বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সিজারের পর পেটে গজ, নার্স বীথির মৃত্যু; ৫৫ হাজার টাকায় ‘মামলা না করার’ চুক্তি!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
সিজারের পর পেটে গজ, নার্স বীথির মৃত্যু; ৫৫ হাজার টাকায় ‘মামলা না করার’ চুক্তি!

Oplus_131072

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগের পর মারা গেছেন নার্সিং শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থী নার্স বীথি আক্তার। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘মামলা না করার শর্তে’ তাঁর স্বামীকে ৫৫ হাজার টাকা দেওয়ার একটি চুক্তিপত্রের তথ্য সামনে এসেছে। তবে এ অর্থ দেওয়ার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি। বীথির চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

সিজারের পর থেকেই অসুস্থতা

 

গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথি আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডা. তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু যুক্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ওই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বীথি।

অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্বামীর বাড়িতে চলে যান তিনি। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও নানা জটিলতা দেখা দিতে থাকে। একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও গুরুতর কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে প্রায় দেড় মাস পর দুটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই দফায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। পরিবারের দাবি, ওই পরীক্ষায় বীথির পেটের ভেতরে গজ কাপড় থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

 

দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে বের করা হয় গজ

 

গত ১২ জুলাই বীথিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর, ১৫ জুলাই সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হক শোভন ও সঞ্জয় সাহা তাঁর দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় পেটের ভেতর থেকে গজ কাপড় বের করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তত দিনে পেটের ভেতরের নাড়িতে পচন ও সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। ২২ জুলাই তাঁকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আবারও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ অক্টোবর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান বীথি।

 

মৃত্যুর পর সামনে এল ৫৫ হাজার টাকার চুক্তিপত্র

 

বীথির মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি লিখিত চুক্তিপত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা ওই চুক্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে ভবিষ্যতে রোগীর পরিবার কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবে না বা আর্থিক দাবি করবে না—এমন শর্ত উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। নথিতে বীথির স্বামী রাকিবুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, ওই সময় তাঁর কাছে মাত্র ২০ হাজার টাকা ছিল। হাসপাতালের বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ে তিনি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলে জানান। পরিবারের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সে সময় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য।

তবে চুক্তিপত্রে ৫৫ হাজার টাকার উল্লেখ থাকলেও রাকিবুলের বক্তব্যে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের কথা এসেছে। অর্থের পরিমাণের এই পার্থক্য এবং চুক্তির পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

 

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টাকা দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে বিষয়টি শুনেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বীথির চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি, ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন

 

বীথির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক। সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

বাঁচার আকুতি জানিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

 

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা বীথি গত ২ অক্টোবর বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর দিন দুপুরে বীথির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

বীথি আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাট জ্যোতিনবর্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন।

একটি অস্ত্রোপচারের পর শুরু হওয়া অসুস্থতা, পরবর্তী চিকিৎসা, সংক্রমণ ও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি এখন সামনে এসেছে আর্থিক সমঝোতার প্রশ্নও। তবে চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছিল কি না এবং অর্থের বিনিময়ে কোনো আইনি দাবি থেকে বিরত থাকার চুক্তি কী পরিস্থিতিতে করা হয়েছিল, তা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

চৌদ্দগ্রামে ২২টি পূজা মন্ডপে ১৩ হাজার ২শ’ কেজি চাল বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ২২টি পূজা মন্ডপে ১৩ হাজার ২শ’ কেজি চাল বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২২টি পূজা মণ্ডপের অনুকূলে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ২শ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর অর্থায়নে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সকল পূজা মন্ডপের সভাপতিদের মাঝে অনুদানের এ চাল বিতরণ করা হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা সভাপতি জিএম তাহের পলাশী।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার তাহমিদ শাকিল, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী, সেক্রেটারি মাস্টার অনীল চন্দ্র দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক বলরাম কর্মকার সহ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দ।

সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের শিশুকে যৌ*ন নির্যাতনের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষক কা*রা*গা*রে

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের শিশুকে যৌ*ন নির্যাতনের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষক কা*রা*গা*রে

Oplus_131072

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মোশাহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

গ্রেপ্তার মোশাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার বড়াইল গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি মসলন্দপুর দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসার ভেতরে ওই শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোশাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রোববার বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়রা রোববার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, শিশুটির মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দেবীদ্বারে ১৫ বছর পর দিনমজুর হ*ত্যা মামলায় আরেক দিনমজুরের যা*ব*জ্জী*ব*ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
দেবীদ্বারে ১৫ বছর পর দিনমজুর হ*ত্যা মামলায় আরেক দিনমজুরের যা*ব*জ্জী*ব*ন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনমজুর মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় আব্দুল মজিদ নামে অপর এক দিনমজুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। নিহত মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের সেকান্দর বাদশার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে কৃষিকাজের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের চুক্তিতে মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মজিদকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন দেবীদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল।

এর তিন দিন পর, ২১ নভেম্বর সকালে মোশাররফ ও মজিদ দুটি কোদাল নিয়ে নবীয়াবাদ বিলের একটি টমেটোখেতে কাজ করতে যান। পরে মোস্তফা কামাল লোকমুখে জানতে পারেন, মোশাররফের মাথা ও মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ তাঁর মরদেহ পড়ে রয়েছে। ওই সময় ঘটনাস্থলে আব্দুল মজিদকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবু জাহের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে বিচারার্থে পাঠানো হয় এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। পরে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা মুক্তি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম (স্বপ্না)।

×