সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : জামায়াত ও ছাত্রনেতাদের উত্থান

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৩৬ এএম
বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : জামায়াত ও ছাত্রনেতাদের উত্থান
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে অনেকটাই ফাঁকা মাঠ পেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ক্রমেই রাজনীতির মাঠের দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী। দলটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কয়েকটি পরিচিত ইসলামপন্থি দল। এ ছাড়া ঘোষণা দিয়েই ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক দল সামনে নিয়ে আসছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সবমিলিয়ে ক্রমেই বিরোধী পাল্লা ভারী হচ্ছে বিএনপির সামনে। আপাতত দলগুলোর তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামনের নির্বাচন নিয়ে যেই আভাস দিচ্ছেন সেটিই স্পষ্ট হচ্ছে দিন দিন। নেতাকর্মীদের বারবারই সতর্ক করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আগামীর নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের থেকে অনেক অনেক কঠিন হবে। আপনাদের একশ পার্সেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি; আপনারা কেউ ভাবতে পারেন, এখানে তো প্রধান প্রতিপক্ষ নেই কিংবা দুর্বল প্রতিপক্ষ, সুতরাং নির্বাচন খুব সহজ হবে। নো, নো অ্যান্ড নো। এ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচন থেকে অনেক অনেক কঠিন হবে। ইতিমধ্যে সেই আলামত দেখা যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির সঙ্গে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাওয়া জামায়াতে ইসলামী দুদিন আগে বৈঠক করেছে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে। দল দুটির শীর্ষ নেতা আলোচনা করেছেন কীভাবে ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। যা নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে পারে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের এই বৈঠক রাজনীতির মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এটি ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হোক এটি জনগণ চাচ্ছে। তাদের মধ্যে ইসলামী ঐক্য নিয়ে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সে জন্য সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা চলছে। আদর্শগত কিছু তফাৎ থাকলেও আমরা নীতিগত জায়গায় এক ছাতার নিচে আসার চেষ্টা করছি। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হলে ঐক্য একটি শেইপ (কাঠামো) নেবে। কে কীভাবে নির্বাচন করবে, জোটগত বিষয়, এসব সময় হলে স্পষ্ট হবে।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা কোনো জোটে বিশ্বাসী নই। বাংলাদেশে জোটের ইতিহাস ভালো নয়। জোট হলে একটি দলকে প্রধান করতে হয়। এ জন্য আমরা ইসলামী জোটের বদলে নির্বাচনি সমঝোতা চাই। এক আসনে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে।

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে গুরুত্ব না দিলেও ভেতরে ভেতরে ভাবনা বাড়াচ্ছে বিএনপির। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মাঠে জামায়াত এখন আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে যাচ্ছে। এখন তারা হাত পাখাকেও (ইসলামী আন্দোলন) সঙ্গে নিচ্ছে। জামায়াত নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে এখনও কিছু বলছি না। কিছুটা বলার চেষ্টা করছে রুহুল কবির রিজভী (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)। ছাত্রনেতাদের ও জামায়াতের বক্তব্য মিলে যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য শুনলেই বোঝা যাচ্ছে তারা কী চায়। দেখা যাক সামনে বাতাস কোনদিকে মোড় নেয়।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বাইরে ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে ছয়টি দলের একটি জোট আছে। এই জোটের শরিক দলগুলো হচ্ছে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক), মুসলিম লীগ (আবুল খায়ের), খেলাফত মজলিস (আহমদ আবদুল কাদের), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। অবশ্য ইসলামী ঐক্য আন্দোলন-নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। আর খেলাফত আন্দোলন জোটের অবস্থানের বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের অধীন ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।

