বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

রাজধানী শ্যামলীর বরপুত্র-চৌদ্দগ্রামের শাহ আলম খোকন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম
রাজধানী শ্যামলীর বরপুত্র-চৌদ্দগ্রামের শাহ আলম খোকন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষের নাম অমলিন হয়ে থাকে, যাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও নিজেদের কর্ম, সততা এবং মানবিকতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে নিতে সক্ষম হন। তাঁরা কখনো উচ্চকণ্ঠী নন, বরং তাঁদের শক্তি নিহিত থাকে নীরব অধ্যবসায়ে, সমাজের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতায় এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধে এবং অকৃত্রিম ভালোবাসায়। তেমনই এক প্রেরণাময়ী, মানবদরদী গুণী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ শাহ আলম খোকন। তিনি একজন সফল সংগঠক। যাঁর জীবন ও কর্ম প্রতিটি সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আজীবন।

মোহাম্মদ শাহআলম খোকন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কনকাপৈত গ্রামের উত্তরপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুর রহমান এবং মাতা আফিয়া রহমান। তাঁদের আদর-¯েœহ, ভালোবাসা-শাসন ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে উঠে তাঁর শৈশব-কৈশোর। পিতার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, দেশের জন্য ত্যাগ ও অতুল দেশপ্রেম তাঁর চেতনায় গভীরভাবে দাগ কেটেছে। যা পরবর্তীকালে তাঁর জীবনদর্শন ও কর্মপন্থাকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছে। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকেই তিনি শিখেছেন নিজের জন্য নয়, বরং মানুষের জন্য বাঁচার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত অর্থ নিহিত।

শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী, তুখোড় মেধাবী এবং লক্ষ্যে অবিচল শিক্ষার্থী। বাড়ীর পাশের কনকাপৈত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি তাঁর মেধার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে ১৯৯৫ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। একই কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি তাঁর শিক্ষা-ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বাস্তবজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধও আয়ত্ব করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকার শ্যামলী এলাকায় অর্থ অ্যাপ্লায়েন্স নামীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পেশাগত জীবনের শুভ সূচনা করেন। কর্মক্ষেত্রে তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং কর্মদক্ষতা দ্রæতই তাঁকে আলাদা করে তোলে। ধাপে ধাপে তিনি নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ একটি বৃহত্তর পরিসরে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। তাঁর মধ্যে ছিলো নতুন কিছু করার অদম্য সাহস এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণের দৃঢ়তা। যা তাঁকে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে গেছে সফলতার দিকে। বিশেষ করে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট খাতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ গ্রহণ করেন তিনি। তিনি সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

২০১২ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি ম্যানুফ্যাকচারিং মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট ইমপ্ল্যান্টস এন্ড ইন্সট্রুমেন্ট স্থাপনে তাঁর অবদান ছিলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত করেছিলো। যারফলে দেশীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পথ আরও সুগম হয়। তাঁর এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আজও চিকিৎসা খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং অনুকরণীয় হয়ে আছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনেও তাঁর সক্রিয়তা ও আদর্শিক অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ছাত্ররাজনীতির করার মাধ্যমে তাঁর সুনিপুন নেতৃত্বের মধ্যদিয়ে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময় তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে নানান প্রতিকূলতা। একাধিকবার কারাবরণ এবং প্রায় ডজন খানেক রাজনৈনিক মামলার আসামী হয়েও তিনি তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দমে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়েছেন আরও বহুদূর। তিনি প্রমাণ করেছেন আদর্শে অবিচল থাকলে প্রতিকূলতাও একসময় শক্তিতে রূপ নেয়।

তবে, তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি একজন হাল না ছাড়া মানবদরদী সংগঠক। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহায়তা করা, বিপদে-আপদে মানুষের জন্য এগিয়ে আসা, এসব কাজ তিনি নিঃস্বার্থভাবে করে গেছেন নীরবে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার মানবিকতায়, সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতায়। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন নানা সামাজিক কর্মকান্ডে। যেখানে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণই প্রধান লক্ষ্য। প্রচারবিমুখতা তাঁর চরিত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। তিনি কখনো নিজের কাজকে প্রচারের আলোয় আনতে চান না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, ভালো কাজ নিজেই তার পরিচয় বহন করে। এই কারণে অনেক সময় তাঁর অবদান আড়ালে থেকে গেলেও, যারা তাঁর কাজের সঙ্গে পরিচিত, তাঁদের কাছে তিনি এখনো বেশ শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় পাত্র। ব্যক্তিজীবনে তিনি বেশ বিনয়ী, সংযমী এবং ন্যায়নিষ্ঠাবান। মানুষের সঙ্গে করা তাঁর আচরণে রয়েছে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ, যা সহজেই মানুষকে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করে। একজন সংগঠক হিসেবে তিনি যেমন দৃঢ়চেতা, তেমনি একজন মানুষ হিসেবেও তিনি অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল। এই গুণগুলোই তাঁকে করে তুলেছে অনন্য-অসাধারণ।

বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তি স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক দায়িত্বকে আড়াল করে দেয়, তখন মোহাম্মদ শাহ আলম খোকনের মতো মানুষ আমাদের সামনে রাখেন অনন্য উদাহরণ। তিনি দেখিয়েছেন, নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব; সাফল্য মানে শুধু অর্জন নয়, বরং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। শত বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি থেমে থাকেননি। প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি মোকাবেলা করেছেন সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে, এবং ছুটেছেন আপন লক্ষ্যপানে। তাঁর এই নীরব, কিন্তু দৃঢ় পথচলা আজকের এবং আগামীর প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান শিক্ষা।

মোহাম্মদ শাহ আলম খোকনের জীবন এক কথায় একটি চলমান প্রেরণার গল্প। যেখানে আছে সংগ্রাম, আছে সাফল্য আর ত্যাগ। সর্বোপরি আছে মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে, তাঁর এই আলোকিত পথচলা আগামী দিনগুলোতেও সমাজকে আলোর পথ দেখাবে। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং মানবিকতার আলো আরও বিস্তৃত করবে। তারা চায়, শাহ আলম খোকন প্রতিটি প্রদক্ষেপ সমৃদ্ধি আর সফলতায় ভরে উঠুক। সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াতের মাধ্যমে নিরলস সেবা করে যাক সাধারণ মানুষের।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×