমন লোক পাওয়া কঠিন বিষয়। একুশে পদক (মরণোত্তর) পাওয়া ইতিহাসবিদ আবদুল হক চৌধুরী ‘বন্দর শহর’ বইটিতে চট্টগ্রামের ২২ মল্ল পরিবার যে ইতিহাস প্রসিদ্ধ এবং ঐতিহাসিক তাতে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। তাই বলী খেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বলীরা আসেন। চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক বলী আসেন এই ঐতিহাসিক খেলায় অংশ নিতে।

সেই শত বছর আগে বাংলা পঞ্জিকার ১৯০৯ সানের ১২ বৈশাখ, যার সূচনা করেন চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বদরপাতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর। ব্রিটিশবিরোধী আন্দেলনে দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে সংগঠিত করতে মূলত লালদীঘির মাঠেই এই কুস্তি/বলী খেলার প্রবর্তন করেন তিনি। পরে তা জব্বারের বলী খেলা নামেই পরিচিতি পায়।
মঙ্গলবার বিকেল তিনটার পরে বলী খেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তারা চ্যাম্পিয়ন শাহ্জালালের হাতে শিরোপাসহ নগদ ২৫ হাজার টাকা ও রানার্সআপ জীবনকে শিরোপাসহ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন।

এদিকে এর আগে বলী খেলায় অংশ নিতে দুপুর ১২টা থেকে বিভিন্ন জেলার বলীরা মেলা কমিটির কার্যালয়ে তাদের নাম এন্ট্রি করেন। বিকেলে ঘোষণা মঞ্চ থেকে বলা হয় ৬০ জন অংশ নিয়েছেন। তবে প্রাথমিক রাউন্ডগুলোতে সকলের উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও আগ্রহ ছিল ফাইনাল রাউন্ডের দিকে। দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে পরিচিত এই জব্বারের বলী খেলা ও মেলাটির বড় আকর্ষণ বলী খেলা। তাই দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার পরিজন নিয়েও অনেকে এসেছেন।
এদিকে বলী খেলার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বলী খেলা শুধু একটি খেলা নয়, এটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের যুব সমাজকে সংগঠিত করার উদ্যোগ। এটি আমাদের ঐতিহ্য। সকলের সহযোগিতায় এটি ধরে রাখতে হবে। গতবার খেলা হতো না, আমি উদ্যোগ নিয়েছি। এবারও আমি মেয়র হিসেবে চেষ্টা করছি বলী খেলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য। এ মেলায় সঙ্গে আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও এই খেলার সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।
সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, শতবর্ষ ধরে চট্টগ্রাম যে ইতিহাস লালন করছে ধরে রেখেছে তা বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিফলন। এটি অনুপ্রেরণা দেবে তরুণ সমাজকে। এমন সংস্কৃতি অটুট থাকুক। মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, সদস্য সচিব শওকত আনোয়ার বাদল এবং নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বলী খেলা উদ্যাপন পরিষদ এ নিয়ে ৩ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। সোমবার থেকে শুরু হয় বৈশাখী মেলা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো বলী খেলা। আজ হবে চাটগাঁইয়া ঈদ উৎসব।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×