ইসলামী জোটের ঐক্যে থাকা খেলাফত মজলিস দুদিন আগে বৈঠক করেছে বিএনপির সঙ্গে। খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল বলেন, ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে জামায়াত ইসলামী এবং ইসলামী দলসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। শুধু নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের ঐক্য হবে। আমাদের পরিকল্পনা সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া। প্রতি সংসদীয় আসনে একজন এমপি প্রার্থী থাকবে ইসলামী জোটের। এমন সমঝোতার ভিত্তির ঐক্য হচ্ছে।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। এতে ঐক্যের ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয়টি যাতে কমিয়ে আনা যায় সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছি বিএনপিকে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জামায়াতের সঙ্গেও বসব। বলা যায় আমরা মধ্যবর্তী ভূমিকায় তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। বিএনপির সঙ্গে জোট হচ্ছে কি না জবাবে খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, বিষয়টি এ রকম নয়। আমরা বিএনপির সঙ্গে আগেও ৪ দলীয় ও ২০ দলীয় জোটে ছিলাম।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি পেছন থেকে কাজ করছে। আরও পরে বোঝা যাবে ছাত্রনেতারা ও জামায়াত কী করতে চায়। ইসলামী আন্দোলন ১৭ বছর কী করেছে? তাদের শীর্ষ নেতা সবশেষ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন করছে। তারা সরকারের সুবিধা নিচ্ছে। অন্য ইসলামী দলগুলোর একই অবস্থা। তাই এদের দৌড় বুঝতে হলে সময় নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি অনেক বড় দল। ইসলামী দলগুলোর অনেক প্রত্যাশা আছে। সব পূরণ করা সম্ভব নয় বিএনপির।

ইসলামপন্থি একটি দলের নেতা সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি একসময় ভূরাজনৈতিক স্বার্থে মনে করেছে জামায়াতের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব রাখা দরকার। তখন তারা এড়িয়ে চলেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনকে অতি গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতকে দূরে ঠেলে দেয়। মূলত তখন থেকেই জামায়াত-বিএনপির সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, নির্বাচনে সবাই-ই চায় ভালো রেজাল্ট করতে। যেভাবে ভালো রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব জামায়াত সেভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে। এ জন্যই আমরা সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছি। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ সমমনা সব দলের সঙ্গে জামায়াতের আলাপ-আলোচনা চলছে। হেফাজতের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় না বসলেও তাদের নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপিই ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট নেই। আমরা তো কিছু বলিনি।

সরাসরি রাজনৈতিক দল না হলেও ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের নায়েবে আমির মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, আমরা অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক কিংবা নির্বাচনি জোটে যেতে পারি না। তবে আমাদের সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃত্বে আছেন। তারা জোট করতে পারেন। হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, জামায়াতে ইসলামী বড় দল। জামায়াতের সঙ্গে হেফাজতের আকিদাগত পার্থক্য রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও আশা করছি সবাইকে নিয়েই ঐক্য হবে। ইসলামী দলগুলোর ঐক্য এখন সময়ের দাবি।

এদিকে ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রনেতারা নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে সামনে আসছেন। তাদের প্রস্তুতিও প্রায় শেষদিকে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সম্প্রতি তাদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করছে কাদের ইঙ্গিতে তা এখনো স্পষ্ট না।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় পরনে কোনো কাপড় না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

 

ঝোপের নিচে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার

 

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আয়েশার পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল; কিন্তু উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। এই পার্থক্য নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

চিকিৎসক পুলিশকে জানালেও ময়নাতদন্ত হলো না কেন?

 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় তিনি বিষয়টি হোমনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

তবে এরপরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

 

এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা চিকিৎসক পুলিশকে জানানোর পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হলো না কেন?

 

আরও প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে তার পরনে পোশাক না থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়গুলো পুলিশ কীভাবে মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই লাশ দাফন করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কতটা সহজ হবে, সেটিও এখন আলোচনায়।

 

পরিবারের অভিযোগ নেই, তাই কি তদন্তের প্রয়োজন নেই?

 

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মেয়েকে ফেলে রেখেছে, তা তিনি জানেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তবে শিশুটির কাকা দাবি করেন, আয়েশাকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পরিবারের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিল কি না।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

 

আয়েশার মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×