দাউদকান্দিতে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
Oplus_131072
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের সরকারপুর গ্রামের খানবাড়ি এলাকায় মো. তোফায়েল আহমেদ (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তোফায়েল আহমেদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের অরণ্যপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। তাঁর মা বিলকিছ বেগম। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি গরু পালন করতেন। নিজ গ্রামের জমিতে মিষ্টি আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। তিনি দুই কন্যাসন্তানের বাবা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. মহসিন জানান, সকাল ৯টার দিকে তোফায়েলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তোফায়েলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।
নিহতের স্ত্রী মোসা. মোর্শেদা বেগম (৩৫) জানান, ভোররাতে তোফায়েল বাড়িতে ফেরেন। রাতে বাড়িতে না ফেরায় তিনি মোবাইল ফোনে স্বামীকে বকাঝকা করেছিলেন। ফজরের নামাজের পর তোফায়েল ঘরে ফেরেন। পরে সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে পাশের কক্ষে গিয়ে দরজা খুললে তিনি তোফায়েলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
মোর্শেদা বেগম জানান, তোফায়েলের দুটি বিয়ে ছিল। তাঁর আরেক স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকতেন এবং তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। দুই স্ত্রীই তোফায়েলের সঙ্গে সংসার করতেন। তবে তাঁর সঙ্গে তোফায়েলের বড় কোনো ঝগড়া বা বিরোধ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
মোর্শেদা বেগম বলেন, “হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা বলতে পারছি না। আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোবাসতাম। আমার দুই মেয়ে এখন কাকে বাবা ডাকবে?”
মোর্শেদা বেগম সরকারপুর গ্রামের খানবাড়ি এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তাঁর মা ঝরনা বেগম।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















