শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : জামায়াত ও ছাত্রনেতাদের উত্থান

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৩৬ এএম
বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : জামায়াত ও ছাত্রনেতাদের উত্থান
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে অনেকটাই ফাঁকা মাঠ পেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ক্রমেই রাজনীতির মাঠের দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী। দলটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কয়েকটি পরিচিত ইসলামপন্থি দল। এ ছাড়া ঘোষণা দিয়েই ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক দল সামনে নিয়ে আসছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সবমিলিয়ে ক্রমেই বিরোধী পাল্লা ভারী হচ্ছে বিএনপির সামনে। আপাতত দলগুলোর তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামনের নির্বাচন নিয়ে যেই আভাস দিচ্ছেন সেটিই স্পষ্ট হচ্ছে দিন দিন। নেতাকর্মীদের বারবারই সতর্ক করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আগামীর নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের থেকে অনেক অনেক কঠিন হবে। আপনাদের একশ পার্সেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি; আপনারা কেউ ভাবতে পারেন, এখানে তো প্রধান প্রতিপক্ষ নেই কিংবা দুর্বল প্রতিপক্ষ, সুতরাং নির্বাচন খুব সহজ হবে। নো, নো অ্যান্ড নো। এ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচন থেকে অনেক অনেক কঠিন হবে। ইতিমধ্যে সেই আলামত দেখা যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির সঙ্গে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাওয়া জামায়াতে ইসলামী দুদিন আগে বৈঠক করেছে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে। দল দুটির শীর্ষ নেতা আলোচনা করেছেন কীভাবে ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। যা নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে পারে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের এই বৈঠক রাজনীতির মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এটি ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হোক এটি জনগণ চাচ্ছে। তাদের মধ্যে ইসলামী ঐক্য নিয়ে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সে জন্য সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা চলছে। আদর্শগত কিছু তফাৎ থাকলেও আমরা নীতিগত জায়গায় এক ছাতার নিচে আসার চেষ্টা করছি। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হলে ঐক্য একটি শেইপ (কাঠামো) নেবে। কে কীভাবে নির্বাচন করবে, জোটগত বিষয়, এসব সময় হলে স্পষ্ট হবে।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা কোনো জোটে বিশ্বাসী নই। বাংলাদেশে জোটের ইতিহাস ভালো নয়। জোট হলে একটি দলকে প্রধান করতে হয়। এ জন্য আমরা ইসলামী জোটের বদলে নির্বাচনি সমঝোতা চাই। এক আসনে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে।

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে গুরুত্ব না দিলেও ভেতরে ভেতরে ভাবনা বাড়াচ্ছে বিএনপির। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মাঠে জামায়াত এখন আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে যাচ্ছে। এখন তারা হাত পাখাকেও (ইসলামী আন্দোলন) সঙ্গে নিচ্ছে। জামায়াত নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে এখনও কিছু বলছি না। কিছুটা বলার চেষ্টা করছে রুহুল কবির রিজভী (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)। ছাত্রনেতাদের ও জামায়াতের বক্তব্য মিলে যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য শুনলেই বোঝা যাচ্ছে তারা কী চায়। দেখা যাক সামনে বাতাস কোনদিকে মোড় নেয়।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বাইরে ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে ছয়টি দলের একটি জোট আছে। এই জোটের শরিক দলগুলো হচ্ছে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক), মুসলিম লীগ (আবুল খায়ের), খেলাফত মজলিস (আহমদ আবদুল কাদের), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। অবশ্য ইসলামী ঐক্য আন্দোলন-নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। আর খেলাফত আন্দোলন জোটের অবস্থানের বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের অধীন ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।

ইসলামী জোটের ঐক্যে থাকা খেলাফত মজলিস দুদিন আগে বৈঠক করেছে বিএনপির সঙ্গে। খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল বলেন, ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে জামায়াত ইসলামী এবং ইসলামী দলসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। শুধু নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের ঐক্য হবে। আমাদের পরিকল্পনা সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া। প্রতি সংসদীয় আসনে একজন এমপি প্রার্থী থাকবে ইসলামী জোটের। এমন সমঝোতার ভিত্তির ঐক্য হচ্ছে।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। এতে ঐক্যের ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয়টি যাতে কমিয়ে আনা যায় সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছি বিএনপিকে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জামায়াতের সঙ্গেও বসব। বলা যায় আমরা মধ্যবর্তী ভূমিকায় তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। বিএনপির সঙ্গে জোট হচ্ছে কি না জবাবে খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, বিষয়টি এ রকম নয়। আমরা বিএনপির সঙ্গে আগেও ৪ দলীয় ও ২০ দলীয় জোটে ছিলাম।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি পেছন থেকে কাজ করছে। আরও পরে বোঝা যাবে ছাত্রনেতারা ও জামায়াত কী করতে চায়। ইসলামী আন্দোলন ১৭ বছর কী করেছে? তাদের শীর্ষ নেতা সবশেষ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন করছে। তারা সরকারের সুবিধা নিচ্ছে। অন্য ইসলামী দলগুলোর একই অবস্থা। তাই এদের দৌড় বুঝতে হলে সময় নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি অনেক বড় দল। ইসলামী দলগুলোর অনেক প্রত্যাশা আছে। সব পূরণ করা সম্ভব নয় বিএনপির।

ইসলামপন্থি একটি দলের নেতা সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি একসময় ভূরাজনৈতিক স্বার্থে মনে করেছে জামায়াতের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব রাখা দরকার। তখন তারা এড়িয়ে চলেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনকে অতি গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতকে দূরে ঠেলে দেয়। মূলত তখন থেকেই জামায়াত-বিএনপির সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, নির্বাচনে সবাই-ই চায় ভালো রেজাল্ট করতে। যেভাবে ভালো রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব জামায়াত সেভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে। এ জন্যই আমরা সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছি। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ সমমনা সব দলের সঙ্গে জামায়াতের আলাপ-আলোচনা চলছে। হেফাজতের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় না বসলেও তাদের নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপিই ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট নেই। আমরা তো কিছু বলিনি।

সরাসরি রাজনৈতিক দল না হলেও ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের নায়েবে আমির মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, আমরা অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক কিংবা নির্বাচনি জোটে যেতে পারি না। তবে আমাদের সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃত্বে আছেন। তারা জোট করতে পারেন। হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, জামায়াতে ইসলামী বড় দল। জামায়াতের সঙ্গে হেফাজতের আকিদাগত পার্থক্য রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও আশা করছি সবাইকে নিয়েই ঐক্য হবে। ইসলামী দলগুলোর ঐক্য এখন সময়ের দাবি।

এদিকে ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রনেতারা নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে সামনে আসছেন। তাদের প্রস্তুতিও প্রায় শেষদিকে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সম্প্রতি তাদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করছে কাদের ইঙ্গিতে তা এখনো স্পষ্ট না।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×