সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারে দেয়াল চাপায় মাদ্রাসা ছাত্র নিহতের ঘটনায় ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা 

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ পিএম
দেবীদ্বারে দেয়াল চাপায় মাদ্রাসা ছাত্র নিহতের ঘটনায় ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা 
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদ্রাসার ভেতরের একটি পার্টিশন দেয়াল ভাঙার কাজ করতে গিয়ে দেয়াল চাপায় সিফাত নামে (১১) বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর ব্রয়লার সংলগ্ন আব্দুল হাকিম খানের ৫ তলা ভবনে, হাফেজ মাওলানা আনিসুর রহমানের ভাড়ায় পরিচালিত ‘মাদ্রাসা কা-শিফুল উলুম’র নিচ তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিফাত উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়ন এলাকার বড়শালঘর (৩নং ওয়ার্ড) গ্রামের ব‍্যবসায়ী মাসুম আহমেদের ছেলে। সে ওই মাদ্রাসারই হেফজ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ওই ঘটনায় নিহত সিফাতের বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১৪ অপ্রিল) দেবীদ্বার থানায় পরিচালক হাফেজ মাওলানা আনিসুর রহমান, হাফেজ মাওলানা আজিজুর রহমান এবং হাফেজ মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমানকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা আনিসুর রহমানসহ ৩ শিক্ষকই পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মাদ্রাসা কা-শিফুল উলুম’র ভেতরে একটি পার্টিশান (পুরাতন) দেয়াল মিস্ত্রীদের সঙ্গে ছাত্রদের দিয়ে নিচের অংশে পিটিয়ে ভাঙার সময় হঠাৎ দেয়ালটি ওই শিক্ষার্থীর ওপর পড়ে মাথার মগজ বেড়িয়ে মারাত্মক আহত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পেশাদার শ্রমিক নিয়োগ না করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাচ্ছিল। কাজ চলাকালীন দেয়ালের একটি বড় অংশ আচমকা সিফাতের গায়ের ওপর ধসে পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইদুল ও রায়হান জানায়, এই মাদ্রাসার ১১৪ জন শিক্ষার্থী আছে। এদের মধ‍্যে আমরা ১৮ জন হোস্টেলে থাকি। এবং ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে ওই ভবনের একজন ভাড়াটিয়া জানান, গত ৪ দিন যাবত মাদ্রাসার হোষ্টেলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ইট আনা নেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করাচ্ছিল। যা মাদ্রাসার সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ দেখলেই প্রমান মিলবে।
প্রত‍্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন জানান, দেয়াল চাপা থেকে উদ্ধার করে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসার সুযোগ পেত, কিন্তু আনিস হুজুর আহত শিক্ষার্থীকে ফেলে রেখে, মেঝের রক্ত পরিস্কারে ব‍্যস্ত ছিলেন। এ সময় শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণে মারা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ বলেন, এটা দূর্ঘটনা নয়, এটা হত‍্যা, এর তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করছি। তিনি আরো বলেন, এ এলাকায় মাত্র ৫ শত গজের মধ‍্যে ১৫টি মাদ্রাসা অধিকাংশ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বলৎকার, ছাত্রী ধর্ষণ, ছাত্রদের দিয়ে শিক্ষকদের কাপড় ধোয়া, মাদ্রাসার বিভিন্ন কাজ করানো, কালেকশন (ভিক্ষাবৃত্তি) এবং সরকারী অনুদান নেয়ার অভিয়োগ রয়েছে। পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার এক পরিচালক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে জেলও খেটেছেন। এসব মাদ্রাসার কোন নিরাপত্তা, নীতিমালা বা শৃংখলার নিয়ন্ত্রনে নেই।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন, ওসি মো. মনিরুজ্জামান, ওসি তদন্ত ইমাম হাসানসহ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং হোস্টেলে আটকেপড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে আতঙ্কিত অভিভাবকদের হাতে তুলে দেন। এসময় পুলিশ ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাসীও চালান। তবে পুলিশ আসার পূর্বে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই মাদ্রাসা ভাঙ্গার প্রস্তুতি নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি।
এ ব‍্যাপারে দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মাসুম বাদী হয়ে, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অব‍্যবস্থাপনায় তার ছেলে নিহত হওয়ার অভিযোগ এনে ৩ শিক্ষককে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। আমরা আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব‍্যাহত রেখেছি।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×